ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২০০ বার পড়া হয়েছে

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর চিকিৎসা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, ব্যবহৃত একটি ওষুধ কার্যত ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করে খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিল? আমার উত্তর হচ্ছে, ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধটি তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে দ্রুত লিভার সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই ওষুধ তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।”

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯-এর জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পান, তিনি ইতোমধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, আগের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের চিকিৎসায় তাকে নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট দেওয়া হচ্ছিল, যা হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেও চালু ছিল। “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ওষুধ বন্ধ করে দিই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া একই সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। এ অবস্থায় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরও তৎকালীন সরকার-নিযুক্ত চিকিৎসকরা একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি, এমনকি ক্ষতিকর ওষুধটিও বন্ধ করেননি, যা ছিল মারাত্মক অবহেলা।

ডা. সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, এই অবহেলা ছিল ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, যা খালেদা জিয়ার লিভারের দ্রুত অবনতির জন্য সরাসরি দায়ী। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে রয়েছে।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে আইনগত অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে ডা. সিদ্দিকী তিনটি বিষয় স্পষ্ট করার আহ্বান জানান—কারা সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ছিলেন ও তাদের যোগ্যতা কী ছিল; চিকিৎসাকালে কোন কোন চিকিৎসক সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং সেখানে অবহেলার প্রমাণ আছে কি না; এবং কেন বেগম খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চিকিৎসা দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বা কারা এতে বাধা দিয়েছিল।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবিও জানান।

শেষে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে। কারণ ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাবন্দি অবস্থায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ইচ্ছাকৃত গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁর চিকিৎসা দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, ব্যবহৃত একটি ওষুধ কার্যত ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করে খালেদা জিয়াকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করেন, ম্যাডামকে কি স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিল? আমার উত্তর হচ্ছে, ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধটি তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে দ্রুত লিভার সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। এই ওষুধ তার লিভারের জন্য ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করেছে।”

তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯-এর জটিলতা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সে সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকরা বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পান, তিনি ইতোমধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, আগের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের চিকিৎসায় তাকে নিয়মিত মেথোট্রেক্সেট দেওয়া হচ্ছিল, যা হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেও চালু ছিল। “আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ওষুধ বন্ধ করে দিই,” বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়া একই সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত ছিলেন। এ অবস্থায় নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট ও প্রয়োজন অনুযায়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম করা ছিল অত্যাবশ্যক। কিন্তু লিভার ফাংশন টেস্ট খারাপ আসার পরও তৎকালীন সরকার-নিযুক্ত চিকিৎসকরা একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি, এমনকি ক্ষতিকর ওষুধটিও বন্ধ করেননি, যা ছিল মারাত্মক অবহেলা।

ডা. সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, এই অবহেলা ছিল ‘উইলফুল নেগলিজেন্স’ বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, যা খালেদা জিয়ার লিভারের দ্রুত অবনতির জন্য সরাসরি দায়ী। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ। এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, বলেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসাতেও অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিকেল বোর্ডের কাছে রয়েছে।

ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে আইনগত অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে ডা. সিদ্দিকী তিনটি বিষয় স্পষ্ট করার আহ্বান জানান—কারা সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ছিলেন ও তাদের যোগ্যতা কী ছিল; চিকিৎসাকালে কোন কোন চিকিৎসক সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং সেখানে অবহেলার প্রমাণ আছে কি না; এবং কেন বেগম খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের চিকিৎসা দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি বা কারা এতে বাধা দিয়েছিল।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবিও জানান।

শেষে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সরকার ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে। কারণ ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া।