ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে

কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর আড্ডা

ঋদি হক
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর গল্প

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একটু আগেও হলরুমের প্রতিটি টেবিল কানায় কানায় ভরা ছিল। ইফতারের পর একে একে সবাই চলে গেছে। কোলাহলমুখর সেই ঘরটি এখন যেন শিউলীর ঢেউ খেলানো চুলের মতো শান্ত, স্থির। বাইরে রাস্তা এখনো পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। মাঝেমধ্যে দু-একটি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। নিম্নমানের মোটরের ক্যাচ-ক্যাচ শব্দ ভেসে আসছে নীরবতার ভেতর দিয়ে।

ইফতার শেষে গল্প যেন তিন বন্ধুকে আরেক দিগন্তের দিকে টেনে নিয়ে যায়। নরম আলোয় শিউলীর মুখ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। বাইরে সন্ধ্যার ধূসরতা ধীরে ধীরে শহরটাকে ঢেকে ফেলছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-চা না ব্ল্যাক কফি?

শিউলী তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল,
-ব্ল্যাক কফি।

টেবিলে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ নামিয়ে রাখে সাইদুল। চুমুক দিয়েই শিউলী একমুখ হাসি ছড়িয়ে বলল, আমাদের সংকীর্ণতার খোলস ভাঙতে হবে। কথার সঙ্গে কাজের অমিল যেন এখন নিয়মে দাঁড়িয়েছে। বলো তো, দেশ-জাতির বিষয়ে কি কারও কোনো দায় নেই?

তার প্রশ্নবোধক চোখ যেন টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের গ্লাস ভেদ করে ভেতরটা দেখতে চায়। আমি একটু নড়েচড়ে বসি। সাজ্জাদ তখনও আসেনি।

মানুষের ভালোবাসা, গানের সুর আর দেশপ্রেমের কোন মানচিত্র হয়না। কিন্তু এই দেশের অধিকাংশ মানুষই কি দায়িত্বহীন!

ঠিক সেই সময় কাচের দরজার ঘণ্টা বেজে ওঠে। পরিচিত হাসি মুখে সাজ্জাদ ঢুকে পড়ে। বসতেই তার সামনে কফির কাপ চলে আসে। কফিতে চুমুক দিয়ে হঠাৎ সে শিউলীর সামনে আমার এক দীর্ঘ পরিচয় তুলে ধরে।

সাজ্জাদের কথা শুনে শিউলীর চোখ  বিস্ময়ে বড় হয়ে ওঠে।

-তাই নাকি! এখন কেউ নেই, বলো শুনি-তুমি তো বেশ গোপন মানুষ! হেসে বলে সে।

তার ঠোঁটের কোণে কৌতূহলের মৃদু খেলা। গল্প ধীরে ধীরে গতি পায়। রাজনীতি, প্রেম, ভালোবাসা দায়িত্ব  কোন কিছুই বাদ থাকে না। কথা একসময় ঘুরে যায় সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রসঙ্গে।

শিউলী একটু গম্ভীর হয়ে বলে,

-থাইল্যান্ডের নারীদের অবদান দেখো। অর্থনীতি, সমাজ, করপোরেট উন্নয়ন, সবখানেই তারা কত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় সাতচল্লিশ শতাংশ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম উচ্চ হার। ফাইন্যান্সিয়াল আর করপোরেটের উচ্চপদস্থ জায়গার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন নারীদের হাতে। শিক্ষা আর লিঙ্গসমতার সুফল তারা কাজে লাগাতে পেরেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি, পর্যটন, ক্ষুদ্র শিল্প, সবখানেই নারীরা সক্রিয়।

একনিশ্বাসে কথাগুলো বলে সে থামে। কফির কাপ ঠোঁটে ঠেকায়। আলো-ছায়ার ভেতর তার আঙুলের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার কথার ভেতরে যেমন দৃঢ়তা, তেমনি শরীরী ভঙ্গিতেও আছে একরকম আত্মবিশ্বাস।

সাজ্জাদ মৃদু হেসে বলে,
-আমরা কথা বলি বেশি। বাস্তবে সমাজের বুক চিরে বিভাজন সৃষ্টি করি। কর্মপরিবেশ নষ্ট করি নিজেরাই। এটা কি অস্বীকার করতে পারি?

শিউলী ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
-সময় বদলায় ঠিকই। কিন্তু মানুষের ভেতরের মানবিকতা বদলায় কোথায়? কেন এই ঘাটতি?

আমি বলি,
-সমস্যা হলো, আমরা দেশকে ভালোবাসার কথা বলি,  কিন্তু মানুষকে ভালোবাসতে ভয় পাই।

শিউলীর চোখে এক মুহূর্তের জন্য নরম আলো জ্বলে ওঠে।
-তুমি তাহলে মানুষকেই আগে রাখো?

-চেষ্টা করি।

কথা বলতে বলতে টেবিলের নিচে একবার আমাদের হাঁটু ছুঁয়ে যায়। শিউলী একবার তাকায়, তারপর চোখ সরিয়ে নেয়। সেই চাহনিতে লুকিয়ে থাকে  এক উষ্ণতা, যা ভাষায় নয়, নিঃশ্বাসে বোঝা যায়।

সাজ্জাদ আবার বলে,
-দেশ গড়তে হলে আগে নিজেদের ভেতরের দেওয়াল ভাঙতে হবে। সংকীর্ণতা শুধু রাজনীতিতে নয়, সম্পর্কেও ঢুকে পড়ে।

শিউলী একটু ঝুঁকে আসে টেবিলের ওপর। তার কণ্ঠ নরম হয়ে যায়,
-প্রেমও একধরনের বিপ্লব, জানো? দুজন মানুষ যদি সত্যি সমানভাবে একে অপরকে গ্রহণ করে, সেটাও তো লিঙ্গসমতার চর্চা।

আমি বলি,
-কিন্তু সেই প্রেমে দায়িত্ব থাকতে হবে। শুধু অনুভূতি নয়, প্রতিশ্রুতি।

সে হেসে বলে,
-তুমি কি সবকিছু এত গম্ভীর করে দেখো?

-না, কখনও কখনও খুব সহজও দেখি।

একটু নীরবতা নেমে আসে। বাইরে আজানের শেষ ধ্বনি মিলিয়ে গেছে। শহরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ইফতারের মিষ্টি গন্ধ। শিউলীর ওড়নার প্রান্ত হালকা বাতাসে দুলছে।

সাজ্জাদ চেয়ার ছেড়ে ঠেলে উঠে দাঁড়ায়।
-চল, আজ এতেই থাক। সময় কিন্তু আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না।

আমরাও উঠে দাঁড়াই। দরজার কাছে এসে শিউলী হাত বাড়িয়ে দেয়।

-আরেকদিন জমিয়ে গল্প হবে। আজকের মতো এখানে শেষ নয়।

রাতের রাস্তায় বেরিয়ে দেখি শহর তার নিজস্ব ছন্দে বয়ে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে আমার মনে হয়, দেশ গড়ার স্বপ্ন, নারীর ক্ষমতায়ন, রাজনীতির কাঁটা, প্রেমের মৃদু শিহরণ, সবই আসলে একই গল্পের ভিন্ন অধ্যায়।

সম্ভবত পরিবর্তন শুরু হয় এমনই এক টেবিলে বসে কফির কাপের ধোঁয়া ভেদ করে, প্রশ্নবোধক চোখের সামনে দাঁড়িয়ে। আর কখনও কখনও খুব সূক্ষ্ম এক স্পর্শে, যা শরীরের চেয়েও গভীরে গিয়ে মানবিকতার দরজা খুলে দেয়।

পেছন ফিরে দেখি, শিউলীও একবার তাকিয়েছে। চোখাচোখি হতেই সে মৃদু হাসে।

সেই হাসিতে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত,
প্রেম থাকবে, ক্ষোভ থাকবে, স্বপ্ন থাকবে।
আর থাকবে পথ চলার সাহস।

মুহূর্তেই কানে বাজে—
“হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর আড্ডা

আপডেট সময় : ১১:২৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

একটু আগেও হলরুমের প্রতিটি টেবিল কানায় কানায় ভরা ছিল। ইফতারের পর একে একে সবাই চলে গেছে। কোলাহলমুখর সেই ঘরটি এখন যেন শিউলীর ঢেউ খেলানো চুলের মতো শান্ত, স্থির। বাইরে রাস্তা এখনো পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। মাঝেমধ্যে দু-একটি অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। নিম্নমানের মোটরের ক্যাচ-ক্যাচ শব্দ ভেসে আসছে নীরবতার ভেতর দিয়ে।

ইফতার শেষে গল্প যেন তিন বন্ধুকে আরেক দিগন্তের দিকে টেনে নিয়ে যায়। নরম আলোয় শিউলীর মুখ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। বাইরে সন্ধ্যার ধূসরতা ধীরে ধীরে শহরটাকে ঢেকে ফেলছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম,
-চা না ব্ল্যাক কফি?

শিউলী তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল,
-ব্ল্যাক কফি।

টেবিলে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ নামিয়ে রাখে সাইদুল। চুমুক দিয়েই শিউলী একমুখ হাসি ছড়িয়ে বলল, আমাদের সংকীর্ণতার খোলস ভাঙতে হবে। কথার সঙ্গে কাজের অমিল যেন এখন নিয়মে দাঁড়িয়েছে। বলো তো, দেশ-জাতির বিষয়ে কি কারও কোনো দায় নেই?

তার প্রশ্নবোধক চোখ যেন টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের গ্লাস ভেদ করে ভেতরটা দেখতে চায়। আমি একটু নড়েচড়ে বসি। সাজ্জাদ তখনও আসেনি।

মানুষের ভালোবাসা, গানের সুর আর দেশপ্রেমের কোন মানচিত্র হয়না। কিন্তু এই দেশের অধিকাংশ মানুষই কি দায়িত্বহীন!

ঠিক সেই সময় কাচের দরজার ঘণ্টা বেজে ওঠে। পরিচিত হাসি মুখে সাজ্জাদ ঢুকে পড়ে। বসতেই তার সামনে কফির কাপ চলে আসে। কফিতে চুমুক দিয়ে হঠাৎ সে শিউলীর সামনে আমার এক দীর্ঘ পরিচয় তুলে ধরে।

সাজ্জাদের কথা শুনে শিউলীর চোখ  বিস্ময়ে বড় হয়ে ওঠে।

-তাই নাকি! এখন কেউ নেই, বলো শুনি-তুমি তো বেশ গোপন মানুষ! হেসে বলে সে।

তার ঠোঁটের কোণে কৌতূহলের মৃদু খেলা। গল্প ধীরে ধীরে গতি পায়। রাজনীতি, প্রেম, ভালোবাসা দায়িত্ব  কোন কিছুই বাদ থাকে না। কথা একসময় ঘুরে যায় সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রসঙ্গে।

শিউলী একটু গম্ভীর হয়ে বলে,

-থাইল্যান্ডের নারীদের অবদান দেখো। অর্থনীতি, সমাজ, করপোরেট উন্নয়ন, সবখানেই তারা কত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় সাতচল্লিশ শতাংশ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম উচ্চ হার। ফাইন্যান্সিয়াল আর করপোরেটের উচ্চপদস্থ জায়গার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন নারীদের হাতে। শিক্ষা আর লিঙ্গসমতার সুফল তারা কাজে লাগাতে পেরেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি, পর্যটন, ক্ষুদ্র শিল্প, সবখানেই নারীরা সক্রিয়।

একনিশ্বাসে কথাগুলো বলে সে থামে। কফির কাপ ঠোঁটে ঠেকায়। আলো-ছায়ার ভেতর তার আঙুলের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার কথার ভেতরে যেমন দৃঢ়তা, তেমনি শরীরী ভঙ্গিতেও আছে একরকম আত্মবিশ্বাস।

সাজ্জাদ মৃদু হেসে বলে,
-আমরা কথা বলি বেশি। বাস্তবে সমাজের বুক চিরে বিভাজন সৃষ্টি করি। কর্মপরিবেশ নষ্ট করি নিজেরাই। এটা কি অস্বীকার করতে পারি?

শিউলী ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
-সময় বদলায় ঠিকই। কিন্তু মানুষের ভেতরের মানবিকতা বদলায় কোথায়? কেন এই ঘাটতি?

আমি বলি,
-সমস্যা হলো, আমরা দেশকে ভালোবাসার কথা বলি,  কিন্তু মানুষকে ভালোবাসতে ভয় পাই।

শিউলীর চোখে এক মুহূর্তের জন্য নরম আলো জ্বলে ওঠে।
-তুমি তাহলে মানুষকেই আগে রাখো?

-চেষ্টা করি।

কথা বলতে বলতে টেবিলের নিচে একবার আমাদের হাঁটু ছুঁয়ে যায়। শিউলী একবার তাকায়, তারপর চোখ সরিয়ে নেয়। সেই চাহনিতে লুকিয়ে থাকে  এক উষ্ণতা, যা ভাষায় নয়, নিঃশ্বাসে বোঝা যায়।

সাজ্জাদ আবার বলে,
-দেশ গড়তে হলে আগে নিজেদের ভেতরের দেওয়াল ভাঙতে হবে। সংকীর্ণতা শুধু রাজনীতিতে নয়, সম্পর্কেও ঢুকে পড়ে।

শিউলী একটু ঝুঁকে আসে টেবিলের ওপর। তার কণ্ঠ নরম হয়ে যায়,
-প্রেমও একধরনের বিপ্লব, জানো? দুজন মানুষ যদি সত্যি সমানভাবে একে অপরকে গ্রহণ করে, সেটাও তো লিঙ্গসমতার চর্চা।

আমি বলি,
-কিন্তু সেই প্রেমে দায়িত্ব থাকতে হবে। শুধু অনুভূতি নয়, প্রতিশ্রুতি।

সে হেসে বলে,
-তুমি কি সবকিছু এত গম্ভীর করে দেখো?

-না, কখনও কখনও খুব সহজও দেখি।

একটু নীরবতা নেমে আসে। বাইরে আজানের শেষ ধ্বনি মিলিয়ে গেছে। শহরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ইফতারের মিষ্টি গন্ধ। শিউলীর ওড়নার প্রান্ত হালকা বাতাসে দুলছে।

সাজ্জাদ চেয়ার ছেড়ে ঠেলে উঠে দাঁড়ায়।
-চল, আজ এতেই থাক। সময় কিন্তু আমাদের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না।

আমরাও উঠে দাঁড়াই। দরজার কাছে এসে শিউলী হাত বাড়িয়ে দেয়।

-আরেকদিন জমিয়ে গল্প হবে। আজকের মতো এখানে শেষ নয়।

রাতের রাস্তায় বেরিয়ে দেখি শহর তার নিজস্ব ছন্দে বয়ে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে আমার মনে হয়, দেশ গড়ার স্বপ্ন, নারীর ক্ষমতায়ন, রাজনীতির কাঁটা, প্রেমের মৃদু শিহরণ, সবই আসলে একই গল্পের ভিন্ন অধ্যায়।

সম্ভবত পরিবর্তন শুরু হয় এমনই এক টেবিলে বসে কফির কাপের ধোঁয়া ভেদ করে, প্রশ্নবোধক চোখের সামনে দাঁড়িয়ে। আর কখনও কখনও খুব সূক্ষ্ম এক স্পর্শে, যা শরীরের চেয়েও গভীরে গিয়ে মানবিকতার দরজা খুলে দেয়।

পেছন ফিরে দেখি, শিউলীও একবার তাকিয়েছে। চোখাচোখি হতেই সে মৃদু হাসে।

সেই হাসিতে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত,
প্রেম থাকবে, ক্ষোভ থাকবে, স্বপ্ন থাকবে।
আর থাকবে পথ চলার সাহস।

মুহূর্তেই কানে বাজে—
“হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ।”