এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জামায়াতের
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩১ বার পড়া হয়েছে
দেশে এলপিজি গ্যাসের মজুত থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতার কথা বলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণকে দুর্ভোগে ফেলছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এলপিজির কোনো প্রকৃত ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক ও জনস্বার্থবিরোধী। এর মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটার অপচেষ্টা চলছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এলপিজির কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রান্নার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে তারা বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি ও অসাধু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত—তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এলপিজি বাজারে কার্যকর মনিটরিং জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে এলপিজির দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন।
সভায় জানানো হয়, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের আমদানিকারকদের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে বৈশ্বিক নানা পরিস্থিতির কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১৫টি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১২ লাখ ৫৮ হাজার ১৫২ দশমিক ৪৫ টন এলপিজি আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারের দাবি, বাজারে এলপিজির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। বরং একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















