ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০০ কোটির প্রথম নায়িকা, বিয়ের পরই রুপালি পর্দা থেকে বিদায়, এখন কোথায় আসিন? টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প: ইরানে হামলা হলে পাশে থাকবে না ওয়াশিংটন ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ হাজার পরিবার নতুন টোল বসানোর পরিকল্পনা: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যাচ্ছে ইরান-ওমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-রাশিয়া পুশইন বন্ধে ভারতকে ১৩টি চিঠি: সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা, আজ দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ

এপস্টেইন ঝড়ে টালমাটাল ব্রিটেন, ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে কিয়ার স্টারমার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

এপস্টেইন ঝড়ে টালমাটাল ব্রিটেন, ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে কিয়ার স্টারমার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ভয়ংকর এই যৌন কেলেঙ্কারির ঢেউ এখন আছড়ে পড়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন কাণ্ডকে ঘিরে সৃষ্ট এই ঝড়েই ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন তিনি। একের পর এক সংকটে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্ব কার্যত সুতোয় ঝুলছে।

আটলান্টিকের পূর্ব পারে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘনীভূত হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে ওয়াশিংটনের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বৈপরীত্য স্পষ্ট করে তুলছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি ও কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য অস্তিত্বগত দুর্বলতার পার্থক্য।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে জবাবদিহি ও তদন্তে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে সক্রিয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব এবং রিপাবলিকান কংগ্রেসে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে কঠোর নজরদারি থেকে অনেকটাই রক্ষা করছে।

এপস্টেইন নথির বৈশ্বিক বিস্তার এই কেলেঙ্কারির গভীরতা আরও স্পষ্ট করেছে। নরওয়ে থেকে পোল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এর প্রভাব। শুধু স্টারমার নন, বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এখন এই উত্তাপে পুড়ছেন।

যুক্তরাজ্যে জনরোষ এতটাই তীব্র যে রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ভাই সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে-এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু-রাজকীয় উপাধি থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের একটি বাসভবন থেকেও সরিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ২০১৯ সালে কারাগারে বিচার শুরুর আগেই এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল। তবে সেখানে এমন কোনো নজির নেই, যেখানে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কেউ বড় রাজনৈতিক মূল্য দিয়েছেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন সাবেক মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ল্যারি সামার্স। তার সঙ্গে এপস্টেইনের ইমেইল প্রকাশ পাওয়ার পর, যেখানে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও প্রেমসংক্রান্ত পরামর্শের বিষয় উঠে আসে, তিনি জনসম্মুখের কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ান এবং ঘটনাটিকে লজ্জাজনক বলে স্বীকার করেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্ক পেছনে ফেলতে মরিয়া। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নতুন কোনো মামলা হবে না। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নেই এবং নতুন নথিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়নি। যদিও নথিতে যাচাই না হওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে, ট্রাম্প সিএনএনকে বলেন, দেশের এখন ‘অন্য কিছুর দিকে এগোনোর সময় এসেছে’।

কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন কিয়ার স্টারমার। বৃহস্পতিবার সকালে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। লেবার পার্টির এমপিদের বিদ্রোহ ডাউনিং স্ট্রিটকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্টারমার স্বীকার করেন, সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানতেন, তবু তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

গত বছর প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের পাশে ছিলেন। নতুন নথিতে ইঙ্গিত মিলেছে, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় তিনি হয়তো গোপন অর্থনৈতিক তথ্য এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন, যা এপস্টেইন ও তার ওয়াল স্ট্রিট সহযোগীদের জন্য অমূল্য হতো।

বর্তমানে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলছে। তিনি হাউস অব লর্ডস ও লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংসদে স্টারমার বলেন, ম্যান্ডেলসন দেশ, সংসদ এবং দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটার ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ক্ষমা চান এবং দণ্ডিত হওয়ার পরও তাকে বিশ্বাস করাকে বড় ভুল বলে স্বীকার করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও কিশোরীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দলকে আরও বিব্রত হওয়া থেকে বাঁচাতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে যে ঝড় বইছে, তা শুধু এপস্টেইনের যৌন পাচার কেলেঙ্কারিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সংকট, যা ব্রিটিশ রাজনীতি, গণমাধ্যম ও জনজীবনের আগে থেকেই চলমান অন্তত তিনটি বড় নাটককে আরও উসকে দিয়েছে।

ভূমিধস জয় দিয়ে ক্ষমতায় এলেও দুই বছরের কম সময়েই স্টারমার রাজনৈতিকভাবে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন বলে মত বিশ্লেষকদের। সংসদে তার সাম্প্রতিক বিব্রতকর উপস্থিতি তাকে দুর্বল নেতার প্রতীকে পরিণত করেছে এবং লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টরা নির্দিষ্ট মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তিনি কতদিন টিকবেন সেই হিসাব। গত ১১ বছরে দেশটিতে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে, যা একসময় স্থিতিশীলতার প্রতীক যুক্তরাজ্যকে গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এপস্টেইন কাহিনি যুক্ত হয়েছে পিটার ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির সঙ্গেও। ‘প্রিন্স অব ডার্কনেস’ নামে পরিচিত এই দক্ষ কিন্তু দুর্ভাগা রাজনীতিবিদের ধনী ও প্রভাবশালী মহলে মিশতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত তাকে এপস্টেইনের মতো কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে ঠেলে দেয়। সূত্র: সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এপস্টেইন ঝড়ে টালমাটাল ব্রিটেন, ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে কিয়ার স্টারমার

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ভয়ংকর এই যৌন কেলেঙ্কারির ঢেউ এখন আছড়ে পড়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন কাণ্ডকে ঘিরে সৃষ্ট এই ঝড়েই ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন তিনি। একের পর এক সংকটে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্ব কার্যত সুতোয় ঝুলছে।

আটলান্টিকের পূর্ব পারে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ঘনীভূত হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে ওয়াশিংটনের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বৈপরীত্য স্পষ্ট করে তুলছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি ও কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য অস্তিত্বগত দুর্বলতার পার্থক্য।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে জবাবদিহি ও তদন্তে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে সক্রিয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব এবং রিপাবলিকান কংগ্রেসে তার দৃঢ় অবস্থান তাকে কঠোর নজরদারি থেকে অনেকটাই রক্ষা করছে।

এপস্টেইন নথির বৈশ্বিক বিস্তার এই কেলেঙ্কারির গভীরতা আরও স্পষ্ট করেছে। নরওয়ে থেকে পোল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এর প্রভাব। শুধু স্টারমার নন, বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এখন এই উত্তাপে পুড়ছেন।

যুক্তরাজ্যে জনরোষ এতটাই তীব্র যে রাজা তৃতীয় চার্লস নিজের ভাই সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে-এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু-রাজকীয় উপাধি থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের একটি বাসভবন থেকেও সরিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে তদন্তকারীরা জানিয়েছে, ২০১৯ সালে কারাগারে বিচার শুরুর আগেই এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা ছিল। তবে সেখানে এমন কোনো নজির নেই, যেখানে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কেউ বড় রাজনৈতিক মূল্য দিয়েছেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন সাবেক মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ল্যারি সামার্স। তার সঙ্গে এপস্টেইনের ইমেইল প্রকাশ পাওয়ার পর, যেখানে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ও প্রেমসংক্রান্ত পরামর্শের বিষয় উঠে আসে, তিনি জনসম্মুখের কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ান এবং ঘটনাটিকে লজ্জাজনক বলে স্বীকার করেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্ক পেছনে ফেলতে মরিয়া। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নতুন কোনো মামলা হবে না। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নেই এবং নতুন নথিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হয়নি। যদিও নথিতে যাচাই না হওয়া যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার বিবরণ রয়েছে, ট্রাম্প সিএনএনকে বলেন, দেশের এখন ‘অন্য কিছুর দিকে এগোনোর সময় এসেছে’।

কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন কিয়ার স্টারমার। বৃহস্পতিবার সকালে তার প্রধানমন্ত্রীত্ব কার্যত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। লেবার পার্টির এমপিদের বিদ্রোহ ডাউনিং স্ট্রিটকে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্টারমার স্বীকার করেন, সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানতেন, তবু তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

গত বছর প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের পাশে ছিলেন। নতুন নথিতে ইঙ্গিত মিলেছে, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় তিনি হয়তো গোপন অর্থনৈতিক তথ্য এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন, যা এপস্টেইন ও তার ওয়াল স্ট্রিট সহযোগীদের জন্য অমূল্য হতো।

বর্তমানে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলছে। তিনি হাউস অব লর্ডস ও লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংসদে স্টারমার বলেন, ম্যান্ডেলসন দেশ, সংসদ এবং দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটার ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ক্ষমা চান এবং দণ্ডিত হওয়ার পরও তাকে বিশ্বাস করাকে বড় ভুল বলে স্বীকার করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও কিশোরীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দলকে আরও বিব্রত হওয়া থেকে বাঁচাতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে যে ঝড় বইছে, তা শুধু এপস্টেইনের যৌন পাচার কেলেঙ্কারিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এমন এক সংকট, যা ব্রিটিশ রাজনীতি, গণমাধ্যম ও জনজীবনের আগে থেকেই চলমান অন্তত তিনটি বড় নাটককে আরও উসকে দিয়েছে।

ভূমিধস জয় দিয়ে ক্ষমতায় এলেও দুই বছরের কম সময়েই স্টারমার রাজনৈতিকভাবে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়েছেন বলে মত বিশ্লেষকদের। সংসদে তার সাম্প্রতিক বিব্রতকর উপস্থিতি তাকে দুর্বল নেতার প্রতীকে পরিণত করেছে এবং লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টরা নির্দিষ্ট মেয়াদে ক্ষমতায় থাকলেও ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তিনি কতদিন টিকবেন সেই হিসাব। গত ১১ বছরে দেশটিতে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে, যা একসময় স্থিতিশীলতার প্রতীক যুক্তরাজ্যকে গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এপস্টেইন কাহিনি যুক্ত হয়েছে পিটার ম্যান্ডেলসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ট্র্যাজেডির সঙ্গেও। ‘প্রিন্স অব ডার্কনেস’ নামে পরিচিত এই দক্ষ কিন্তু দুর্ভাগা রাজনীতিবিদের ধনী ও প্রভাবশালী মহলে মিশতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত তাকে এপস্টেইনের মতো কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে ঠেলে দেয়। সূত্র: সিএনএন