ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ১৭১ বার পড়া হয়েছে

কবি জাহানারা আরজু

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাহিত্য সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের মা। তার স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী; পাকিস্তান আমলে ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী এই মহীয়সী নারী বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে দীর্ঘকাল নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনা জগতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা নারী সম্পাদিত সাহিত্যধারায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

অতি অল্প বয়সে তার সাহিত্য সাধনার সূচনা। ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিল’-এ তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার কবিতা ও রচনা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।

তার কাব্যকর্মে মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য সমন্বয় লক্ষণীয়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ, স্বচ্ছ ও আবেগঘন ভাষায় রূপ দিয়েছেন। তার লেখনীতে যেমন ছিল অন্তর্গত বেদনার অনুরণন, তেমনি ছিল আশাবাদ ও আলোকিত মানবিকতার দীপ্ত প্রকাশ।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও রচনাবলি বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুমার প্রথম নামাজে জানাজা আজ বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আজ বাদ ঈশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে সেখানেই তার স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাহিত্য সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের মা। তার স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী; পাকিস্তান আমলে ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী এই মহীয়সী নারী বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে দীর্ঘকাল নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনা জগতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা নারী সম্পাদিত সাহিত্যধারায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

অতি অল্প বয়সে তার সাহিত্য সাধনার সূচনা। ১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’ পত্রিকার ‘মুকুলের মাহফিল’-এ তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার কবিতা ও রচনা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে।

তার কাব্যকর্মে মানবতাবোধ, মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমের অনন্য সমন্বয় লক্ষণীয়। মাটি, মানুষ ও সমাজের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সহজ, স্বচ্ছ ও আবেগঘন ভাষায় রূপ দিয়েছেন। তার লেখনীতে যেমন ছিল অন্তর্গত বেদনার অনুরণন, তেমনি ছিল আশাবাদ ও আলোকিত মানবিকতার দীপ্ত প্রকাশ।

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও রচনাবলি বাংলা সাহিত্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

মরহুমার প্রথম নামাজে জানাজা আজ বাদ মাগরিব গুলশানের আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা আজ বাদ ঈশা ও তারাবির নামাজের পর মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে সেখানেই তার স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হবে।