ইসলামবিদ্বেষ রোধে বৈশ্বিক জিরো টলারেন্স নীতির ডাক বেইজিংয়ের
- আপডেট সময় : ০৫:৩৫:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক ইসলামবিদ্বেষ বিরোধী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের সভায় চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।
সভায় বক্তব্য প্রদানকালে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই বলেন, ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঘৃণা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার যেকোনো উসকানি দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা সকল রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি চরমপন্থি মতাদর্শ ও তথাকথিত ‘সভ্যতার সংঘাত’ ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে শান্তি, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামোফোবিয়া জাতিসংঘ সনদের মৌলিক উদ্দেশ্য ও নীতিমালার পরিপন্থী। এ প্রবণতা মানবতার অভিন্ন মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করে, বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংহতি জোরদারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে।
সুন লেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুসংস্কার, বৈষম্য ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মতে, ইসলামোফোবিয়া আঞ্চলিক সংঘাত, সামাজিক বৈষম্য এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যা এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামবিদ্বেষ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক আস্থা ও সংহতি জোরদার, এবং সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ ও মতপার্থক্য নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে সকল মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার মূল কারণ, দারিদ্র্য ও অসমতা–দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একইসঙ্গে বিভিন্ন সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।



















