ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

প্রাচীন নগরসভ্যতার ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৭১ বার পড়া হয়েছে

ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাচীন নগরসভ্যতার ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ অব্দে সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই নগরী ছিল সিন্ধু সভ্যতা-এর অন্যতম বৃহত্তম ও সুপরিকল্পিত শহর। ব্রোঞ্জ যুগে বিকশিত এই নগর শুধু আকারেই নয়, উন্নত নগর পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্যও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

মহেঞ্জোদারোর বিস্তৃত রাস্তা, সমান্তরাল নগর বিন্যাস এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, সেই সময়কার মানুষরা নগরজীবন সম্পর্কে কতটা সচেতন ও দক্ষ ছিলেন। প্রতিটি বাড়িতে পানির ব্যবস্থা, পাকা নিকাশী এবং গণস্নানাগারের মতো স্থাপনা ছিল, যা আধুনিক নগর পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনীয়।

দীর্ঘকাল মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এই নগরীর অস্তিত্ব আধুনিক বিশ্ব জানতে পারে ১৯২২ সালে, যখন ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এটি পুনরাবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্ব বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।

 ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়
ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়: ছবি সংগ্রহ

খননকাজে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন, যেমন সিলমোহর, মৃৎপাত্র অলংকার ও খেলনা, ইঙ্গিত দেয় যে মহেঞ্জোদারোর মানুষরা শুধু প্রযুক্তিতে নয়, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও সমৃদ্ধ ছিল। যদিও এই উন্নত নগরীর পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো রহস্যাবৃত, তবুও এটি মানবসভ্যতার প্রাচীন অগ্রযাত্রার এক জীবন্ত দলিল হয়ে রয়েছে।

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে মহেঞ্জোদারো এক রহস্যময় ও বিস্ময়কর নাম। বর্তমান পাকিস্তান-এর সিন্ধু প্রদেশের লারকানায় অবস্থিত এই নগর একসময় ছিল মানবসভ্যতার অগ্রগতির উজ্জ্বল প্রতীক। এটি  সিন্ধু সভ্যতা-এর অন্যতম বৃহত্তম ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে পরিচিত। একই সময়ে বিকশিত প্রাচীন মিশর ও মেসোপটেমিয়া-র মতো উন্নত সভ্যতার সঙ্গে এর তুলনা করা হয়।

তবে সময়ের নির্মম পরিক্রমায় এই গৌরবময় শহর আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গবেষকরা এখনো এর পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে একমত হতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে জার্মান গবেষক মিশায়েল

 ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়
নগর থেকে উদ্ধার দৃষ্টি নন্দন নানা ব্যবহারিক তৈজসপত্র : ছবি সংগ্রহ

ইয়ানসেন ‘ফ্রেন্ডস অব মহেঞ্জোদারো’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রাচীন নগরকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করার পাশাপাশি এর বিলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন।

বর্তমানে মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা প্রাচীন ইটের গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততাও ধ্বংসস্তূপের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটকদের অসচেতন আচরণ, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা কিংবা ধ্বংসাবশেষে ওঠানামা করা, যা এই ঐতিহ্যকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

খননকাজে পাওয়া সিলমোহর, অলংকার, মুদ্রা, খেলনা ও বাঁশির মতো নিদর্শনগুলো প্রমাণ করে, এই শহরের মানুষরা ছিল শিল্প ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। আজ ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে মহেঞ্জোদারো শুধু অতীতের গল্পই বলে না, বরং মানবসভ্যতার শেকড়ের সঙ্গে আমাদের সংযোগও স্মরণ করিয়ে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রাচীন নগরসভ্যতার ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রাচীন নগরসভ্যতার ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ অব্দে সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই নগরী ছিল সিন্ধু সভ্যতা-এর অন্যতম বৃহত্তম ও সুপরিকল্পিত শহর। ব্রোঞ্জ যুগে বিকশিত এই নগর শুধু আকারেই নয়, উন্নত নগর পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্যও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

মহেঞ্জোদারোর বিস্তৃত রাস্তা, সমান্তরাল নগর বিন্যাস এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে, সেই সময়কার মানুষরা নগরজীবন সম্পর্কে কতটা সচেতন ও দক্ষ ছিলেন। প্রতিটি বাড়িতে পানির ব্যবস্থা, পাকা নিকাশী এবং গণস্নানাগারের মতো স্থাপনা ছিল, যা আধুনিক নগর পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনীয়।

দীর্ঘকাল মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা এই নগরীর অস্তিত্ব আধুনিক বিশ্ব জানতে পারে ১৯২২ সালে, যখন ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এটি পুনরাবিষ্কার করেন। তাঁর এই আবিষ্কার প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবং সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্ব বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে।

 ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়
ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়: ছবি সংগ্রহ

খননকাজে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন, যেমন সিলমোহর, মৃৎপাত্র অলংকার ও খেলনা, ইঙ্গিত দেয় যে মহেঞ্জোদারোর মানুষরা শুধু প্রযুক্তিতে নয়, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও সমৃদ্ধ ছিল। যদিও এই উন্নত নগরীর পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো রহস্যাবৃত, তবুও এটি মানবসভ্যতার প্রাচীন অগ্রযাত্রার এক জীবন্ত দলিল হয়ে রয়েছে।

প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে মহেঞ্জোদারো এক রহস্যময় ও বিস্ময়কর নাম। বর্তমান পাকিস্তান-এর সিন্ধু প্রদেশের লারকানায় অবস্থিত এই নগর একসময় ছিল মানবসভ্যতার অগ্রগতির উজ্জ্বল প্রতীক। এটি  সিন্ধু সভ্যতা-এর অন্যতম বৃহত্তম ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে পরিচিত। একই সময়ে বিকশিত প্রাচীন মিশর ও মেসোপটেমিয়া-র মতো উন্নত সভ্যতার সঙ্গে এর তুলনা করা হয়।

তবে সময়ের নির্মম পরিক্রমায় এই গৌরবময় শহর আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গবেষকরা এখনো এর পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে একমত হতে পারেননি। সাম্প্রতিক সময়ে জার্মান গবেষক মিশায়েল

 ইতিহাসে মহেঞ্জোদারো এক অনন্য বিস্ময়
নগর থেকে উদ্ধার দৃষ্টি নন্দন নানা ব্যবহারিক তৈজসপত্র : ছবি সংগ্রহ

ইয়ানসেন ‘ফ্রেন্ডস অব মহেঞ্জোদারো’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রাচীন নগরকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করার পাশাপাশি এর বিলুপ্তির কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন।

বর্তমানে মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা প্রাচীন ইটের গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততাও ধ্বংসস্তূপের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটকদের অসচেতন আচরণ, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা কিংবা ধ্বংসাবশেষে ওঠানামা করা, যা এই ঐতিহ্যকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

খননকাজে পাওয়া সিলমোহর, অলংকার, মুদ্রা, খেলনা ও বাঁশির মতো নিদর্শনগুলো প্রমাণ করে, এই শহরের মানুষরা ছিল শিল্প ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। আজ ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে মহেঞ্জোদারো শুধু অতীতের গল্পই বলে না, বরং মানবসভ্যতার শেকড়ের সঙ্গে আমাদের সংযোগও স্মরণ করিয়ে দেয়।