ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

ইউরোপে ভয়ঙ্কর প্রজাতির মশার সন্ধান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪ ২২৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইউরোপের ১৩ দেশে বিশেষজ্ঞরা এমন মশার প্রজাতি শনাক্ত করেছেন, যেগুলো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগ বিস্তারের জন্য দায়ী। মশার এই প্রজাতিটি ‘এডিস অ্যালবোপিক্টাস বা এশিয়ান টাইগার মসকিউটোস’ নামে পরিচিত।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিস প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হওয়ায় মশার এই প্রজাতিটি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে।

আগামী মাসের শেষ দিকে ফ্রান্সে অলিম্পিক গেমস শুরু হবে। তখন সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মানুষ প্যারিসে আসবেন। সে সময়ে ইউরোপজুড়ে আরো দ্রুত মশার বিস্তার ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসিডিসি। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় মশার বিস্তারের ওপর নজর রাখছে এবং সেগুলো ধরে পরীক্ষা করা শুরু করেছে বলে বিবিসি জানায়।

তারা স্থানীয় লোকজনের বাগান ও বারান্দায় পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ ধরনের মশা বংশবিস্তার করে। দুই দশক ধরে ইউরোপে বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে মশা। বিশেষ করে বিশ্বে মশার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রজাতি এডিস অ্যালবোপিকটাস দক্ষিণ ইউরোপ থেকে এখন পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসিডিসি জানায়, সম্প্রতি অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইতালি, মাল্টা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভানিয়া ও স্পেনে এরই মধ্যে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছে। বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ডস ও স্লোভাকিয়ায় অতীতে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছিল।

এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগের বিস্তার ঘটায়। এই রোগগুলো সাধারণত এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার দেশগুলোতে দেখা যায়।

মানুষের শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শুরু হয় জ্বর দিয়ে। এটি এতটাই মারাত্মক যে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।গত কয়েক বছরে ইউরোপে ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার দেখা গেছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশে মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ভ্রমণ করতে গিয়ে এ রোগে সংক্রমিত হন। গত বছর ইউরোপে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ভ্রমণে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। গত বছর ইউরোপে ১৩০ জন স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হন। এর আগের বছর ছিল ৭১ জন।

এ বছর মার্চের শুরুতেই স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সময়ের অনেক বেশি আগে ‘ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া’ নিয় তাই উদ্বিগ্ন ইসিডিসি। এ জন্য তারা জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহামারি আকার নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইউরোপে ভয়ঙ্কর প্রজাতির মশার সন্ধান

আপডেট সময় : ১০:২১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪

 

ইউরোপের ১৩ দেশে বিশেষজ্ঞরা এমন মশার প্রজাতি শনাক্ত করেছেন, যেগুলো ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগ বিস্তারের জন্য দায়ী। মশার এই প্রজাতিটি ‘এডিস অ্যালবোপিক্টাস বা এশিয়ান টাইগার মসকিউটোস’ নামে পরিচিত।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিস প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হওয়ায় মশার এই প্রজাতিটি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে।

আগামী মাসের শেষ দিকে ফ্রান্সে অলিম্পিক গেমস শুরু হবে। তখন সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মানুষ প্যারিসে আসবেন। সে সময়ে ইউরোপজুড়ে আরো দ্রুত মশার বিস্তার ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ইসিডিসি। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকায় মশার বিস্তারের ওপর নজর রাখছে এবং সেগুলো ধরে পরীক্ষা করা শুরু করেছে বলে বিবিসি জানায়।

তারা স্থানীয় লোকজনের বাগান ও বারান্দায় পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ ধরনের মশা বংশবিস্তার করে। দুই দশক ধরে ইউরোপে বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে মশা। বিশেষ করে বিশ্বে মশার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রজাতি এডিস অ্যালবোপিকটাস দক্ষিণ ইউরোপ থেকে এখন পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইসিডিসি জানায়, সম্প্রতি অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইতালি, মাল্টা, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভানিয়া ও স্পেনে এরই মধ্যে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছে। বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ডস ও স্লোভাকিয়ায় অতীতে এডিস মশা শনাক্ত হয়েছিল।

এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের মতো রোগের বিস্তার ঘটায়। এই রোগগুলো সাধারণত এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার দেশগুলোতে দেখা যায়।

মানুষের শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শুরু হয় জ্বর দিয়ে। এটি এতটাই মারাত্মক যে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।গত কয়েক বছরে ইউরোপে ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার দেখা গেছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ বেশ কয়েকটি দেশে মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ভ্রমণ করতে গিয়ে এ রোগে সংক্রমিত হন। গত বছর ইউরোপে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ভ্রমণে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। গত বছর ইউরোপে ১৩০ জন স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হন। এর আগের বছর ছিল ৭১ জন।

এ বছর মার্চের শুরুতেই স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সময়ের অনেক বেশি আগে ‘ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া’ নিয় তাই উদ্বিগ্ন ইসিডিসি। এ জন্য তারা জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহামারি আকার নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে।