ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র: তেহরানের কড়া মন্তব্য
- আপডেট সময় : ০৪:১৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরানের পক্ষ থেকে যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এসেছে, তা মধ্যপ্রাচ্য–পশ্চিমা সম্পর্কের বিদ্যমান টানাপোড়েনকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ একাধিক পোস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার))-এ বলেন, এই দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
গালিবাফ জানান, আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগেই তিনি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছিলেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে সদিচ্ছার অভাব ছিল না। বরং তারা গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী ছিল। তবে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা-বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি হামলা এবং গত বছরে ইরানে কথিত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ঘটনাগুলো—ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, “আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষ সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শুধুমাত্র কূটনৈতিক কথাবার্তা নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন সম্ভব-যা যুক্তরাষ্ট্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ইরানের মূল্যায়ন।
এদিকে, আলোচনার পরিবেশ তৈরি ও তা সহজতর করতে পাকিস্তানের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেন গালিবাফ। তিনি পাকিস্তান-কে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র” হিসেবে উল্লেখ করে তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য কেবল একটি আলোচনার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে। আস্থা সংকট, সামরিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাত-সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।



















