অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১১:৩৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
সেচ সংকট ও অকাল বন্যা মোকাবিলায় নদী খনন ও পানি সংরক্ষণে জোর
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার।
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং পানি সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দেয়।
নেক এলাকায় কৃষকরা পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় বোরোসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে চরম দুর্ভোগে পড়েন। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে অকাল বন্যা কৃষিজমি ও জনজীবনে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফলে একদিকে পানির অভাব, অন্যদিকে অতিরিক্ত পানির চাপ, দুই মিলিয়ে দেশের নদী ও কৃষি ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সম্প্রতি পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। একইসঙ্গে আলোচনায় রয়েছে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার মহাপরিকল্পনা।
নীতিনির্ধারকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে বিকল্প পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারও কমবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেরিতে হলেও নিজস্ব নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তাদের মতে, নদী খনন, খাল পুনরুদ্ধার, জলাধার সৃষ্টি এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো কার্যক্রম বাড়ানো গেলে ভারতের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে আরও কৌশলী হয়ে অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়েও সক্রিয় থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনাই ভবিষ্যতে দেশের পানি সংকট সমাধানের অন্যতম বড় উপায় হতে পারে। তাই কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে নদী খনন ও সঠিক পানি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।


















