ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ইরানের হুঁশিয়ারি: অবরোধ চললে ফের বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

অবরোধ চললে ফের বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবার বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাময়িকভাবে খুলেছে প্রণালি, কিন্তু শর্তসাপেক্ষ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই পরিস্থিতিনির্ভর এবং এটি স্থায়ী নয়।

বৈশ্বিক জ্বালানির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করে, যার ফলে অনেক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়।

যুদ্ধবিরতির প্রভাব ও নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে শুক্রবার থেকে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি খোলার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, কয়েকটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কেন তারা ব্যর্থ হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

তিনি ইরানের ঘোষণাকে বিশ্বের জন্য একটি উজ্জ্বল দিন হিসেবে আখ্যায়িত করলেও বাস্তবে অবরোধ শিথিলের কোনো ইঙ্গিত দেননি।

ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

এ অবস্থায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সতর্ক করে বলেছেন,

মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিও খোলা থাকবে না।

তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি বলেও উল্লেখ করেন।

জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে সব জাহাজকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক জাহাজকে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি বলে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

জাহাজ ফেরত যাওয়ার ঘটনা

সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ২০টি জাহাজ, যার মধ্যে কন্টেইনার জাহাজ, ট্যাঙ্কার ও বাল্ক ক্যারিয়ার ছিল, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হলেও অধিকাংশই ফিরে গেছে।

এই বহরে ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএম সিজিএম-এর তিনটি জাহাজও ছিল, তবে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে দ্বন্দ্ব

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন,

ইরান তার পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর করবে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানের হুঁশিয়ারি: অবরোধ চললে ফের বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালি

আপডেট সময় : ১২:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

লেবাননে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আবার বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাময়িকভাবে খুলেছে প্রণালি, কিন্তু শর্তসাপেক্ষ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই পরিস্থিতিনির্ভর এবং এটি স্থায়ী নয়।

বৈশ্বিক জ্বালানির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করে, যার ফলে অনেক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়।

যুদ্ধবিরতির প্রভাব ও নতুন অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে শুক্রবার থেকে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি খোলার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, কয়েকটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। কেন তারা ব্যর্থ হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের বক্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

তিনি ইরানের ঘোষণাকে বিশ্বের জন্য একটি উজ্জ্বল দিন হিসেবে আখ্যায়িত করলেও বাস্তবে অবরোধ শিথিলের কোনো ইঙ্গিত দেননি।

ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া

এ অবস্থায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সতর্ক করে বলেছেন,

মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালিও খোলা থাকবে না।

তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি বলেও উল্লেখ করেন।

জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে হলে সব জাহাজকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক জাহাজকে প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি বলে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

জাহাজ ফেরত যাওয়ার ঘটনা

সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ২০টি জাহাজ, যার মধ্যে কন্টেইনার জাহাজ, ট্যাঙ্কার ও বাল্ক ক্যারিয়ার ছিল, হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হলেও অধিকাংশই ফিরে গেছে।

এই বহরে ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএম সিজিএম-এর তিনটি জাহাজও ছিল, তবে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে দ্বন্দ্ব

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট করে বলেছেন,

ইরান তার পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তর করবে না।