ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে: টিআইবি

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১১৭ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে: টিআইবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অস্বচ্ছ ও অগোচরে। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও তথ্য কমিশনকে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হয়নি, যা দেশের শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। রোববার ঢাকার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে “অনতিবিলম্বে তথ্য কমিশন গঠন এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র তার জায়গায়ই থাকে। তাই কোনো ব্যক্তি বা সরকারই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যদি কোনো সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব থাকে বা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া যায়, সেসব নিয়েও টিআইবি স্পষ্টভাবে কথা বলবে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের তথ্য রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটি তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী এবং নাগরিকদের তথ্য জানার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, ভুল হোক বা সঠিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। কোনো তথ্য গোপন করা বা সরিয়ে ফেলা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অন্তত ছয়টি অঙ্গীকার রয়েছে। তাই নতুন সরকারের উচিত সেই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। তথ্য কমিশনে নিয়োগের বিষয়েও তীব্র সমালোচনা করেন টিআইবি প্রধান। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই, এমন ব্যক্তিদেরও তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ যাঁরা স্বাধীনভাবে, স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তাঁদেরকেই এ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত। তথ্য গোপনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্য অধিকার আইন নাগরিকদের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করে এবং এটি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তার মতে, গত ১৬ বছরে দেশে কার্যকর গণতন্ত্রের ঘাটতি ছিল। তাই তথ্য অধিকার আইনের আওতায় রাজনৈতিক দলগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে তাদের আর্থিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কেও জনগণ তথ্য জানতে পারে। বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ স্বচ্ছ থাকলে দেশে এত ব্যাপক অর্থ পাচার ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি হতো না। তথ্য কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন এবং তা যেন দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, তথ্য কমিশনে দীর্ঘদিন ধরেই আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বিদ্যমান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি; বরং কমিশন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তিনি দ্রুত কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানান। তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান। বক্তারা সবাই দ্রুত তথ্য কমিশন গঠন, আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে: টিআইবি

আপডেট সময় : ০৭:০০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অস্বচ্ছ ও অগোচরে। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও তথ্য কমিশনকে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হয়নি, যা দেশের শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। রোববার ঢাকার ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে “অনতিবিলম্বে তথ্য কমিশন গঠন এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র তার জায়গায়ই থাকে। তাই কোনো ব্যক্তি বা সরকারই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যদি কোনো সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাব থাকে বা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া যায়, সেসব নিয়েও টিআইবি স্পষ্টভাবে কথা বলবে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের তথ্য রাষ্ট্রীয় নথিপত্র ও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এটি তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী এবং নাগরিকদের তথ্য জানার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, ভুল হোক বা সঠিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। কোনো তথ্য গোপন করা বা সরিয়ে ফেলা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। পাশাপাশি তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য অধিকার সংক্রান্ত অন্তত ছয়টি অঙ্গীকার রয়েছে। তাই নতুন সরকারের উচিত সেই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। তথ্য কমিশনে নিয়োগের বিষয়েও তীব্র সমালোচনা করেন টিআইবি প্রধান। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা নেই, এমন ব্যক্তিদেরও তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ যাঁরা স্বাধীনভাবে, স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তাঁদেরকেই এ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত। তথ্য গোপনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্য অধিকার আইন নাগরিকদের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করে এবং এটি সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তার মতে, গত ১৬ বছরে দেশে কার্যকর গণতন্ত্রের ঘাটতি ছিল। তাই তথ্য অধিকার আইনের আওতায় রাজনৈতিক দলগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে তাদের আর্থিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কেও জনগণ তথ্য জানতে পারে। বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ স্বচ্ছ থাকলে দেশে এত ব্যাপক অর্থ পাচার ও লুটপাটের সুযোগ তৈরি হতো না। তথ্য কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন এবং তা যেন দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়।

নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, তথ্য কমিশনে দীর্ঘদিন ধরেই আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বিদ্যমান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি; বরং কমিশন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তিনি দ্রুত কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানান। তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান। বক্তারা সবাই দ্রুত তথ্য কমিশন গঠন, আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা জোরদারের আহ্বান জানান।