ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতের হারে ইতিহাসের চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতে তরুণদের কর্মসংস্থান ও বস্তিবাসীর পুনর্বাসনে কাজ করবে বিএনপি: তারেক রহমান ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ নাম লিখানোর উদ্যোগ রমজানের আগে বাজারে মূল্যচাপ, নিত্যপণ্যে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী  নির্বাচন বানচালে দেশজুড়ে গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে: মির্জা ফখরুল যুদ্ধ বন্ধে প্রথমবার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, তারপরও ভারতে ম্যাচ! আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ফারুকীর ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ আগামী নির্বাচনে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ উদ্যোগ

৮ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে গুম কমিশন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশে গুম ব্যক্তিদের আটক রেখে নির্যাতন করা হতো, এমন ৮টির বেশি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করেছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। কমিশনের ভাষ্যমতে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‌্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করত।

দেশজুড়ে এসব গোপন বন্দিশালায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখা হতো। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের কাউকে কাউকে সাধারণ বন্দীদের সঙ্গেও রাখা হতো। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এসব গা শিউওে ওঠা চিত্র উঠে এসেছে।

আন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। যার শিরোনাম করা হয়েছে আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় কমিশনে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৫৮টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের কীভাবে দিনের পর দিন সবার চোখের আড়ালে বন্দী করে রাখা হতো, তা উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে বন্দী করে রাখা হতো। তাদের ৪৮-৬০ ঘণ্টা থেকে কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস, এমনকি কয়েকজনকে আট বছর পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হয়।

সাধারণ একটি ধারণা রয়েছে যে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের শুধু গোপন বন্দিশালায়ই আটকে রাখা হতো। তবে গুম হওয়ার পর জীবিত ফিরে আসতে পারা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে বেরিয়ে এসেছে যে অনেককে এমন সব বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ বন্দীদেরও রাখা হতো।

এর উদাহরণ হিসেবে গোয়েন্দাদের হাতে বন্দী ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে বৈধ ও অবৈধ বন্দীদের একই বন্দিশালায় রাখার কারণে গুমের শিকার ব্যক্তিরা বন্দিদশায় কী জটিল অবস্থার মধ্যে থেকেছেন, তা ধারণা করা যায়।

একই চত্বরের ভেতর বন্দীদের অবৈধ কক্ষ থেকে বৈধ বন্দীদের কক্ষে সরিয়ে নেওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। গুম কমিশন বলছে, খুব সম্ভবত গুমের শিকার ব্যক্তিদের বৈধ বন্দীদের সঙ্গে রাখার মাধ্যমে তাদের অবৈধভাবে আটক রাখার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।

বেঁচে ফেরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিস্তারিত সাক্ষাৎকার নেওয়ার মাধ্যমে কমিশন তাদের কোথায় কোথায় বন্দী রাখা হতো, তার একটি মানচিত্র অনুমান করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে এর একটি উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যেমন গুমের শিকার এক ব্যক্তি একটি বন্দিশালায় একটি অন্য ধরনের দরজা থাকার কথা বলেছেন। এর ফলে আমরা একটি কক্ষ শনাক্ত করতে পেরেছি, যেটি একসময় তিনটি আলাদা কক্ষে ভাগ করা ছিল।

যদিও আমাদের সেখানে পরিদর্শনের আগে ওই পার্টিশন ভেঙে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নিশ্চিত করতে সেখান থেকে আরও একটি প্রমাণ আমরা তালিকাভুক্ত করেছি।

এ ছাড়া বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার থেকে কমিশন একই বন্দিশালার ওই সব এলাকা চিহ্নিত করতে পেরেছে যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাধারণ বন্দীদেরও রাখা হতো। একই বন্দিশালায় এভাবে অবৈধ ও বৈধ বন্দীদের পালা করে রাখার বিষয়টি কমিশন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিদের আড়াল করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয় এবং এ বিষয়ে পরবর্তীকালে আরও তদন্তের প্রয়োজন।

গুমের জন্য কীভাবে টার্গেট করা হতো, নজরদারি হতো যেভাবে বন্দীদের যেসব কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, যেখানে তাদের আটকে রাখা হতো এবং যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হতো, কমিশনের কর্মকর্তারা সেসব জায়গা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৮ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে গুম কমিশন

আপডেট সময় : ০৭:১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

 

বাংলাদেশে গুম ব্যক্তিদের আটক রেখে নির্যাতন করা হতো, এমন ৮টির বেশি গোপন বন্দিশালা শনাক্ত করেছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। কমিশনের ভাষ্যমতে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‌্যাব ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মতো সংস্থাগুলো এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করত।

দেশজুড়ে এসব গোপন বন্দিশালায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখা হতো। পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের কাউকে কাউকে সাধারণ বন্দীদের সঙ্গেও রাখা হতো। গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এসব গা শিউওে ওঠা চিত্র উঠে এসেছে।

আন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। যার শিরোনাম করা হয়েছে আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনায় কমিশনে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৫৮টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের কীভাবে দিনের পর দিন সবার চোখের আড়ালে বন্দী করে রাখা হতো, তা উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে বন্দী করে রাখা হতো। তাদের ৪৮-৬০ ঘণ্টা থেকে কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস, এমনকি কয়েকজনকে আট বছর পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হয়।

সাধারণ একটি ধারণা রয়েছে যে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের শুধু গোপন বন্দিশালায়ই আটকে রাখা হতো। তবে গুম হওয়ার পর জীবিত ফিরে আসতে পারা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারে বেরিয়ে এসেছে যে অনেককে এমন সব বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল, যেখানে সাধারণ বন্দীদেরও রাখা হতো।

এর উদাহরণ হিসেবে গোয়েন্দাদের হাতে বন্দী ব্যক্তিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এভাবে বৈধ ও অবৈধ বন্দীদের একই বন্দিশালায় রাখার কারণে গুমের শিকার ব্যক্তিরা বন্দিদশায় কী জটিল অবস্থার মধ্যে থেকেছেন, তা ধারণা করা যায়।

একই চত্বরের ভেতর বন্দীদের অবৈধ কক্ষ থেকে বৈধ বন্দীদের কক্ষে সরিয়ে নেওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। গুম কমিশন বলছে, খুব সম্ভবত গুমের শিকার ব্যক্তিদের বৈধ বন্দীদের সঙ্গে রাখার মাধ্যমে তাদের অবৈধভাবে আটক রাখার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো।

বেঁচে ফেরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিস্তারিত সাক্ষাৎকার নেওয়ার মাধ্যমে কমিশন তাদের কোথায় কোথায় বন্দী রাখা হতো, তার একটি মানচিত্র অনুমান করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে এর একটি উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, যেমন গুমের শিকার এক ব্যক্তি একটি বন্দিশালায় একটি অন্য ধরনের দরজা থাকার কথা বলেছেন। এর ফলে আমরা একটি কক্ষ শনাক্ত করতে পেরেছি, যেটি একসময় তিনটি আলাদা কক্ষে ভাগ করা ছিল।

যদিও আমাদের সেখানে পরিদর্শনের আগে ওই পার্টিশন ভেঙে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নিশ্চিত করতে সেখান থেকে আরও একটি প্রমাণ আমরা তালিকাভুক্ত করেছি।

এ ছাড়া বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার থেকে কমিশন একই বন্দিশালার ওই সব এলাকা চিহ্নিত করতে পেরেছে যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাধারণ বন্দীদেরও রাখা হতো। একই বন্দিশালায় এভাবে অবৈধ ও বৈধ বন্দীদের পালা করে রাখার বিষয়টি কমিশন গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিদের আড়াল করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয় এবং এ বিষয়ে পরবর্তীকালে আরও তদন্তের প্রয়োজন।

গুমের জন্য কীভাবে টার্গেট করা হতো, নজরদারি হতো যেভাবে বন্দীদের যেসব কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, যেখানে তাদের আটকে রাখা হতো এবং যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হতো, কমিশনের কর্মকর্তারা সেসব জায়গা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।