ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স রাতে মদের আসরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সকালে ধৃত ৩ ধর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ ৩ লাখ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের  হত্যার ফরমান নিয়ে দিনযাপন করছেন, জুলাই যোদ্ধা আমিরুল সীমান্তে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ: মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির নতুন বার্তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী পেট্রোবাংলার  চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত

স্পেনে বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধতার সুযোগ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপের দেশ স্পেন-এ বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসীর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। নতুন একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচির আওতায় এসব অভিবাসী আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ-এর নেতৃত্বাধীন সরকার মঙ্গলবার এই কর্মসূচি অনুমোদন করে। ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ১৬ এপ্রিল থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রথমে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সশরীরে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

নতুন এই উদ্যোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নথিহীন অভিবাসীরা এক বছরের জন্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং অন্তত পাঁচ মাস দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে।

পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। এই সাময়িক অনুমতি পাওয়ার পর এক বছর শেষে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগও তৈরি হবে।

বিশ্বজুড়ে যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, তখন স্পেন সরকারের এই পদক্ষেপকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এই উদ্যোগকে ‘অন্যায্য ও অটেকসই’ বলে সমালোচনা করেছেন। এমনকি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সরকার বলছে, জনসংখ্যার গড় বয়স দ্রুত বাড়তে থাকায় শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর প্রয়োজন। সেই ঘাটতি পূরণে অভিবাসীদের বৈধতার আওতায় আনা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ পদক্ষেপকে ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে আনন্দের সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন শহরে তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বৈধতা পেলে কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ বাড়বে।

দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকা অভিবাসীদের জন্য স্পেন সরকারের এই উদ্যোগ নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্পেনে বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধতার সুযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপের দেশ স্পেন-এ বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসীর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। নতুন একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচির আওতায় এসব অভিবাসী আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ-এর নেতৃত্বাধীন সরকার মঙ্গলবার এই কর্মসূচি অনুমোদন করে। ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ১৬ এপ্রিল থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

প্রথমে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সশরীরে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।

নতুন এই উদ্যোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নথিহীন অভিবাসীরা এক বছরের জন্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন। আবেদনকারীদের অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং অন্তত পাঁচ মাস দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হবে।

পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। এই সাময়িক অনুমতি পাওয়ার পর এক বছর শেষে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগও তৈরি হবে।

বিশ্বজুড়ে যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে, তখন স্পেন সরকারের এই পদক্ষেপকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নেজ ফেইহো এই উদ্যোগকে ‘অন্যায্য ও অটেকসই’ বলে সমালোচনা করেছেন। এমনকি প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সরকার বলছে, জনসংখ্যার গড় বয়স দ্রুত বাড়তে থাকায় শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর প্রয়োজন। সেই ঘাটতি পূরণে অভিবাসীদের বৈধতার আওতায় আনা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এ পদক্ষেপকে ‘ন্যায়সংগত ও প্রয়োজনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্তে আনন্দের সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন শহরে তাঁদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, বৈধতা পেলে কর্মসংস্থান, বাসস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ বাড়বে।

দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় থাকা অভিবাসীদের জন্য স্পেন সরকারের এই উদ্যোগ নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।