শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে ফ্রান্স

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৭ Time View

শেখ হাসিনা ও ইমানুয়েল মাক্রোঁ ছবি: বাসস

‘রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের পাশে থাকবে ফ্রান্স।’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী জিন কাস্টেক্সসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার আলোচনা চলাকালে ফ্রান্সের নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মোমেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানে না পৌঁছা পর্যন্ত ফ্রান্স আন্তরিকভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

বুধবার ফ্রান্সের প্যারিসে সাংবাদিক বৈঠকে এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এসময় ড. মোমেন জানান, ফ্রান্স জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ হওয়ায় পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পদক্ষেপ নিতে ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন বংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ড. মোমেন বলেন, ফ্রান্সের সব নেতা বিশেষকরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককালে রোহিঙ্গা ইস্যুর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিষয়টি ফ্রান্সের নেতাদের অবহিত করা হয়। এসময় ড. মোমেন জানান, আমরা দ্বিপাক্ষিক,

ত্রিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এমন কী আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিটি) গিয়েছি। মিয়ানমার এই সমস্যা সৃষ্টি করেছে এবং এর সমাধানও তাদের হাতেই রয়েছে।

মিয়ানমারের সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থান ইস্যুর বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, এই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ মিয়ানমারের সামরিক জান্তা শাসকদের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করেনি। আমরা ফ্রান্সের নেতাদের বলেছি, পশ্চিমা বিশ্ব মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তারা মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি বন্ধ করে দিয়েছে।

ড. মোমেন জানান, এক্ষেত্রে ফ্রান্সের প্রশ্ন, সামরিক সরকার চলাকালে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য সংলাপের ব্যাপারে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে কিনা। তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে বলেছি যে ১৯৭০ ও ১৯৯০ এর দশকে মিয়ানমারে সামরিক সরকার থাকা অবস্থায় তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করেছে।

এই প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ১৯৯২ সালে প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে এবং তাদের মধ্যে ২ লাখ ৩৬ হাজার জনকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয় এবং ১৯৭০’র দশকেও একই কাজ করা হয়।

আমরা ফ্রান্সকে আমনরা বলেছি যে, গত চার বছর ধরে দেশটির রাখাইন রাজ্যে কোন সংঘাত ঘটেনি। এখানে কোন সহিংসতা হয়নি। কাজেই, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর এখন উপযুক্ত সময়।

বিদেশ মন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সের নেতারা বাংলাদেশের কাছে জানতে চেয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুর ব্যাপারে আসিয়ান’কে কিছু জানানো হয়েছে কিনা। আমরা বলেছি, অবশ্যই আমরা আসিয়ান’কে জানিয়েছি। ফ্রান্স বলেছে, তারা আসিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা আসিয়ানকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223