ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় লক্ষ্যবস্তু শিশুরা: জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিনিয়োগ, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও রাজনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রা পলাশীর ইতিহাস বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করার ইতিহাস দুর্যোগকবলিত উপকূল সুরক্ষায় জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক স্থগিত

কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সংকট ও পর্যাপ্ত লবণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার যে চিত্র দেখা যেত, তা বন্ধ করতে এবার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কিনেছে সরকার। এই লবণ বিনামূল্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোরবানির পরপরই চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশের চামড়া শিল্প রক্ষায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, কাঁচা চামড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি উপখাত।

কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদিরের সভাপতিত্বে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও দামনির্ধারণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়, তার বড় অংশ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা, মাদরাসা ও সাধারণ মানুষ। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে মাঠে নেমেছে সরকার।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর মাধ্যমে  দেশের জেলা ও উপজেলায় এই লবণ সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ব্যবসায়ী, মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এতে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির বলেন, কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেবে। এতে চামড়া সংরক্ষণ সহজ হবে এবং মানুষ ন্যায্যমূল্য পাবে।

চামড়া রক্ষায় বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করবে সরকার
কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

এদিকে কোরবানির পশুর চামড়ার দামও বাড়িয়েছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

 এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের চামড়া শিল্পে নতুন গতি আসবে। চামড়া নষ্ট কমলে রপ্তানি আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং এতিমখানা-মাদরাসাগুলোও বেশি অর্থ পাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার মান ও সুনাম আরও শক্তিশালী হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বহু বছরের সংকট কাটিয়ে এবার কোরবানির চামড়া হতে পারে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সম্ভাবনার খাত। আর সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই মডেল হিসেবেও বিবেচিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

আপডেট সময় : ০৮:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ সংকট ও পর্যাপ্ত লবণের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার যে চিত্র দেখা যেত, তা বন্ধ করতে এবার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কিনেছে সরকার। এই লবণ বিনামূল্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোরবানির পরপরই চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

সরকারের এই পদক্ষেপকে দেশের চামড়া শিল্প রক্ষায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, কাঁচা চামড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি উপখাত।

কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদিরের সভাপতিত্বে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও দামনির্ধারণে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়, তার বড় অংশ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন মৌসুমি ব্যবসায়ী, এতিমখানা, মাদরাসা ও সাধারণ মানুষ। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে মাঠে নেমেছে সরকার।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর মাধ্যমে  দেশের জেলা ও উপজেলায় এই লবণ সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ব্যবসায়ী, মসজিদ ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এতে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির বলেন, কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেবে। এতে চামড়া সংরক্ষণ সহজ হবে এবং মানুষ ন্যায্যমূল্য পাবে।

চামড়া রক্ষায় বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করবে সরকার
কোরবানির পশুর চামড়া রক্ষায় সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ, শক্তিশালী হবে অর্থনীতি

এদিকে কোরবানির পশুর চামড়ার দামও বাড়িয়েছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

 এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের চামড়া শিল্পে নতুন গতি আসবে। চামড়া নষ্ট কমলে রপ্তানি আয় বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং এতিমখানা-মাদরাসাগুলোও বেশি অর্থ পাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়ার মান ও সুনাম আরও শক্তিশালী হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বহু বছরের সংকট কাটিয়ে এবার কোরবানির চামড়া হতে পারে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সম্ভাবনার খাত। আর সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি টেকসই মডেল হিসেবেও বিবেচিত হবে।