ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে

ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিস্তৃত সংস্কার : কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা 
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৫২ বার পড়া হয়েছে

ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিস্তৃত সংস্কার : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেছেন, বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাকে টেকসই ভিত্তিতে দাঁড় করাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোয় এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ এবং ‘এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের আর্থিক খাত দ্রুত অবমূল্যায়িত মুদ্রা, কমে যাওয়া রিজার্ভ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট এবং বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার মতো সংকটে জর্জরিত ছিল। “বিনিময় হার স্থিতিশীল না হলে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই অসম্ভব”—উল্লেখ করে গভর্নর জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১২০ টাকা; বর্তমানে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় তা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

গভর্নর জানান, বৈদেশিক খাত এখন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলতি হিসাব উদ্বৃত্তে থাকায় এবং আর্থিক হিসাবেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এক বছর আগে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাওয়া রিজার্ভ বর্তমানে ১০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুদহার কমানোর কোনো সুযোগ আপাতত নেই জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ১২.৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশের একটু ওপরে নেমে এলেও বাস্তব সুদহার ইতিবাচক রাখতে হবে। মুদ্রানীতি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক থাকবে; সুদহারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা আনার পর প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশের বেশি দেখা গেছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. মনসুর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানত বীমা আইন, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারও অগ্রগতি পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আর্থিক খাতকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে সময় লাগবে। তবে শুরু করা কাঠামোগত সংস্কারগুলো অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে এর সুফল স্পষ্ট হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিস্তৃত সংস্কার : কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর

আপডেট সময় : ০৭:০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেছেন, বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাকে টেকসই ভিত্তিতে দাঁড় করাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোয় এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ এবং ‘এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের আর্থিক খাত দ্রুত অবমূল্যায়িত মুদ্রা, কমে যাওয়া রিজার্ভ, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট এবং বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার মতো সংকটে জর্জরিত ছিল। “বিনিময় হার স্থিতিশীল না হলে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই অসম্ভব”—উল্লেখ করে গভর্নর জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১২০ টাকা; বর্তমানে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় তা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

গভর্নর জানান, বৈদেশিক খাত এখন উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। চলতি হিসাব উদ্বৃত্তে থাকায় এবং আর্থিক হিসাবেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এক বছর আগে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে যাওয়া রিজার্ভ বর্তমানে ১০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুদহার কমানোর কোনো সুযোগ আপাতত নেই জানিয়ে ড. মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ১২.৫ শতাংশ থেকে কমে ৮ শতাংশের একটু ওপরে নেমে এলেও বাস্তব সুদহার ইতিবাচক রাখতে হবে। মুদ্রানীতি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক থাকবে; সুদহারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা আনার পর প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশের বেশি দেখা গেছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. মনসুর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানত বীমা আইন, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারও অগ্রগতি পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “আর্থিক খাতকে পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে সময় লাগবে। তবে শুরু করা কাঠামোগত সংস্কারগুলো অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে এর সুফল স্পষ্ট হবে।”