ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

শহিদুজ্জামান উজ্জ্বল, শার্শা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমদানি কম, শুল্কফাঁকি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যে

 দেশের সর্ববৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যপূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আমদানি কমে যাওয়া, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে শুল্কফাঁকিই মূলত ঘাটতির কারণ।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য নিরাপত্তায় দুর্বলতার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি দিচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বিদ্যমান আমদানি নিষেধাজ্ঞা বন্দরের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা ও দ্রুত পণ্য খালাস না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হলে আমদানি ও রাজস্ব আয় দুটোই বৃদ্ধি পাবে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, নিরাপত্তা প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশির কারণে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ভারতীয় বন্দরগুলোর মতো আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন হলে বাণিজ্য গতি বাড়বে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৬০০-৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়, কিন্তু বর্তমানে তা ২৫০ ট্রাকের আশপাশে সীমাবদ্ধ। এর ফলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শ্রমিক ও পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক রাজস্ব আদায় ছিল – জুলাই: ৫৪৪.০৪ কোটি, আগস্ট: ৪৪৭.৯৩ কোটি, সেপ্টেম্বর: ৫১৩.৫৮ কোটি, অক্টোবর: ৪৪৯.২৮ কোটি, নভেম্বর: ৫৬৪.৪১ কোটি, ডিসেম্বর: ৬০০.৮১ কোটি টাকা। শুল্কফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

আপডেট সময় : ০১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আমদানি কম, শুল্কফাঁকি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যে

 দেশের সর্ববৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যপূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আমদানি কমে যাওয়া, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে শুল্কফাঁকিই মূলত ঘাটতির কারণ।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য নিরাপত্তায় দুর্বলতার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি দিচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বিদ্যমান আমদানি নিষেধাজ্ঞা বন্দরের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা ও দ্রুত পণ্য খালাস না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হলে আমদানি ও রাজস্ব আয় দুটোই বৃদ্ধি পাবে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, নিরাপত্তা প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশির কারণে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ভারতীয় বন্দরগুলোর মতো আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন হলে বাণিজ্য গতি বাড়বে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৬০০-৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়, কিন্তু বর্তমানে তা ২৫০ ট্রাকের আশপাশে সীমাবদ্ধ। এর ফলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শ্রমিক ও পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক রাজস্ব আদায় ছিল – জুলাই: ৫৪৪.০৪ কোটি, আগস্ট: ৪৪৭.৯৩ কোটি, সেপ্টেম্বর: ৫১৩.৫৮ কোটি, অক্টোবর: ৪৪৯.২৮ কোটি, নভেম্বর: ৫৬৪.৪১ কোটি, ডিসেম্বর: ৬০০.৮১ কোটি টাকা। শুল্কফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।