ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গোপন প্রেম, গোপন বিয়ে থেকে করুণ পরিণতি আলোঝলমলে জীবন আর করুণ সমাপ্তি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি নয়, থাকবেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা   সার্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি অপরাধ দমনে কঠোর বার্তায় আশ্বস্ত সাধারণ মানুষ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত অন্তত ৩২ যে কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুণ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি অনিশ্চিত নতুন সরকারের শপথে থাকবেন প্রায় এক হাজার অতিথি

বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

শহিদুজ্জামান উজ্জ্বল, শার্শা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমদানি কম, শুল্কফাঁকি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যে

 দেশের সর্ববৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যপূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আমদানি কমে যাওয়া, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে শুল্কফাঁকিই মূলত ঘাটতির কারণ।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য নিরাপত্তায় দুর্বলতার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি দিচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বিদ্যমান আমদানি নিষেধাজ্ঞা বন্দরের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা ও দ্রুত পণ্য খালাস না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হলে আমদানি ও রাজস্ব আয় দুটোই বৃদ্ধি পাবে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, নিরাপত্তা প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশির কারণে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ভারতীয় বন্দরগুলোর মতো আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন হলে বাণিজ্য গতি বাড়বে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৬০০-৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়, কিন্তু বর্তমানে তা ২৫০ ট্রাকের আশপাশে সীমাবদ্ধ। এর ফলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শ্রমিক ও পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক রাজস্ব আদায় ছিল – জুলাই: ৫৪৪.০৪ কোটি, আগস্ট: ৪৪৭.৯৩ কোটি, সেপ্টেম্বর: ৫১৩.৫৮ কোটি, অক্টোবর: ৪৪৯.২৮ কোটি, নভেম্বর: ৫৬৪.৪১ কোটি, ডিসেম্বর: ৬০০.৮১ কোটি টাকা। শুল্কফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

আপডেট সময় : ০১:০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আমদানি কম, শুল্কফাঁকি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যে

 দেশের সর্ববৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যপূরণে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত ৪ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ সময়ে আদায় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ১২০ দশমিক ০৫ কোটি টাকা, যার ফলে প্রায় ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আমদানি কমে যাওয়া, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে শুল্কফাঁকিই মূলত ঘাটতির কারণ।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য নিরাপত্তায় দুর্বলতার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্য পাচার করে শুল্কফাঁকি দিচ্ছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বিদ্যমান আমদানি নিষেধাজ্ঞা বন্দরের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

বেনাপোল সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, বৈধ সুবিধা ও দ্রুত পণ্য খালাস না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হলে আমদানি ও রাজস্ব আয় দুটোই বৃদ্ধি পাবে।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, নিরাপত্তা প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক আটকে তল্লাশির কারণে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ভারতীয় বন্দরগুলোর মতো আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন হলে বাণিজ্য গতি বাড়বে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৬০০-৭০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়, কিন্তু বর্তমানে তা ২৫০ ট্রাকের আশপাশে সীমাবদ্ধ। এর ফলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি শ্রমিক ও পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাসিক রাজস্ব আদায় ছিল – জুলাই: ৫৪৪.০৪ কোটি, আগস্ট: ৪৪৭.৯৩ কোটি, সেপ্টেম্বর: ৫১৩.৫৮ কোটি, অক্টোবর: ৪৪৯.২৮ কোটি, নভেম্বর: ৫৬৪.৪১ কোটি, ডিসেম্বর: ৬০০.৮১ কোটি টাকা। শুল্কফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে জরিমানাসহ কাস্টমস আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, বছরের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।