ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ভেঙে পড়া এবং প্রণালী অবরোধের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে পৌঁছায়, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠে যায়।

এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধ কেবল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অবরোধ পরিকল্পনাকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অবরোধ কার্যকর হলে এই রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দৈনিক ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই স্থগিত থাকা প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ যুক্ত হলে বৈশ্বিক বাজারে সংকট আরও গভীর হবে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করবেন, যা বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হেজ ফান্ড ও জ্বালানি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন।

এদিকে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনাও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখা, কিন্তু এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকেরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নিলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে।

বিশেষ করে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক পরিবহন ও শিল্প খাতকে প্রভাবিত করবে।

একই সঙ্গে তেলের স্পট মার্কেট ও আগাম বাজারের দামের ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা সরবরাহ সংকটের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ভেঙে পড়া এবং প্রণালী অবরোধের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে পৌঁছায়, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠে যায়।

এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধ কেবল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

কারণ, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অবরোধ পরিকল্পনাকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অবরোধ কার্যকর হলে এই রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দৈনিক ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই স্থগিত থাকা প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ যুক্ত হলে বৈশ্বিক বাজারে সংকট আরও গভীর হবে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।

একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করবেন, যা বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। হেজ ফান্ড ও জ্বালানি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন।

এদিকে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনাও কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু রাখা, কিন্তু এ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকেরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, এই উত্তেজনা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নিলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটাতে পারে।

বিশেষ করে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক পরিবহন ও শিল্প খাতকে প্রভাবিত করবে।

একই সঙ্গে তেলের স্পট মার্কেট ও আগাম বাজারের দামের ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা সরবরাহ সংকটের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।