বিশেষ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার: বিএনপি
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
ভোটার স্থানান্তরের সাম্প্রতিক তথ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হওয়া স্বাভাবিক নয় এবং বিষয়টি সন্দেহজনক।
রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরতে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ওই বৈঠকে অংশ নেয়।
নজরুল ইসলাম খান জানান, বৈঠকে ভোটার স্থানান্তরের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে নির্বাচন কমিশন জানায়, স্থানান্তরের সংখ্যা অতিরিক্ত নয় এবং কোনো আসনে দু–তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়নি। তবে বিএনপি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, বিএনপির কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। অনেক বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং এ বিষয়ে ইসিকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গ বা সঠিক নয়। এ কারণে বিএনপি আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চেয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসকে আঘাত করে বক্তব্য দিচ্ছেন, অথচ নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদস্যদের প্রথমবারের মতো নির্বাচনী কাজে যুক্ত করার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানায় বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের মতো একটি সংবেদনশীল শ্রেণিকে নির্বাচনসংক্রান্ত জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা সমীচীন নয়। এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে।
বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ‘শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষার’ নামে তথাকথিত শান্তি কমিটি গঠনের গুঞ্জন প্রসঙ্গেও উদ্বেগ জানান তিনি। বলেন, ‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি বিএনপির কাছে ঐতিহাসিকভাবে নেতিবাচক অর্থ বহন করে, যদিও দলটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষেই রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, এবার দেশীয় ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তেমন পরিচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও বিষয়টি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।












