রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ-ভারত সম্ভাবনাময় নৌবাণিজ্য, গোমতীর বুক চিড়ে সোনামুড়ায় ভিড়বে পণ্যবাহী কার্গো

উদয়ন চৌধুরী, ঢাকা
  • প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৪০৩

জলপথ অধিক পণ্য পরিবহন,  নিরাপদ এবং কমপেক্ষে ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী 

বর্ষা মৌসুমে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌবাণিজ্য শুরু হচ্ছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই গোমতীর বুক চিড়ে পণ্যবাহী কার্গো ভিড়বে ত্রিপুরার সোনামুড়ায়। দুই দেশের সুদৃঢ়বন্ধনকে সঙ্গী করে নৌবাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে  উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এককাতারে। এ ক্ষেত্রে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা নৌবাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ১০টি জলপথ চালু রয়েছে। তার মধ্যে কলকাতা, হলদিয়া ও ব্যান্ডেল পোর্ট থেকে ফ্লাইঅ্যাশ নিয়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০০ জাহাজ নিয়মিত বাংলাদেশে চলাচল করছে।

এছাড়া কলকাতা-অসমের ধুবড়ি, পান্ডু ও শিলঘাট, বাংলাদেশের আশুগঞ্জ থেকে অসমের করিমগঞ্জ ও বদরপুর এবং দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনামুড়ায় পণ্যপরিবাহিত হচ্ছে। তবে,

দাউদকান্দি-সোনামুড়া এবং আশুগঞ্জ-করিমগঞ্জ নৌরুটটি শুকনো মৌসুমে নাব্যতা কমে গিয়ে

পণ্যপরিবহনের সুযোগ সংকটময় করে তোলার কথা জানালেন বাংলাদেশের প্রিমিয়ার সিমেন্টের বৈদেশিক বাণিজ্যিক আধিকারীক ড. সালাহ্ উদ্দিন।

বিশেষ করে গোমতী এবং কুশিয়া নৌরুটে আড়াই থেকে তিন মিটার জল থাকলে সারাবছর পণ্যপরিবাহিত করা সম্ভব হবে বলে জানালেন ড. সালাহ্ উদ্দিন। তিনি আরও জানান, উত্তরপূর্ব

ভারতে বাংলাদেশের নানা পণ্যের বিশেষ করে সিমেন্টের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। জলপথে অধিক পরিমাণে পণ্যপরিবহন সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। এতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সাশ্রয় হবে। যার

সুবিধাভোগী হবে উত্তরপূর্ব ভারতের আমজনতা। তিনি বলেন, জলপথে নিয়মিত সিমেন্ট পরিবহন করা গেলে প্রতি ব্যাগে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ টাকা সাশ্রয় হবে।

সিলেটের জকিগঞ্জ এবং অসমের করিমগঞ্জের মধ্যে চালু জলপথ দুটো দিয়েও নিয়মিত পণ্যপরিবহনের উদ্যোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে এই জলপথে করিমগঞ্জে সিমেন্ট পরিবহন করেছেন প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানী।

অন্যদিকে মোংলা বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী ট্রেন সরাসরি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর দিয়ে অসমের করিমগঞ্জের মৈশাষন পৌছে যাবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রেল সংযোগ বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।

অপর দিকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হলেই চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে ত্রিপুরা। রাজ্যটির বিলোনিয়া থেকে বাংলাদেশের ফেনী পর্যন্ত অতিরিক্ত ৬ কিলোমিটার রেলপথ

আগেই ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি অব্যবহৃত। নতুন করে এই সংযোগটি হলে সরাসরি পণ্য যাবে ত্রিপুরা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরত্বে খাগড়াছড়ির রামগড়ে মৈত্রী সেতু রয়েছে। এটি চালু হলে সাকুল্যে ৪ ঘন্টায় ত্রিপুরা পৌছাবে পণ্যবাহী লরি।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটির কাজ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে চলতি বছরেই। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এটি চালু হবে। তখন আগরতলা থেকে কলকাতাগামী ট্রেন পদ্মা

সেতু দিয়ে মাত্র ৫ ঘণ্টায় পৌছে যাবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত যোগাযোগ নয়া নজির গড়তে যাচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম

এর আগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রোটোকল রুটের ডিরেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, বাংলাদেশের দাউদকান্দি থেকে

ত্রিপুরার সোনামুড়া পর্যন্ত ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে। এ বারে রাজশাহীর গোদাগড়ি থেকে পশ্চিবঙ্গের ধুলিয়ানের ময়ার পর্যন্ত জলপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১২

অক্টোবর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জলপথটির বাংলাদেশ অংশ পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশ-ভারত নৌপ্রোটকল রুটের ডিরেক্টর রফিকুল ইসলামও ছিলেন। শুকনো মৌসুমে এই জলপথে কমপক্ষে পাঁচশো থেকে ছশো মেট্রিক টন পণ্য পরিবহন করার মতো

কার্গো ভেসেল চলাচল করতে পারবে। আর বর্ষায় কমপক্ষে হাজার টনের ভেসেল অনায়াসেই চলাচল করতে পারবে বলে বলা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, অপর জলপথটি হচ্ছে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ থেকে সিলেটের জকিগঞ্জ হয়ে অসমের করিমগঞ্জ। এই রুটটি একটি দীর্ঘ জলপথ হলেও এটি সম্ভাবনাময়। ভারতই এই জলপথটি বেশি ব্যবহার করে থাকে। এর নব্যতা ধরে রাখতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে।

ড. হবিবুর রহমান

বাংলাদেশ-ভারত কানেক্টিভিটি নেটওয়ার্কের (বিবিসিএন) প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. হবিবুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে জলপথ-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সচল রয়েছে ১০টি জলপথ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এসব জলপথ নিয়ে গবেষণায় হাত লাগিয়েছি। দু’দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত মত বিনিময় জোরদার করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, দু’দেশের উদ্যোগে জলপথগুলো সচল রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জলপথ মূলত নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং কম সময়ে পণ্যপরিবহন সম্ভব। এতে করে উভয় দেশ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

আকলিমা চৌধুরী আঁখি

বিশিষ্ট সমাজচিন্তক আকলিমা চৌধুরী আখির মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে জলপথ। এর ফলে দিন দিন ঝুঁকিমুক্ত পণ্যপরিবহন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জলপথগুলো খননের মাধ্যমে নাব্যতা ধরে রাখা সম্ভব হলে শুকনো ও বর্ষার মৌসুমে বাধাহীন পণ্যপরিবহন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী

নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে দু’দেশের সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌছেছে। এ বন্ধন অটুট ও সুদৃঢ় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223