বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন সরকার প্রধানকে গার্ড অব অনার এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবউদ্দিন বীরবিক্রম

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৬২ Time View

বুট জুতোয় মাটি কাঁপিয়ে চলে গার্ড অব অনার। হাজারো মানুষের কণ্ঠে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে বৈদ্যনাতলার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত। তারমধ্যেই মাহবুব উদ্দিনের কমান্ড আকাশ-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।পতাকাটা বাতাসে  পতপত করে উড়ছে। সেই পতাকায় দেখতে পেলাম বঙ্গবন্ধুর মুখ।

 

ঋদ্ধিমান, ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক পুলিশ অফিসার। ২৩-২৪ বছরের টগবগে এক যুবক। তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশ প্রশাসক (এসডিপিও) তিনি। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। মাথার ওপরে পত পত করে উড়ছে লালসবুজে খচিত বাংলাদেশের পতাকা। সেই পতাকায় দেখতে পান বঙ্গবন্ধুর মুখ। এরপর গার্ড অব অনার দেন মাহবুব উদ্দিন। গর্জে ওঠে তার কন্ঠ। খালি গলার কমান্ডে কেঁপে ওঠে বৈদ্যনাথতলার আকাশ-বাতাস।

মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ

এক ঐশ্বরিক শক্তি ভর করে তার মাঝে। বুট জুতোয় মাটি কাঁপিয়ে চলে গার্ড অব অনার। হাজারো মানুষের জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে বৈদ্যনাতলার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত। তারমধ্যেই মাহবুব উদ্দিনের কমান্ড আকাশ-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বিনা মাইকে এমনি কমান্ডের শক্তি কোথা থেকে এলো তা তিনি বলতে পারবেন না। কারণ তখন তার মনে প্রাণে একটাই ছবি তাহলো বঙ্গবন্ধুর মুখ।

স্মৃতির পথ বেয়ে চলে গেলেন পঞ্চাশ বছর আগের মেহেরপুরে। এক যুবক পুলিশ অফিসার। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো ‘সেদিনের কমান্ড’? কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন তিনি।

তার গুলশান অফিসে বসে কথা হচ্ছিল।
তারপর? বলুন।

ফের স্মৃতির জানালা খুলে ধরেন প্রায় ৭৪ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। বললেন, তোমাকে আরও একটি কথা বলা হয়নি। তা হচ্ছে, ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে বাংলাদেশ সরকার গঠিত হবার পর দিন ১৮ এপ্রিল কলকতার পার্ক সার্কাস অ্যাভিনিউ’র তৎকালীন হাইকমিশন অফিসে প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

যা ছিলো বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন। যার উদ্যোগ নিয়েছিলেন হাইকমিশনের অন্যতম কর্মকর্তা হোসেন আলী। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু তাকে বৃটেনের রাষ্ট্রদূত করেন। বাংলাদেশের সেই পতাকা উত্তোলনকালে গার্ড অব অনার’র দায়িত্বও পালন করেন মাহবুব উদ্দিন। বল্লেন, জানো, এই দু’টো ঐতিহাসিক ঘটনা আজও আমার স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। মনে হচ্ছে, সেদিনের ঘটনা।

১৭ এপ্রিল কলকাকার থিয়েটার রোড থেকে সেদিন গাড়ি বহর নিয়ে প্রথম বাংলাদেশ সরকারের শপথ নিতে বৈদ্যানাথতলায় এসেছিলেন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানসহ অন্যান্যরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন, দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও।

নদিয়ার কৃষ্ণনগর দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান মুজিব নগরের দূরত্ব খুব একটা বেশি নয়। এই ধরো সর্বোচ্চ মাইল দু’য়েক বা তার কম হতে পারে। বললেন মাহবুবউদ্দিন।

এবারে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৬-২৭ বাংলাদেশ সফর করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি মুজিবনগর-কৃষ্ণনগরের মধ্যে স্বাধীনতা সড়কটির উদ্বোধন করেন। করোনার কারণে সেখানে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। নতুবা আমিতো অবশ্যই যেতাম।

স্বাধীনতা সড়কের বাংলাদেশ অংশটি এখন ডাবল লাইন করা হয়েছে। নদিয়া ও আশপাশের মানুষ এখন খুব সহজেই মুজিবনগর আসতে পারবেন এবং জাদুঘর থেকে শুরু করে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করতে পারবে।

আচ্ছা, মুজিবনগর সরকার বা বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে, আগে থেকে এমন কোন তথ্য আপনি জানতের কিনা?

বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন সরকার প্রধান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দিচ্ছেন,  তৎকালীন ঝিনাইদহের পুলিশ প্রশাসক (এসডিপিও) বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবউদ্দিন আহম্মদ বীরবিক্রম : ছবি সংগ্রহ

তোমাকে তো আগেই জানিয়েছি, আমি তখন তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমায় পুলিশ প্রশাসক (এসডিপিও)। ১৭ এপ্রিল সকাল বেলা খবর পেলাম আমাকে বৈদ্যনাথতলায় যেতে হবে। কারণ সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেবে।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পৌছুলাম বৈদ্যনাথতলায়। তাতে খুব একটা সময় লাগেনি। এই ধরো ঘন্টাখানেক। মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলা। সেখানে গিয়ে দেখতে পেলাম একটি ছোট আকারের মঞ্চ। তারমধ্যে কয়েকটি পুরানো চেয়ার ও একটি ছোট টেবিল।

মঞ্চের এক কোনায় একটা সরু বাশ পোঁতা। মঞ্চ ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভীড়। মঞ্চের পাশে প্রহরায় ভারতীয় কমান্ডো বাহিনীর ক’জন সদস্য। একটু দূরে একটা হারমোনিয়ামে চলছিল জাতীয় সংগীতের রিহার্সেল। হারমোনিয়াম থেকে শুরু করে সব কিছুই সংগ্রহ করা। এই ধরো তখন বেলা ১১টা হবে। গাড়িবহর নিয়ে কলকাতা থেকে নেতৃবৃন্দ বৈদ্যনাথতলায় উপস্থিত হলেন।

কিছুক্ষণ মধ্যে মঞ্চে আসন নিলেন তাঁরা। এরপর ঘোষণা দেওয়া হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী প্রধান সেনাপতি।

অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন, টাংগাইলের জননেতা আব্দুল মান্নান, এমএনএ। পরিচয় পর্বের পর শপথ বাক্য পাঠ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী, এমএনএ।

এরপর, এরপর কি হলো বলুন?

এবারে স্মৃতির অতলে ডুব দিলেন মাহবুব উদ্দিন। তিনি মাঝে মাঝে কেঁপে ওঠছিলেন। বোঝা যাচ্ছিল তার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করছে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, বঙ্গবন্ধুর মুখ, গণহত্যা ইত্যাদি তার চোখের সামনে ভেসে ওঠছে। এবারে সোজা হয়ে বসলেন, বীরযোদ্ধা।

জানো এরপরই আমার পালা। এটিকে জীবনের মাহেন্দ্রক্ষণই বলবো। একটা জাতির ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রধানকে আমার নেতৃত্বে গার্ড অব অনার প্রদান করা হলো। আমি তৃপ্ত হলাম।

জীবনে আর কোন দিন এমন করে গর্জে ওঠে কমান্ড দেওয়ার সুযোগও পাব কিনা সন্দেহ। যখন গার্ড অব অনার দিচ্ছিলাম, তখন ক্যামের অসংখ্য ফ্লাশ জ্বলে ওঠছিলো। সেই মানুষের জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস কেঁপে ওঠেছিলো।

গার্ড অব অনার বিষয়ে তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি। গার্ড অব অনার’র দায়িত্ব পালনের কথা ছিলো তৎকালীন ইপিআর (বর্তমান বিজিবি) সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর। অজ্ঞাত কারণে তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। এসময় হন্তদন্ত হয়ে বন্ধু তৌফিক-ই-এলাহী (প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা) এসে বলল, ওসমান ভাইতো আসার কথা ছিল। কিন্তু উনি তো এলেন না। এখন কি করি? গার্ড অব অনার কী করে দেওয়া যায় চিন্তা করো।

আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম, তুমি কোনো চিন্তা করো না। আমি একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে বহু গার্ড অব অনার দিয়েছি এবং নিয়েছি। সব ঠিক করে নেবো। এরপর আমি তৎক্ষণিক গার্ড অব অনার’র ব্যবস্থা করি।

সেটা কিভাবে সম্ভব?

এই ধরো আমার সঙ্গে তিন-চারজন পুলিশ কনস্টবল ছিল। আর আশপাশ থেকে কয়েক জন আনসারকে এনে কয়েক মিনিটের প্রশিক্ষণ দিলাম। তারপর বলাম আমি প্রস্তুত। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন। পেছনে প্রধান সেনাপতি কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী। মঞ্চের বাঁ দিকে মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মদ। অন্য সবাই মঞ্চের পাশে অপেক্ষা করছেন।

এ অবস্থায় আমার নেতৃত্বে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার প্রদান করলাম। প্রেজেন্ট আর্মস করে সৈনিকেরা যখন তাদের রাইফেল উর্ধ্বমুখী করে দাঁড়াল তখন আমি হাত তুলে তাঁকে স্যালুট দিলাম। তিনি স্যালুট গ্রহণ করলেন।

আর সঙ্গে সঙ্গে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটি বেজে উঠল। এরপর মঞ্চের পাশে সরু বাঁশটিতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

বাতাসে পতাকাটা পতপত করে উড়ছে। সেই পতাকায় দেখতে পেলাম বঙ্গবন্ধুর মুখ। পতাকা উত্তোলনের পর মঞ্চে দাঁড়ালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংগীত শেষে কমান্ড দিয়ে সালাম শেষ হলো। রাইফেলধারীদের অস্ত্র নেমে এল ঘাড়ে। আমিও হাত নামালাম। কুইক মার্চ করে সামনে এগিয়ে গেলাম দু’কদম। তারপর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে বললাম, ‘স্যার, আমাদের দল আপনার পরিদর্শনের অপেক্ষায়।’

তিনি ধীর পদক্ষেপে মঞ্চ থেকে নেমে এলেন। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গার্ড অব অনার পরিদর্শন করলাম। অবশেষে তিনি আবার মঞ্চে ফিরে গেলেন। আমি সৈনিকদের সামনে দাঁড়িয়ে আবার তাঁকে সালাম জানিয়ে বললাম, ‘আমি এখন সৈনিকদের নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাই।’ তিনি অনুমতি দিলেন।

এরপর আমি মার্চপাস্ট করে মঞ্চের সামনে থেকে সরে গেলাম। এসময় উপস্থিত হাজারো মানুষের কণ্ঠ এক সঙ্গে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে বৈদ্যনাথতলার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। সে এক অভূতপূর্ব মুর্হূর্তো। অনুধাবন করা যায়। ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

পরিবর্তিতে মঞ্চে আসেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ। তিনি কয়েকজনকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ঘোষণা দিলেন, আজ থেকে বৈদ্যনাথতলার নাম হবে ‘মুজিবনগর’। আর এ মুজিবনগরই হবে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।

এখান থেকেই সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাজউদ্দি আহমদের ঐতিহাসিক ঘোষণায়ই বৈদ্যনাথতলা ‘মুজিবনগর’ নামে স্বীকৃতি পেল। আর এই মুজিবনগর সরকার গঠনের মধ্য দিয়েই গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীন বাংলার অস্তিত্বের কথা।

কে এই মাহবুব উদ্দিন
১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে সারদা পুলিশ একাডেমিতে যোগদান করেন। তৎকালীন যশোর জেলার অধীনে ঝিনাইদহ ছিল একটি মহকুমা। ১৯৭১ সালে ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশ প্রশাসক (এসডিপিও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বেই তিনি অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কুষ্টিয়া এবং ঝিনাইদহের জনযুদ্ধে স্থানীয় জনতাকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরাভূত করেন এবং তাদের সকল স্বংক্রিয় অস্ত্রসংগ্রহ করেন। এছাড়া ১০ ও ১২ এপ্রিল মান্দারতলায় পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংম নেন। এরপর ১৩ এপ্রিল বারোবাজারে পাকবাহিনীকে প্রতিরোধে অংশ নেন।

২০ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনীর বৈকারী ঘাঁটি আক্রমণে অংশগ্রহণ করে গুরুতর আহত অবস্থায় ব্যারাকপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেন। আহত এক যোদ্ধা রণাঙ্গনের পরিবর্তে হাসপাতালে, কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি মাতৃভূমিকে মুক্ত করার এক লড়াকু সৈনিক।

হাসপাতালের বিছানা তাকে মানায় না। বিছানায় ছটপট করতে থাকেন। অসামান্য দৃঢ়মনোবলের এই যোদ্ধা কখন ফিরে যাবেন রণাঙ্গনে! যেখানে মায়ের আঁচল তাকে আটকে রাখতে পারেনি, সেখানে হাসপাতালের বিছানায় আটকা পড়ে মাঝে মাঝেই খেপে ওঠছিলেন মাহবুবউদ্দিন।

এরপর ২৬ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর ফের রণাঙ্গনে ফিরে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করে।

উপসংহার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তি টেনে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার একটা বীজ পুতে রেখে গেলাম। এই বীজ যেদিন উৎপাটন করা হবে, সেদিন বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের সেই স্বপ্নের পথে এগোতে হবে। একাত্তরে সাধারণ মানুষ, আদিবাসীসহ সকল ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আর সেই যুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যুদ্ধ।

কথা শেষ

এবারে বিদায়ের পালা। ওঠে দাঁড়ালাম। তিনিও আর্শিবাদ করলেন, বললেন ভালো থেকে আর দেশের জন্য কাজ করো। তাঁর উপদেশ মাথায় নিয়ে মনে মনে তাকে গার্ড অব দিয়ে বেড়িয়ে আসতে আসতে বললাম, ‘বিদায় বীর যোদ্ধা এবং ইতিহাসের স্বাক্ষী মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।’

বি : দ্র : সাক্ষাকারটি প্রকাশিতব্য  বইয়ের  একটি অংশ

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223