ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের উন্নয়নের সারথী শেখ হাসিনা : রাহা কাজী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। আর এই বাংলাদেশের উন্নয়নের সারথী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাদার অব হিউম্যানেটি এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের মা বললেও ভুল হবে না। আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে অন্যচিত্র। তা আবার কেমন? তা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পর  বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবাওে হত্যা। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলার উন্নয়নের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এরপর ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। জাতিরজনকের হত্যাকারীকে তৎকালীন সময়ে পুরষ্কৃত করা হয়েছিলো। বলা যায়, স্বাধীনতার চেতনাকে নষ্ট করার সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিলো। স্বাধীনতা বিরোধী এবং স্বৈরাচার যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের অর্জিত সকল কিছুতেই ভিন্ন রূপ পেতে শুরু করেছিলো। জাতির জনকের হত্যার বিচার রুদ্ধ করা হয়েছিলো আইন করে। যা পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয়। দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রামের পর ৯৬ সালে বাংলার আকাশে উদীত হলো নতুন সূর্য। নতুন বাংলাদেশের পাখী আবার গান গাইতে শুরু করে। জনতার রায় নিয়ে দেশপরিচালনার দায়িত্ব এলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু না উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রুখে দিতে ফের ষড়যন্ত্র। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলো। কিন্তু না, বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষ কখনও  কোন ষড়যন্ত্র মেনে নিতে পারেনি। যার ধরুণ উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা বিরোধীদের কবল থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় মাঠে নামে আমজনতা। ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসলেন শেখ হাসিনা। এক দমে কথাগুলো বলে থামলেন রাহা কাজী। বোঝা যাচ্ছিল তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। কেন? সম্ভবনাময় দেশটিকে পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ৭১ যেমন ভুল করেনি, তেমনি ২০০৮ সালেও ভুল করলো না। তারা বিপুল ভোটে জয়ী করলো দেশগড়ার দুরদর্শি কারিগরকে।

 

অন্ধকার থেকে আলোয়

 ২০০৯ সালের প্রথমার্ধে  শেখ হাসিনা যখন ফের দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসলেন, তখন সারাদেশ ছিল প্রায় অন্ধকার! কারণ, সেই সময় বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন থেকে ঘন্টা লোডশেডিং চলতো। বিদ্যুতের উৎপাদন ছিলো মাত্র  হাজার তিনেক মেগাওয়াটের কিছুটা বেশি। শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ। সঠিক সময়ে তৈরি পোষাক শিল্পের রপ্তানি চালান পাঠাতে হিমশিম খেতে হতো। শিল্পউদ্যোক্ততারা অতিরিক্ত ব্যয় করে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করেছেন। রাহা কাজী বলেন, তখন আমরা দেখতে পাই, শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাত লাগালেন বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের। তিনি রাতারাতি অবস্থার উন্নয়নে এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ভাড়ার বিদ্যুৎ নিয়ে আসলেন। ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখতে পেলাম আমরা। আজকের মধ্যম আয়ের বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে এই কথাটিই উচ্চারণ করতে হয়, বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মাইল ফলক। বাংলাদেশ মাত্র একযুগের মাথায় এশিয়ায় মাথা উচু করে দাড়ানো প্রবৃদ্ধির দেশ। তা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরেই।

 

সমাজসেবী রাহা কাজী

 রাহা কাজীর সমাজ ভাবনাটা শৈশবকালের। মাত্র বছর বয়সে পাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ের জন্য ভাইয়ের কাছ থেকে তিনশ টাকা এবং মায়ের সংরক্ষণ করা চাল দিয়েছেন তিনি। দিনে দিনে তার এই সমাজ ভাবনা আজ পূর্ণতা পেয়েছে। পর্যন্ত ৭১টি দুরিদ্র মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। নিরবেনিভৃতে কাজ করে চলেছেন তিনি। এক উচ্চ মানুষিকতা লালনকারী ব্যক্তির নাম রাহা কাজী। সমাজের ফিছিয়ে পড়া মানুষকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারেন, যে কোন বাধা উপেক্ষা করে। তাই তিনি আমাদের সমাজের শুভ বোধের সারথী। তার মতো মানুষর হাত ধরে সমাজের মলিনতা দূর হয়। রাহা কাজী  স্বপ্ন দেখেছেন এক সুন্দর বাংলাদেশের। আজ তার গর্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশের একজন নাগরিক তিনি। এটাই তার কাছে বড় শান্তনা।

 

নতুন বাংলাদেশ

 

রাহা কাজী বলেন, এই দেশটির পরতে পরতে যার অবদান তিনি শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে খুব কম সংখ্য কাঁচা রাস্তার দেখা মিলবে। কেরোসিনের কুপি বাতি এবং হ্যারিকেনের দেশ আজ আলোয় আলোয় পূর্ণ। প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুতের আওতায়। এমন দেশের নাগরিক আমরা। আচ্ছা বলুনতো, তারপরও কি গর্ব না করে পারা যায়? একজন নাগরিক তার দেশ নিয়ে গর্ব করবে এটাইতো হওয়া দরকার। 

 

লাঙ্গোল জোয়াল থেকে মহাকাশ জয় 

 বাংলাদেশ ছিলো লাঙ্গলজোয়ালের দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানের মানুষ সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করেও তার কষ্টের মজুরি পেতো না। তাদের ভাগ্য যেন শোষনলাঞ্ছনার। সহজসরল মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনে আসলেনএক স্বপ্নের ফেড়িওয়ালা নাম তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। তিনি মানুষের ভাগ্যপরিবর্তনের দেবতা হিসেবে উদয় হলেন। বাংলার মানুষকে কতটা ভালোবাসেন তাতো নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। গড়ে তুলতে চেয়েছিলেনস্বপ্নে সোনার বাংলা। তাকে সপরিবারে হত্যার মাত্র দিন আগে  শেল কোম্পানির কাছ থেকে কিস্তিতে নামমাত্র মূল্যে ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র কিনে নেন। যার দুরুণ আমরা আজ বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানাসহ রান্নার জন্য গ্যাস ব্যবহার করতে পারছি। নতুনবা বাংলাদেশি মানুষের কত টাকার বিনিময়ে গ্যাস ব্যবহার করতে হতো তা ভাবা যায়?

 

দূরন্ত বাংলাদেশ

 রাহা কাজী বললেন, বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় উন্নয়নের সড়কে দূরন্ত  পথ চলা এক দেশের নাম বাংলাদেশ। সাবমেরিন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট কি নেই বাংলাদেশের। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে সব কিছুই অর্জনের পথে বাংলাদেশ। আমরা বলতে পারি আর বছর দুয়েকের মাথায় দক্ষিণউত্তরের অর্থনীতির দরজা উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তখন পদ্মা সেতু ব্যবহার করে মাত্র চারঘন্টায় ঢাকায় আসা সম্ভব হবে। বিশ্বমানের যে সড়ক তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সংযোগের যে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তাতে করে দূর হয়ে যাচ্ছে একেবারেই কাছে। সমাজচিন্তক রাহা কাজী বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ শেষ পর্যায়ে বলা যায়। অথচ এই পদ্মাসেতু নিয়ে শুরুতেই কত না ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিলো। সব কিছুকে মাড়িয়ে শেখ হাসিনা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পদ্মায় উড়ছে উন্নয়নের শঙ্খ চিল।

বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা, মেট্রোরেলকর্ণফুলী ট্যানেল, পর্যটন কোন ক্ষেত্রে তাক লাগানো উন্নয়ন নেই? প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাইল ফলকে পৌছে যাচ্ছি আমরা। শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ উন্নয়নে এমন ক্ষেত্র নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, আর অবকাঠামো খাতে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে।  সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন আমরা সাঁকোহীন বাংলাদেশ দেখতে পারবো। রাহা কাজী বললেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাস্তাঘাট করার সময় যেন ব্রীজকালভাট করা হয়।

 

উজ্জীবিত জাতি

 এই সমাজসেবী রাহা কাজী বলেন, আমরা এখন একটি উজ্জীবিত জাতি। এক সময় আমরা ঔপনিবেশিক জাতিতে পরিচিত ছিলাম। বর্তমানে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হয়েছি। আমাদেরকে আর কূপমন্ডক জাতিতে থাকতে হবে না। ২১ শতকের বাঙ্গালী হিসেবে স্বগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। এই সকল উন্নয়নে দাবিদার শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার। আওয়ামীলী সত্য ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রধান মন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ আগামী।

আমিনুল হক ঢাকা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের উন্নয়নের সারথী শেখ হাসিনা : রাহা কাজী

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ। আর এই বাংলাদেশের উন্নয়নের সারথী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাদার অব হিউম্যানেটি এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের মা বললেও ভুল হবে না। আমরা যদি একটু পেছনে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে অন্যচিত্র। তা আবার কেমন? তা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পর  বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবাওে হত্যা। জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলার উন্নয়নের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এরপর ক্ষমতায় আসে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। জাতিরজনকের হত্যাকারীকে তৎকালীন সময়ে পুরষ্কৃত করা হয়েছিলো। বলা যায়, স্বাধীনতার চেতনাকে নষ্ট করার সকল আয়োজন প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিলো। স্বাধীনতা বিরোধী এবং স্বৈরাচার যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশের অর্জিত সকল কিছুতেই ভিন্ন রূপ পেতে শুরু করেছিলো। জাতির জনকের হত্যার বিচার রুদ্ধ করা হয়েছিলো আইন করে। যা পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয়। দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রামের পর ৯৬ সালে বাংলার আকাশে উদীত হলো নতুন সূর্য। নতুন বাংলাদেশের পাখী আবার গান গাইতে শুরু করে। জনতার রায় নিয়ে দেশপরিচালনার দায়িত্ব এলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু না উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রুখে দিতে ফের ষড়যন্ত্র। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলো। কিন্তু না, বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষ কখনও  কোন ষড়যন্ত্র মেনে নিতে পারেনি। যার ধরুণ উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। স্বাধীনতা বিরোধীদের কবল থেকে বাংলাদেশকে রক্ষায় মাঠে নামে আমজনতা। ২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসলেন শেখ হাসিনা। এক দমে কথাগুলো বলে থামলেন রাহা কাজী। বোঝা যাচ্ছিল তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। কেন? সম্ভবনাময় দেশটিকে পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ৭১ যেমন ভুল করেনি, তেমনি ২০০৮ সালেও ভুল করলো না। তারা বিপুল ভোটে জয়ী করলো দেশগড়ার দুরদর্শি কারিগরকে।

 

অন্ধকার থেকে আলোয়

 ২০০৯ সালের প্রথমার্ধে  শেখ হাসিনা যখন ফের দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসলেন, তখন সারাদেশ ছিল প্রায় অন্ধকার! কারণ, সেই সময় বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন থেকে ঘন্টা লোডশেডিং চলতো। বিদ্যুতের উৎপাদন ছিলো মাত্র  হাজার তিনেক মেগাওয়াটের কিছুটা বেশি। শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ। সঠিক সময়ে তৈরি পোষাক শিল্পের রপ্তানি চালান পাঠাতে হিমশিম খেতে হতো। শিল্পউদ্যোক্ততারা অতিরিক্ত ব্যয় করে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করেছেন। রাহা কাজী বলেন, তখন আমরা দেখতে পাই, শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাত লাগালেন বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের। তিনি রাতারাতি অবস্থার উন্নয়নে এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ভাড়ার বিদ্যুৎ নিয়ে আসলেন। ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখতে পেলাম আমরা। আজকের মধ্যম আয়ের বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে এই কথাটিই উচ্চারণ করতে হয়, বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মাইল ফলক। বাংলাদেশ মাত্র একযুগের মাথায় এশিয়ায় মাথা উচু করে দাড়ানো প্রবৃদ্ধির দেশ। তা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরেই।

 

সমাজসেবী রাহা কাজী

 রাহা কাজীর সমাজ ভাবনাটা শৈশবকালের। মাত্র বছর বয়সে পাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ের জন্য ভাইয়ের কাছ থেকে তিনশ টাকা এবং মায়ের সংরক্ষণ করা চাল দিয়েছেন তিনি। দিনে দিনে তার এই সমাজ ভাবনা আজ পূর্ণতা পেয়েছে। পর্যন্ত ৭১টি দুরিদ্র মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। নিরবেনিভৃতে কাজ করে চলেছেন তিনি। এক উচ্চ মানুষিকতা লালনকারী ব্যক্তির নাম রাহা কাজী। সমাজের ফিছিয়ে পড়া মানুষকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারেন, যে কোন বাধা উপেক্ষা করে। তাই তিনি আমাদের সমাজের শুভ বোধের সারথী। তার মতো মানুষর হাত ধরে সমাজের মলিনতা দূর হয়। রাহা কাজী  স্বপ্ন দেখেছেন এক সুন্দর বাংলাদেশের। আজ তার গর্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশের একজন নাগরিক তিনি। এটাই তার কাছে বড় শান্তনা।

 

নতুন বাংলাদেশ

 

রাহা কাজী বলেন, এই দেশটির পরতে পরতে যার অবদান তিনি শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে খুব কম সংখ্য কাঁচা রাস্তার দেখা মিলবে। কেরোসিনের কুপি বাতি এবং হ্যারিকেনের দেশ আজ আলোয় আলোয় পূর্ণ। প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুতের আওতায়। এমন দেশের নাগরিক আমরা। আচ্ছা বলুনতো, তারপরও কি গর্ব না করে পারা যায়? একজন নাগরিক তার দেশ নিয়ে গর্ব করবে এটাইতো হওয়া দরকার। 

 

লাঙ্গোল জোয়াল থেকে মহাকাশ জয় 

 বাংলাদেশ ছিলো লাঙ্গলজোয়ালের দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানের মানুষ সারাদিন অমানুষিক পরিশ্রম করেও তার কষ্টের মজুরি পেতো না। তাদের ভাগ্য যেন শোষনলাঞ্ছনার। সহজসরল মানুষগুলোর ভাগ্য পরিবর্তনে আসলেনএক স্বপ্নের ফেড়িওয়ালা নাম তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। তিনি মানুষের ভাগ্যপরিবর্তনের দেবতা হিসেবে উদয় হলেন। বাংলার মানুষকে কতটা ভালোবাসেন তাতো নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। গড়ে তুলতে চেয়েছিলেনস্বপ্নে সোনার বাংলা। তাকে সপরিবারে হত্যার মাত্র দিন আগে  শেল কোম্পানির কাছ থেকে কিস্তিতে নামমাত্র মূল্যে ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র কিনে নেন। যার দুরুণ আমরা আজ বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানাসহ রান্নার জন্য গ্যাস ব্যবহার করতে পারছি। নতুনবা বাংলাদেশি মানুষের কত টাকার বিনিময়ে গ্যাস ব্যবহার করতে হতো তা ভাবা যায়?

 

দূরন্ত বাংলাদেশ

 রাহা কাজী বললেন, বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় উন্নয়নের সড়কে দূরন্ত  পথ চলা এক দেশের নাম বাংলাদেশ। সাবমেরিন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট কি নেই বাংলাদেশের। উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে সব কিছুই অর্জনের পথে বাংলাদেশ। আমরা বলতে পারি আর বছর দুয়েকের মাথায় দক্ষিণউত্তরের অর্থনীতির দরজা উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। তখন পদ্মা সেতু ব্যবহার করে মাত্র চারঘন্টায় ঢাকায় আসা সম্ভব হবে। বিশ্বমানের যে সড়ক তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সংযোগের যে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তাতে করে দূর হয়ে যাচ্ছে একেবারেই কাছে। সমাজচিন্তক রাহা কাজী বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ শেষ পর্যায়ে বলা যায়। অথচ এই পদ্মাসেতু নিয়ে শুরুতেই কত না ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিলো। সব কিছুকে মাড়িয়ে শেখ হাসিনা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পদ্মায় উড়ছে উন্নয়নের শঙ্খ চিল।

বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্পকারখানা, মেট্রোরেলকর্ণফুলী ট্যানেল, পর্যটন কোন ক্ষেত্রে তাক লাগানো উন্নয়ন নেই? প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাইল ফলকে পৌছে যাচ্ছি আমরা। শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ উন্নয়নে এমন ক্ষেত্র নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, আর অবকাঠামো খাতে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে।  সেই দিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন আমরা সাঁকোহীন বাংলাদেশ দেখতে পারবো। রাহা কাজী বললেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাস্তাঘাট করার সময় যেন ব্রীজকালভাট করা হয়।

 

উজ্জীবিত জাতি

 এই সমাজসেবী রাহা কাজী বলেন, আমরা এখন একটি উজ্জীবিত জাতি। এক সময় আমরা ঔপনিবেশিক জাতিতে পরিচিত ছিলাম। বর্তমানে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত হয়েছি। আমাদেরকে আর কূপমন্ডক জাতিতে থাকতে হবে না। ২১ শতকের বাঙ্গালী হিসেবে স্বগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। এই সকল উন্নয়নে দাবিদার শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার। আওয়ামীলী সত্য ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে। উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রধান মন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ আগামী।

আমিনুল হক ঢাকা