ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে ২.২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর ছবি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের হাতে তুলে দেন। ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র, ০১ মে, ২০২৩ছবি: বাসস

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আসুন উজ্জ্বল  ভবিষ্যতের জন্য একসাথে কাজ করি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশকে দুই দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও সংস্থাটি। স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়।

প্রকল্প পাঁচটি হলো

১. ‘অ্যাকসিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া প্রোগ্রাম পেইজ-১’ এর আওতায় পরিবহন ও ট্রেন কানেকটিভিটি বাড়াতে ৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কানেকটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।

২. ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ‘রেজিলিয়েন্স ইনফ্রাসট্রাকচার বিল্ডিং প্রকল্প’। এটি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।

৩. ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রথম বাংলাদেশ সবুজ ও জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন প্রকল্প। এটি দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে।

৪. ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্র্যান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্প। এটি ক্ষুদ্র শিল্প সেক্টরকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ এবং জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে।

৫. ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবলিটি অ্যান্ড ট্র্যান্সফরমেশন প্রকল্প। এ প্রকল্প পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, জাপানে দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষে ওয়াশিংটন সফরে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে তার সিংহাসনে আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ঢাকা ফিরবেন।

বিশ্বব্যাংক প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ছবি বাসস

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আসুন উজ্জ্বল
ভবিষ্যতের জন্য একসাথে কাজ করি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী বাংলাদেশের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরেছে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বৈশ্বিক ঋণদাতার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। আমি আশা করি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের উৎসাহব্যঞ্জক যাত্রায় বিশ্বব্যাংক সাথে থাকবে। আসুন আমরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য যৌথ আস্থার চেতনায় একসাথে কাজ করি।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের সাথে যৌথভাবে ৫০ বছরের বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্ব উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। তারা প্রদর্শনীর কিছু অংশ ঘুরে দেখেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা লোকদের উন্নয়নের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভূমিতে পরিণত করার জন্য আমাদের সরকারের সংকল্পেরই প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার জন্য বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা এবং আমরা এগুলো কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত বিশ্রাম নেব না। তিনি মনে করেন এ ফটো প্রদর্শনী একসঙ্গে কী অর্জিত হয়েছে এবং কি কাজ রয়ে গেছে তা স্মরণ করিয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রদর্শনীটি সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দুস্থ মানুষের মধ্যে যে ধরনের হাসি দেখতে চেয়েছিলেন এ প্রদর্শনীতে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক এবং তার এসএআর ভিপি মার্টিন রাইসার ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশকে ২.২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৯:৪২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আসুন উজ্জ্বল  ভবিষ্যতের জন্য একসাথে কাজ করি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশকে দুই দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ ও সংস্থাটি। স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের উপস্থিতিতে এ চুক্তি সই হয়।

প্রকল্প পাঁচটি হলো

১. ‘অ্যাকসিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া প্রোগ্রাম পেইজ-১’ এর আওতায় পরিবহন ও ট্রেন কানেকটিভিটি বাড়াতে ৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও কানেকটিভিটি বাড়াতে সাহায্য করবে।

২. ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ‘রেজিলিয়েন্স ইনফ্রাসট্রাকচার বিল্ডিং প্রকল্প’। এটি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে।

৩. ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রথম বাংলাদেশ সবুজ ও জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন প্রকল্প। এটি দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে।

৪. ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্র্যান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্প। এটি ক্ষুদ্র শিল্প সেক্টরকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ এবং জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে।

৫. ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবলিটি অ্যান্ড ট্র্যান্সফরমেশন প্রকল্প। এ প্রকল্প পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, জাপানে দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগদান উপলক্ষে ওয়াশিংটন সফরে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে তার সিংহাসনে আরোহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওয়াশিংটন থেকে লন্ডন যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ঢাকা ফিরবেন।

বিশ্বব্যাংক প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ছবি বাসস

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা আসুন উজ্জ্বল
ভবিষ্যতের জন্য একসাথে কাজ করি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী বাংলাদেশের উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরেছে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বৈশ্বিক ঋণদাতার সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। আমি আশা করি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের উৎসাহব্যঞ্জক যাত্রায় বিশ্বব্যাংক সাথে থাকবে। আসুন আমরা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য যৌথ আস্থার চেতনায় একসাথে কাজ করি।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের সাথে যৌথভাবে ৫০ বছরের বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্ব উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। তারা প্রদর্শনীর কিছু অংশ ঘুরে দেখেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা লোকদের উন্নয়নের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভূমিতে পরিণত করার জন্য আমাদের সরকারের সংকল্পেরই প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রী একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করার জন্য বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা এবং আমরা এগুলো কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত বিশ্রাম নেব না। তিনি মনে করেন এ ফটো প্রদর্শনী একসঙ্গে কী অর্জিত হয়েছে এবং কি কাজ রয়ে গেছে তা স্মরণ করিয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রদর্শনীটি সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দুস্থ মানুষের মধ্যে যে ধরনের হাসি দেখতে চেয়েছিলেন এ প্রদর্শনীতে তা প্রতিফলিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দফতরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক এবং তার এসএআর ভিপি মার্টিন রাইসার ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।