ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স রাতে মদের আসরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সকালে ধৃত ৩ ধর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ ৩ লাখ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের  হত্যার ফরমান নিয়ে দিনযাপন করছেন, জুলাই যোদ্ধা আমিরুল সীমান্তে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ: মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির নতুন বার্তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী পেট্রোবাংলার  চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে

ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ককে নতুন করে স্মরণ ও শক্তিশালী করার এক অনন্য উদ্যোগ

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ।  ১৭ ও ১৮ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী সংগীত সন্ধ্যা, যার শিরোনাম ছিল “বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে: অফ হারমনি উইদিন”। এই আয়োজনটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই ছিল না, বরং ভারত ও বাংলাদেশের বহুদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রতিভাত হয়।

 বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ
ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা ও বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরুল উদ্দিন স্বপন

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এর সূচনা ঘটে মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে, যখন খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাঙালির সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এই উৎসব উদযাপন করে থাকে, যা বাঙালির ঐক্য, সাম্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোতে এ উৎসব একই আবেগ ও উদ্দীপনায় পালিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সংগীত সন্ধ্যায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন এবং ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। তাঁদের পরিবেশনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গানসহ বাংলা সংগীতের নানা ধারার সুর। সঙ্গীতের মাধ্যমে তারা তুলে ধরেন দুই দেশের মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আবেগ ও ভালোবাসার বন্ধন। উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এই মনোজ্ঞ পরিবেশনা।

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ
ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় এইচএসবিসি বাংলাদেশের সহযোগিতায় একটি পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, যা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে কর্পোরেট অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সংস্কৃতির বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ একসাথে কাজ করলে তা আরও ব্যাপক ও ফলপ্রসূ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন তাদের রাজনৈতিক সীমানার বহু আগ থেকেই গড়ে উঠেছে এবং তা আজও অটুট রয়েছে। একই মঞ্চে দুই দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের উপস্থিতি এই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াকে জোরদার করে।

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ
ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করে।

সার্বিকভাবে, এই আয়োজনটি কেবল পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ককে নতুন করে স্মরণ ও শক্তিশালী করার এক অনন্য উদ্যোগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ককে নতুন করে স্মরণ ও শক্তিশালী করার এক অনন্য উদ্যোগ

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ।  ১৭ ও ১৮ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দুই দিনব্যাপী সংগীত সন্ধ্যা, যার শিরোনাম ছিল “বাঁধন আছে প্রাণে প্রাণে: অফ হারমনি উইদিন”। এই আয়োজনটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই ছিল না, বরং ভারত ও বাংলাদেশের বহুদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রতিভাত হয়।

 বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ
ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা ও বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরুল উদ্দিন স্বপন

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এর সূচনা ঘটে মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে, যখন খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাঙালির সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এই উৎসব উদযাপন করে থাকে, যা বাঙালির ঐক্য, সাম্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলগুলোতে এ উৎসব একই আবেগ ও উদ্দীপনায় পালিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সংগীত সন্ধ্যায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন এবং ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। তাঁদের পরিবেশনায় উঠে আসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গানসহ বাংলা সংগীতের নানা ধারার সুর। সঙ্গীতের মাধ্যমে তারা তুলে ধরেন দুই দেশের মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আবেগ ও ভালোবাসার বন্ধন। উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এই মনোজ্ঞ পরিবেশনা।

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ
ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় এইচএসবিসি বাংলাদেশের সহযোগিতায় একটি পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, যা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে কর্পোরেট অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সংস্কৃতির বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ একসাথে কাজ করলে তা আরও ব্যাপক ও ফলপ্রসূ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন তাদের রাজনৈতিক সীমানার বহু আগ থেকেই গড়ে উঠেছে এবং তা আজও অটুট রয়েছে। একই মঞ্চে দুই দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের উপস্থিতি এই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াকে জোরদার করে।

ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ
ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব ও মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করে।

সার্বিকভাবে, এই আয়োজনটি কেবল পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্ককে নতুন করে স্মরণ ও শক্তিশালী করার এক অনন্য উদ্যোগ।