ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোটি টাকার ৩৪ হাজার ইয়াবাসহ মা-ছেলে গ্রেপ্তার হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু নতুন আক্রান্ত ১,৩২৭ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নালিতাবাড়ীতে আটকে রেখে নির্যাতন ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত ভোক্তাদের ক্ষোভের মধ্যে স্বস্তি এলপিজি ব্যবসায়ীদের দু’দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার দেশে চিনির ব্যবহার প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদনে বেসরকারি মিল টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস, মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে ওঠার শঙ্কা আইএমএফের সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট বাতিল, প্রবাসীদের  ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভোগান্তিতে ৯২৬৯ যাত্রী

বঙ্গোসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ডুবিয়ে ১০ জনকে হত্যা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩ ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গোপসাগারে  ডুবিয়ে দেওয়া ট্রলার থেকে  ১০টি মরদেহ উদ্ধার ঘটনায়  গ্রেপ্তার দুই ট্রলার মালিককে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে  নিয়ে আসা হয় :  ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

সাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার। পুলিশ বলছে ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। কিন্তু কেন এই হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে পারেনি। ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে ট্রলার মালিক সামশুলের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ দুই ট্রলার মালিককে আটক করে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সামশুলের সঙ্গে কামাল ও তার ভাই আনোয়ারের বিরোধ চলছিল।

ঘটনায় ট্রলার মালিক সামশুল আলমের স্ত্রী রোকিয়া আকতার কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় চার ট্রলার মালিকের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর বিকালে মহেশখালী থেকে ট্রলার মালিক কামাল হোসেন ও করিম সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ১০ জনের হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং লোমহর্ষক। চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে হত্যাকাণ্ডটি পুলিশের সদর দপ্তর থেকে মনিটর করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের চারটি দল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়   সাংবাদিকদের বিফ্রিং করছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম : ছবি সংগ্রহ

পুলিশ জানায়, গভীর সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া ট্রলারটি আরেকটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে। ট্রলারের জেলেরা রশি দিয়ে ট্রলারটি টেনে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে নিয়ে আসেন। রবিবার দুপুরের দিকে ট্রলারটি কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক চ্যানেলে পৌঁছালে মৃত ব্যক্তির হাত-পা ভেসে উঠে। পরে একে একে ১০ জনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার দুই ট্রলার মালিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের কক্সবাজার বুধবার আদালতে তোলা হবে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আবেদন জানানো হবে।

নিহত ট্রলার মালিক সামশুল আলম ১০-১২ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ৭ এপ্রিল বিকেল পাঁচটার দিকে সাগরে মাছ ধরতে নামে। ৮ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সামশুল স্ত্রীকে মুঠোফোনে জানান জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়েছে। এরপর থেকে নানাভাবে চেষ্টা করেও তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

তিনি জানতে পারেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মামলার আসামিরা ট্রলারের মাছ ও জাল লুট করতে সামশুলসহ ১০-১২ জন জেলেকে মারধর করে আহত করে। সামশুলসহ অন্যদের গলায় রশি পেঁচিয়ে, হাত-পা রশি ও জাল দিয়ে বেঁধে ট্রলারের মাছ রাখার হিমাগারের ভেতরে আটকে রাখে। পরে ট্রলারের নিচে বড় ফুটো করে দেয়া হলে ট্রলারটি ডুবে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বঙ্গোসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ডুবিয়ে ১০ জনকে হত্যা

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

সাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার। পুলিশ বলছে ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। কিন্তু কেন এই হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হতে পারেনি। ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে ট্রলার মালিক সামশুলের স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ দুই ট্রলার মালিককে আটক করে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সামশুলের সঙ্গে কামাল ও তার ভাই আনোয়ারের বিরোধ চলছিল।

ঘটনায় ট্রলার মালিক সামশুল আলমের স্ত্রী রোকিয়া আকতার কক্সবাজার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় চার ট্রলার মালিকের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর বিকালে মহেশখালী থেকে ট্রলার মালিক কামাল হোসেন ও করিম সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ১০ জনের হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং লোমহর্ষক। চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে হত্যাকাণ্ডটি পুলিশের সদর দপ্তর থেকে মনিটর করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশের চারটি দল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায়   সাংবাদিকদের বিফ্রিং করছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম : ছবি সংগ্রহ

পুলিশ জানায়, গভীর সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া ট্রলারটি আরেকটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে। ট্রলারের জেলেরা রশি দিয়ে ট্রলারটি টেনে মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে নিয়ে আসেন। রবিবার দুপুরের দিকে ট্রলারটি কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক চ্যানেলে পৌঁছালে মৃত ব্যক্তির হাত-পা ভেসে উঠে। পরে একে একে ১০ জনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার দুই ট্রলার মালিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের কক্সবাজার বুধবার আদালতে তোলা হবে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আবেদন জানানো হবে।

নিহত ট্রলার মালিক সামশুল আলম ১০-১২ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ৭ এপ্রিল বিকেল পাঁচটার দিকে সাগরে মাছ ধরতে নামে। ৮ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সামশুল স্ত্রীকে মুঠোফোনে জানান জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়েছে। এরপর থেকে নানাভাবে চেষ্টা করেও তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি।

তিনি জানতে পারেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মামলার আসামিরা ট্রলারের মাছ ও জাল লুট করতে সামশুলসহ ১০-১২ জন জেলেকে মারধর করে আহত করে। সামশুলসহ অন্যদের গলায় রশি পেঁচিয়ে, হাত-পা রশি ও জাল দিয়ে বেঁধে ট্রলারের মাছ রাখার হিমাগারের ভেতরে আটকে রাখে। পরে ট্রলারের নিচে বড় ফুটো করে দেয়া হলে ট্রলারটি ডুবে যায়।