ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গোপন প্রেম, গোপন বিয়ে থেকে করুণ পরিণতি আলোঝলমলে জীবন আর করুণ সমাপ্তি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি নয়, থাকবেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা   সার্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি অপরাধ দমনে কঠোর বার্তায় আশ্বস্ত সাধারণ মানুষ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত অন্তত ৩২ যে কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুণ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি অনিশ্চিত নতুন সরকারের শপথে থাকবেন প্রায় এক হাজার অতিথি

পানিতে ডুবে প্রতিদিন ৫১ জনের বেশি প্রাণহানি, ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

পানিতে ডুবে প্রতিদিন ৫১ জনের বেশি প্রাণহানি, ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা জোরদারের তাগিদ জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভায়

শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারিভাবে সমন্বিত টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিশু-বান্ধব সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জাতি গঠনে শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা বিষয়ে জাতীয় পরামর্শসভা থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সিনারগোজ এর সহযোগিতায় গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি এ সভা আয়োজন করে। বাংলাদেশ সরকারের আইসিবিসি সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্পের নানা দিক এতে তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় জানানো হয়, ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৪ অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে ৫১ জনের বেশি মানুষ, যার ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, যা ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিবিসি প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপত্তা কৌশল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি সফলভাবে ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায় নিয়ে কাজ চলছে। এ পর্যায়ে আরও ১৪ জেলায় ৫ লাখ ২০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং ৩ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা দেওয়া হবে।

‘আস্থায় হাত ধরি, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে মূল আলোচনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধসহ শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও স্থায়ীত্বশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের মাঝে আস্থার সম্পর্ক জোরদার করার তাগিদ দেন বক্তারা।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোসা. আরজু আরা বেগম এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মুস্তারী এবং আইএমইডি’র মহাপরিচালক ডক্টর আলম আমিন সরকার। স্বাগত বক্তৃতা করেন যুগ্ম সচিব এবং আইসিবিসি প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাদির।

আস্থায় হাত ধরি, শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি বিষয়ে মূল আলোচনার সূত্রপাত করেন সিনারগোজ বাংলাদেশ এর কান্ট্রি হেড এশা হুসেইন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক সিনিয়র সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামান।

সিভিল সোসাইটির পক্ষে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এর ভাইস চেয়ার মাহমুদা আখতার, সিনারগোস বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ রিজওয়ান খান পিএমপি, সিআইপিআরপি’র গবেষক ডা. আল আমিন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি বলেছেন, শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য সরকারের উদ্যোগগুলো সম্প্রসারণের কাজ চলছে; এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।

অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা কার্যক্রমের সফলতা ও চ্যালেঞ্জের দিকগুলো গণমাধ্যমে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক ড. মো. আল আমিন সরকার বলেন, শিশুদের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রভাব মূল্যায়ন করে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও পুরনোগুলোর সম্প্রসারণ করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পানিতে ডুবে প্রতিদিন ৫১ জনের বেশি প্রাণহানি, ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু

আপডেট সময় : ০৮:০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা জোরদারের তাগিদ জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভায়

শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারিভাবে সমন্বিত টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিশু-বান্ধব সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে জাতি গঠনে শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা বিষয়ে জাতীয় পরামর্শসভা থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সিনারগোজ এর সহযোগিতায় গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি এ সভা আয়োজন করে। বাংলাদেশ সরকারের আইসিবিসি সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্পের নানা দিক এতে তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় জানানো হয়, ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০২৪ অনুযায়ী দেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে ৫১ জনের বেশি মানুষ, যার ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, যা ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিবিসি প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপত্তা কৌশল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি সফলভাবে ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায় নিয়ে কাজ চলছে। এ পর্যায়ে আরও ১৪ জেলায় ৫ লাখ ২০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং ৩ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা দেওয়া হবে।

‘আস্থায় হাত ধরি, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে মূল আলোচনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধসহ শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও স্থায়ীত্বশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের মাঝে আস্থার সম্পর্ক জোরদার করার তাগিদ দেন বক্তারা।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোসা. আরজু আরা বেগম এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মুস্তারী এবং আইএমইডি’র মহাপরিচালক ডক্টর আলম আমিন সরকার। স্বাগত বক্তৃতা করেন যুগ্ম সচিব এবং আইসিবিসি প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাদির।

আস্থায় হাত ধরি, শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি বিষয়ে মূল আলোচনার সূত্রপাত করেন সিনারগোজ বাংলাদেশ এর কান্ট্রি হেড এশা হুসেইন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক সিনিয়র সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামান।

সিভিল সোসাইটির পক্ষে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বেন) এর ভাইস চেয়ার মাহমুদা আখতার, সিনারগোস বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ রিজওয়ান খান পিএমপি, সিআইপিআরপি’র গবেষক ডা. আল আমিন প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি বলেছেন, শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য সরকারের উদ্যোগগুলো সম্প্রসারণের কাজ চলছে; এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।

অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা কার্যক্রমের সফলতা ও চ্যালেঞ্জের দিকগুলো গণমাধ্যমে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক ড. মো. আল আমিন সরকার বলেন, শিশুদের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রভাব মূল্যায়ন করে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও পুরনোগুলোর সম্প্রসারণ করা।