ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে : মাহবুব আলী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০ ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক, ঢাকা

ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ ঘিরে পর্যটনখাতের অপার সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভবনাও। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মধ্যদিয়ে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক বগুড়া জেলার সাথে আয়োজিত অনলাইন কর্মশালার উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন  সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাতা করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সাবলম্বি করে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে তোলার। সেই জন্য তিনি পর্যটনখাতকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অপার সম্ভবনাময় বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসবেন, ভ্রমণ করবেন বিশে^র সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে। ছুটে যাবেন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রীজ, কাপ্তাইয়ের স্বচ্ছ্ব জলরাশির লেকের বুক চিরে ভ্রমণ করবে মুক্ত আকাশের নীচে। চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত রাঙামাটি মুগ্ধ করবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। তাই পর্যটনের শিল্প উন্নয়নের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগ হচ্ছে, পর্যটন শিল্পের বিশাল ভান্ডার। এখানে রয়েছে হাজারো দর্শসীয় স্থান। উত্তরে জাফলং, মাথার ওপরে মেঘালয়ের পাহাড়। রয়েছে গর্বের রাতারকুল। মন উদাস করা সঙ্গীত মুর্ছনায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে সিলেট অঞ্চলের জুরি নেই। মাধবকুন্ড জলপ্রোপাত, লাউয়াছড়ার বিশাল অরণ্য, মনিপুরী সংস্কৃতি, মসজিদ, মন্দির কি নেই এখানে। নয়ন জুড়ানো চা বাগান দেখতে চান, দেরি কেন ? ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল। নামের সঙ্গে চা বাগানের নান্দনিকতা দেখতে পেয়ে মুগদ্ধ চিত্তে মনের অজান্তে উচ্চারণ করবেন শ্রীমঙ্গল-নামটিই যতার্থ।

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্য দিয়ে অর্জিত মূল্যবোধ, আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ১৯৭২ সালের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই বিষয়গুলোই এখন  পর্যটনখাতকে বিকশিত করার মূল অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করছে।  বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিত হয় বীরের জাতি হিসেবে। আমাদের দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে পরিচিত পেয়েছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বন্যা, অনাহার-অর্ধাহারের একটি দেশ হিসাবে। বঙ্গবন্ধুর পর কন্যা শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় আজ সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বল জ্বল করছে।  বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। তাঁর সুযোগ্য কন্যার দূরদর্শি নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ মধ্যম আয়ের দেশে ওঠে এসেছে। আমাদের তৈরি পোষাক পাশ্ববর্তী অনেক দেশ থেকে অধিকহারে রপ্তানি হচ্ছে। তৈরি পোষাকখাত কেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের উন্নয়ন বেড়েছে এবং রপ্তানি হচ্ছে। তাছাড়া আরও বহু ধরণের পণ্য বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশে রপ্তানি হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বয়ং সম্পূর্ণতার পথে। যোগাযোগখাতে এক মাইল ফলক পদ্মাসেতু। এটি এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব।

পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে সারাবাংলায় পর্যটন শিল্পের আরও প্রসার ঘটবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  একটি দেশের পর্যটনশিল্পের  উন্নয়নে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে পদ্মা সেতু, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেল, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাভে রূপান্তরের লক্ষ্যে কক্সবাজার ও সৈয়দপুরে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা, সিলেট ও চট্টগ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটির ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধন এবং রাজধানী ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণসহ মেগা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসরমান একটি জাতি। এই অঞ্চলে প্রথম ডিজিটাল একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। দ্রুতগতির ইন্টারনেটের কারণে করোনার এই সময়ে আমরা দেশের প্রান্তিক এলাকায় জুম অনলাইনে বৈঠক করে চলেছি। বহু উন্নত দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট অনেক সহজলভ্য। পর্যটনের প্রসারে আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

মাহবুব আলী আরও বলেন, কোভিড-১৯ বাংলাদেশ নয়, গোটা দুনিয়ার পর্যটনখাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ পিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এখন থেকেই অনলাইনে সারাদেশের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক ও সকল পর্যটন অংশীদারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছি। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পর্যটনখাতকে সমৃদ্ধ করতে পুরোদমে কাজ করার তাগিদ দেন মাহবুব আলী।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পর্যটনশিল্প বিশাল ভূমিকা রাখবে। এ জন্য যত বেশি সম্ভব সাধারণ মানুষকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে  একটি পর্যটর বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ছাড়া পর্যটনশিল্প কখনই বিকশিত হতে পারে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পর্যটনের  সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের-এর সঞ্চালনায় ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দ ও পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিরা এতে যুক্ত ছিলেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে : মাহবুব আলী

আপডেট সময় : ০৪:১৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২০

আমিনুল হক, ঢাকা

ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই বাংলাদেশ ঘিরে পর্যটনখাতের অপার সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভবনাও। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের মধ্যদিয়ে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক বগুড়া জেলার সাথে আয়োজিত অনলাইন কর্মশালার উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন  সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠাতা করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সাবলম্বি করে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে তোলার। সেই জন্য তিনি পর্যটনখাতকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। অপার সম্ভবনাময় বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসবেন, ভ্রমণ করবেন বিশে^র সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে। ছুটে যাবেন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। রাঙামাটির ঝুলন্ত ব্রীজ, কাপ্তাইয়ের স্বচ্ছ্ব জলরাশির লেকের বুক চিরে ভ্রমণ করবে মুক্ত আকাশের নীচে। চারিদিকে পাহাড় বেষ্টিত রাঙামাটি মুগ্ধ করবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। তাই পর্যটনের শিল্প উন্নয়নের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগ হচ্ছে, পর্যটন শিল্পের বিশাল ভান্ডার। এখানে রয়েছে হাজারো দর্শসীয় স্থান। উত্তরে জাফলং, মাথার ওপরে মেঘালয়ের পাহাড়। রয়েছে গর্বের রাতারকুল। মন উদাস করা সঙ্গীত মুর্ছনায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে সিলেট অঞ্চলের জুরি নেই। মাধবকুন্ড জলপ্রোপাত, লাউয়াছড়ার বিশাল অরণ্য, মনিপুরী সংস্কৃতি, মসজিদ, মন্দির কি নেই এখানে। নয়ন জুড়ানো চা বাগান দেখতে চান, দেরি কেন ? ঘুরে আসুন শ্রীমঙ্গল। নামের সঙ্গে চা বাগানের নান্দনিকতা দেখতে পেয়ে মুগদ্ধ চিত্তে মনের অজান্তে উচ্চারণ করবেন শ্রীমঙ্গল-নামটিই যতার্থ।

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্য দিয়ে অর্জিত মূল্যবোধ, আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ১৯৭২ সালের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই বিষয়গুলোই এখন  পর্যটনখাতকে বিকশিত করার মূল অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করছে।  বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিত হয় বীরের জাতি হিসেবে। আমাদের দুর্ভাগ্য বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে পরিচিত পেয়েছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বন্যা, অনাহার-অর্ধাহারের একটি দেশ হিসাবে। বঙ্গবন্ধুর পর কন্যা শেখ হাসিনার দুরদর্শিতায় আজ সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বল জ্বল করছে।  বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। তাঁর সুযোগ্য কন্যার দূরদর্শি নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ মধ্যম আয়ের দেশে ওঠে এসেছে। আমাদের তৈরি পোষাক পাশ্ববর্তী অনেক দেশ থেকে অধিকহারে রপ্তানি হচ্ছে। তৈরি পোষাকখাত কেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের উন্নয়ন বেড়েছে এবং রপ্তানি হচ্ছে। তাছাড়া আরও বহু ধরণের পণ্য বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশে রপ্তানি হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বয়ং সম্পূর্ণতার পথে। যোগাযোগখাতে এক মাইল ফলক পদ্মাসেতু। এটি এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব।

পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হলে সারাবাংলায় পর্যটন শিল্পের আরও প্রসার ঘটবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  একটি দেশের পর্যটনশিল্পের  উন্নয়নে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুই শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানে পদ্মা সেতু, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেল, কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাভে রূপান্তরের লক্ষ্যে কক্সবাজার ও সৈয়দপুরে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা, সিলেট ও চট্টগ্রামে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুটির ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধন এবং রাজধানী ঢাকায় পাতাল রেল নির্মাণসহ মেগা প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসরমান একটি জাতি। এই অঞ্চলে প্রথম ডিজিটাল একটি দেশের নাম বাংলাদেশ। দ্রুতগতির ইন্টারনেটের কারণে করোনার এই সময়ে আমরা দেশের প্রান্তিক এলাকায় জুম অনলাইনে বৈঠক করে চলেছি। বহু উন্নত দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট অনেক সহজলভ্য। পর্যটনের প্রসারে আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

মাহবুব আলী আরও বলেন, কোভিড-১৯ বাংলাদেশ নয়, গোটা দুনিয়ার পর্যটনখাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ পিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা এখন থেকেই অনলাইনে সারাদেশের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক ও সকল পর্যটন অংশীদারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছি। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পর্যটনখাতকে সমৃদ্ধ করতে পুরোদমে কাজ করার তাগিদ দেন মাহবুব আলী।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পর্যটনশিল্প বিশাল ভূমিকা রাখবে। এ জন্য যত বেশি সম্ভব সাধারণ মানুষকে পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে  একটি পর্যটর বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ছাড়া পর্যটনশিল্প কখনই বিকশিত হতে পারে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পর্যটনের  সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের-এর সঞ্চালনায় ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা বৃন্দ ও পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন সেক্টরের ব্যক্তিরা এতে যুক্ত ছিলেন।