নারীর সম্মান, স্বাধীনতা ও সমঅধিকার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না বিএনপি
- আপডেট সময় : ০৫:১০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন: ছবি সংগ্রহ
দেশজুড়ে নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। নারীর সম্মান, স্বাধীনতা ও সমঅধিকার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, নারীদের প্রতি অবমাননাকর ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। নারীর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যদি এই বক্তব্য সত্য হয়ে থাকে, তবে তা সমাজকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। নারীদের আধুনিকতার নামে ঘরের বাইরে গেলে শোষণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের মুখে পড়তে হয়—এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্য নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, বিতর্কিত পোস্টের প্রায় নয় ঘণ্টা পর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি তোলা হয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। কোনো ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জনসমক্ষে আনার দায়িত্ব থাকলেও এক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় নীরবতা পালন করা হয়েছে। এমনকি ওই সময়ের মধ্যেই একই অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যান্য নির্বাচনী পোস্ট করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গভীর রাতে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিকেলেই হ্যাকের বিষয়টি জানা ছিল। তাহলে এত সময় ধরে কেন জনগণকে বিষয়টি জানানো হয়নি—সে প্রশ্নের উত্তর জাতি জানতে চায়। অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের দাবিও জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিএনপি সবসময় নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে। নারীবিদ্বেষী ভাষা ও মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতেও ওই রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে নারীদের নিয়ে পশ্চাৎপদ ও অশালীন বক্তব্য এসেছে, যা নতুন নয়।
মাহ্দী আমিন অভিযোগ করেন, নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাবের প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দলটি একটি আসনেও নারী প্রার্থী দেয়নি এবং শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ বলেও প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অথচ নির্বাচনী মাঠে নারীদের দিয়ে এনআইডি কার্ড ও মোবাইল আর্থিক সেবার তথ্য সংগ্রহ করানো হচ্ছে, যা চরম দ্বিচারিতার উদাহরণ।
তিনি বলেন, ওই দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নারী নেত্রী অপমানের শিকার হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। নারী প্রার্থীদের পোশাক ও জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, যা রুচিহীন ও লজ্জাজনক। বিএনপির নারী প্রার্থী ও সমর্থকরাও অনলাইন ও অফলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত নারীরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শ্রম, শিক্ষা, চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা, শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও গণমাধ্যমে নারীদের অবদান দেশের অগ্রযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মাহ্দী আমিন বলেন, দেশের মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যাদের বিরুদ্ধে কোনো অবজ্ঞা, নিপীড়ন বা অপমান বিএনপি মেনে নেবে না। নারীর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে রাজপথ ও অনলাইন—কোথাও কোনো ভয় বা পিছু হটা নেই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতৃত্বেই নারীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে মেয়েদের শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও নারীর স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা বিএনপির অঙ্গীকার।
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তথ্য-প্রমাণে মিথ্যা প্রমাণিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।











