ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহান মুক্তিযুদ্ধের এই কিংবদন্তি যোদ্ধা রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার। জাতির যেসব সূর্যসন্তান আজকের এই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তাদের অন্যতম তিনি স্বাধীন দেশে তিনি হতে পারতেন দেশসেরা সার্জন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন চিকিৎসা খাতের প্রধান ব্যবসায়ী। কিন্তু ভিন্নধাতুতে গড়া এক লড়াকু মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। স্বাধীন দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গণমানুষের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রেই তাকে দাফন করা হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মাঠে দুপুর পর্যন্ত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডা. জাফরুল্লাহর দেহ রাখা হয়। সেখানেই শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ। ৮১ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি সমস্যার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হাসপাতাল গড়ে তোলার মাধ্যমে যুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ। অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর চিকিৎসা গবেষণা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের কাজ করেছেন। জাতীয় ঔষধ নীতি ও জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নেও বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মাধ্যমে সুলভে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি।

সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত না হলেও আজীবন বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ। গণমুখী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সংহতি-সমর্থন দিয়ে গেছেন। জাতীয় জীবনে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

এছাড়া কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জীবনের নানা পর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার বা সম্মান পেয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফিলিপাইনের র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান ১৯৮৫ সালে। ১৯৯২ সালে সুইডেন থেকে তাকে দেওয়া হয় রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড। কানাডার ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব ন্যাচারাল মেডিসিন ২০০৯ সালে দেয় ডক্টর অব হিউম্যানিটেরিয়ান উপাধি।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি থেকে ২০১০ সালে দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ অ্যাওয়ার্ড। যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ ২০২২ সালে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘এনআরবি লিবারেশন ওয়ার হিরো ১৯৭১’ পুরস্কার দেয়।

এক নজরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বীরমুক্তিযোদ্ধা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ৮১ বছরের ডা. জাফরুল্লাহ কিডনি ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যররাতে তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর লিভারের সমস্যাও দেখা দেয়। সোমবার লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন ভাসকুলার সার্জন ছিলেন। তিনি জনস্বাস্থ্য চিন্তাবিদ ছিলেন। ১৯৮২ সালে তার হাত ধরে বাংলাদেশের জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন বাংলাদেশকে ওষুধে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে। বহির্বিশ্বে তার পরিচয় ছিল বিকল্পধারার স্বাস্থ্য আন্দোলনের সমর্থক ও সংগঠক হিসেবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শোকবার্তায় বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ওষুধশিল্প ও জনস্বাস্থ্য খাতে ডা. জাফরুল্লাহর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

১৯৭১ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে ভারতের আগরতলায় গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৭২ সালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান করেন। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিও গড়ে তোলেন।

১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কোয়েপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জীবনের নানা পর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৭৭ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার ছাড়াও ১৯৮৫ সালে ফিলিপাইনের র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান। ১৯৯২ সালে সুইডেন থেকে দেয়া হয় রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড। ২০০৯ সালে ডক্টর অব হিউম্যানিটারিয়ান উপাধি দেয় কানাডার ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব ন্যাচারাল মেডিসিন। যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলে থেকে ২০১০ সালে দেয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ অ্যাওয়ার্ড।

যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশীজ ২০২২ সালে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘এনআরবি লিবারেশন ওয়ার হিরো ১৯৭১’ পুরস্কার দেয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ৫০টির বেশি দেশে বিভিন্ন সম্মেলন বা সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন। একাধিক দেশকে জাতীয় ওষুধ নীতি তৈরিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে একটির নাম ‘রিসার্চ: আ মেথড অব কলোনাইজেশন’। এটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। এরপর এটি বাংলা ছাড়াও ফরাসি, জার্মান, ইতালি, ডাচ, স্প্যানিশ ও একাধিক ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৩

মহান মুক্তিযুদ্ধের এই কিংবদন্তি যোদ্ধা রণাঙ্গনে ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে প্রাণ বাঁচিয়েছেন অসংখ্য আহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার। জাতির যেসব সূর্যসন্তান আজকের এই স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনীতির বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন তাদের অন্যতম তিনি স্বাধীন দেশে তিনি হতে পারতেন দেশসেরা সার্জন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন চিকিৎসা খাতের প্রধান ব্যবসায়ী। কিন্তু ভিন্নধাতুতে গড়া এক লড়াকু মানুষ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। স্বাধীন দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গণমানুষের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রেই তাকে দাফন করা হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মাঠে দুপুর পর্যন্ত শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডা. জাফরুল্লাহর দেহ রাখা হয়। সেখানেই শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ। ৮১ বছর বয়সী এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি সমস্যার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হাসপাতাল গড়ে তোলার মাধ্যমে যুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ। অনেকের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর চিকিৎসা গবেষণা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের কাজ করেছেন। জাতীয় ঔষধ নীতি ও জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নেও বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মাধ্যমে সুলভে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি।

সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত না হলেও আজীবন বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ। গণমুখী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সংহতি-সমর্থন দিয়ে গেছেন। জাতীয় জীবনে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

এছাড়া কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জীবনের নানা পর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার বা সম্মান পেয়েছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ফিলিপাইনের র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান ১৯৮৫ সালে। ১৯৯২ সালে সুইডেন থেকে তাকে দেওয়া হয় রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড। কানাডার ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব ন্যাচারাল মেডিসিন ২০০৯ সালে দেয় ডক্টর অব হিউম্যানিটেরিয়ান উপাধি।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি থেকে ২০১০ সালে দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ অ্যাওয়ার্ড। যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশিজ ২০২২ সালে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘এনআরবি লিবারেশন ওয়ার হিরো ১৯৭১’ পুরস্কার দেয়।

এক নজরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

বাংলাদেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বীরমুক্তিযোদ্ধা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ৮১ বছরের ডা. জাফরুল্লাহ কিডনি ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যররাতে তারই প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর লিভারের সমস্যাও দেখা দেয়। সোমবার লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয় তাকে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন ভাসকুলার সার্জন ছিলেন। তিনি জনস্বাস্থ্য চিন্তাবিদ ছিলেন। ১৯৮২ সালে তার হাত ধরে বাংলাদেশের জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়ন বাংলাদেশকে ওষুধে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করে। বহির্বিশ্বে তার পরিচয় ছিল বিকল্পধারার স্বাস্থ্য আন্দোলনের সমর্থক ও সংগঠক হিসেবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শোকবার্তায় বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ওষুধশিল্প ও জনস্বাস্থ্য খাতে ডা. জাফরুল্লাহর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

১৯৭১ সালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে ভারতের আগরতলায় গেরিলা প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে ১৯৭২ সালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান করেন। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিও গড়ে তোলেন।

১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কোয়েপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জীবনের নানা পর্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৭৭ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরস্কার ছাড়াও ১৯৮৫ সালে ফিলিপাইনের র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান। ১৯৯২ সালে সুইডেন থেকে দেয়া হয় রাইট লাইভলিহুড অ্যাওয়ার্ড। ২০০৯ সালে ডক্টর অব হিউম্যানিটারিয়ান উপাধি দেয় কানাডার ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব ন্যাচারাল মেডিসিন। যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলে থেকে ২০১০ সালে দেয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল পাবলিক হেলথ হিরোজ অ্যাওয়ার্ড।

যুক্তরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগঠন ভয়েস ফর গ্লোবাল বাংলাদেশীজ ২০২২ সালে জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে ‘এনআরবি লিবারেশন ওয়ার হিরো ১৯৭১’ পুরস্কার দেয়।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ৫০টির বেশি দেশে বিভিন্ন সম্মেলন বা সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন। একাধিক দেশকে জাতীয় ওষুধ নীতি তৈরিতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে একটির নাম ‘রিসার্চ: আ মেথড অব কলোনাইজেশন’। এটি ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। এরপর এটি বাংলা ছাড়াও ফরাসি, জার্মান, ইতালি, ডাচ, স্প্যানিশ ও একাধিক ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ হয়েছে।