ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশেষ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটার: বিএনপি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতায় ফাঁস ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য নারীর সম্মান, স্বাধীনতা ও সমঅধিকার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না বিএনপি নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার আশাবাদ তৌহিদ হোসেন নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক, ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে গুরুত্ব: প্রধান উপদেষ্টা শিরীণ বেবীর কবিতা ‘জিজ্ঞাসা’ সুবর্ণগ্রাম: এক ছাদের নিচে প্রকৃতি, বিনোদন ও স্বস্তির ঠিকানা (১) বাংলাদেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) ৩০তম আসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং স্থানীয়ভাবে পণ্য বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকা। যা গত বছরের ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ৩.৪২ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশি-বিদেশি মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী মেলায় প্রাপ্ত সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪.২৬ কোটি টাকা। বহুমুখী পাট ও পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স ও হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা, ফেব্রিক্স ও তৈজসপত্র খাতে এসব রপ্তানি আদেশ এসেছে। রপ্তানি আদেশ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পখাতের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত সামগ্রী, ফার্নিচার, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, হস্তশিল্প, জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট সেবা, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন সেবাধর্মী পণ্য। স্থানীয় বাজারে এসব পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় থেকেই ৩৯৩ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আটটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। এসব সেমিনারে সরকারি সংস্থা, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

এবারের মেলায় সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, নান্দনিকতা, পণ্য প্রদর্শন, গ্রাহকসেবা, স্বাস্থ্যবিধি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম। প্রাপ্ত রপ্তানি আদেশ ও বিক্রয় প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই মেলা ভবিষ্যতে দেশের অর্থ-বাণিজ্যে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ, বিক্রি ৩৯৩ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) ৩০তম আসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় ২২৪ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং স্থানীয়ভাবে পণ্য বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকা। যা গত বছরের ডিআইটিএফ-২০২৫ এর তুলনায় ৩.৪২ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশি-বিদেশি মোট ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী মেলায় প্রাপ্ত সম্ভাব্য রপ্তানি আদেশের পরিমাণ ১৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪.২৬ কোটি টাকা। বহুমুখী পাট ও পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কসমেটিক্স ও হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, হোম টেক্সটাইল, নকশী কাঁথা, ফেব্রিক্স ও তৈজসপত্র খাতে এসব রপ্তানি আদেশ এসেছে। রপ্তানি আদেশ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পখাতের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ছিল পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত সামগ্রী, ফার্নিচার, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, হস্তশিল্প, জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট সেবা, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন সেবাধর্মী পণ্য। স্থানীয় বাজারে এসব পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় থেকেই ৩৯৩ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আটটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। এসব সেমিনারে সরকারি সংস্থা, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

এবারের মেলায় সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, নান্দনিকতা, পণ্য প্রদর্শন, গ্রাহকসেবা, স্বাস্থ্যবিধি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম। প্রাপ্ত রপ্তানি আদেশ ও বিক্রয় প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই মেলা ভবিষ্যতে দেশের অর্থ-বাণিজ্যে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।