ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ট্রেনে নাশকতা আগুন, পুড়ে মারা গেলো মা-শিশুসহ ৪জন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ৯১ বার পড়া হয়েছে

নাশকতার আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে নাদিরা আক্তার পপি এবং তার শিশু সন্তানসহ ৪জন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

নাশকতার আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে নাদিরা আক্তার পপি এবং তার শিশু সন্তানসহ ৪জন। এই ঘটনার পর সাধারণ ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর বিরোধী রাঝনৈতিক দলকে দায়ি করা হয়েছে। নাশকতা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দায়ি করে বলেন, ১৩-১৪ সালে যারা রেলে সহিংসতা চালিয়েছিল, সেই একই গোষ্ঠী এখনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। রেলপথের নিরাপত্তায় ২ হাজার ৭০০ আনসার মাঠে নামানো হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে রেলপথ কেটে নেওয়া হলে এই মোহন এক্সপ্রেসই দুর্ঘটনায় ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যূত হয়ে ১জন যাত্রী নিহত হয়। গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ও সমমনা দলের কর্মসূচি ঘিরে এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন শ’র মতো যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনে বিএনপির নাশকতার শত শত প্রমাণ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছে।

ট্রেনে নাশকতা আগুন
ট্রেনে নাশকতা আগুন

তাদের বিবৃতি জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। যদিও বা বিএনপির রিজভী সাহেব নিন্দা জানালেও, তাদের কর্মসূচি ঘিরেই সহিংসতা ঘটছে। তারা কর্মসূচি ঘোষণা না করলে তো হতো না। মন্ত্রী জানান, ট্রেনে আগুন ও প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে তেজগাঁও রেলস্টেশনে এ ঘটনা। অবশ্য মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশন ছেড়ে আসার পরই ট্রেনে আগুন দেখতে পায় যাত্রীরা। কিন্ত্র যাত্রীদের ডাকচিৎকার চালকের কাছে পৌছাতে পারেনি।

এসময় অনেকে ঘুমে ছিলেন। ট্রেনটি তেজগাঁও স্টেশনে থামার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটো ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া ৪টি মরদেহ উদ্ধার করে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দল গুলো জ্বালাও পোড়াও চালিয়ে আসছে। এর আগে রেলপথ কেটে নেওয়া ছাড়াও সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজশাহী. জামালপুরে ট্রেনে আগুন দিয়ে বেশ কয়েকটি বগি পুড়িয়ে দিয়েছে। যারা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ট্রেনে নাশকতা আগুনে ভস্ম ট্রেন
নাশকতা আগুনে ভস্ম ট্রেন

ঢাকামুখো মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে বিমানবন্দর স্টেশনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সে অবস্থা প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেজগাঁও স্টেমনে এসে ট্রেনটি থামে। ততক্ষণে তিনটি বগি ও নারী-শিশুসহ ৪জন পুড়ে মারা যায়। ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর দাউ দাউ করে জ্বল ওঠে ট্রেনটি। আতংকিত যাত্রীরা ভেতরে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। তবে ট্রেনের চালক বুঝতেই পারেননি আগুন লেগেছে। ট্রেন থামার পর যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ভেতর থেকে নামতে শুরু করে।

কিন্তু তিনটি বগি পুড়ে গেলেও একটির ভেতরে আটকা পড়েন চারজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেতর থেকে ৫জনের মরদেহ উদ্ধার করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের হরতালের দিন সকালেই নামকতার আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে ৪ রেলযাত্রী। ২৮ অক্টোবর থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি চলাকালীন ৫টি জায়গায় ট্রেনে আগুনের ঘটনা এবং রেললাইন কেটে নিয়ে নাশকতা চালানো হয়। তাতে মোট ৫জনের মৃত্যু ঘটে। ট্রেনে নাশকতা চালানো হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ফের ট্রেনে নাশকতা। এবারও লক্ষ্যবস্তু মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্রেনে নাশকতা আগুন, পুড়ে মারা গেলো মা-শিশুসহ ৪জন

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

নাশকতার আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে নাদিরা আক্তার পপি এবং তার শিশু সন্তানসহ ৪জন। এই ঘটনার পর সাধারণ ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর বিরোধী রাঝনৈতিক দলকে দায়ি করা হয়েছে। নাশকতা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দায়ি করে বলেন, ১৩-১৪ সালে যারা রেলে সহিংসতা চালিয়েছিল, সেই একই গোষ্ঠী এখনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। রেলপথের নিরাপত্তায় ২ হাজার ৭০০ আনসার মাঠে নামানো হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে রেলপথ কেটে নেওয়া হলে এই মোহন এক্সপ্রেসই দুর্ঘটনায় ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যূত হয়ে ১জন যাত্রী নিহত হয়। গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ও সমমনা দলের কর্মসূচি ঘিরে এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন শ’র মতো যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনে বিএনপির নাশকতার শত শত প্রমাণ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছে।

ট্রেনে নাশকতা আগুন
ট্রেনে নাশকতা আগুন

তাদের বিবৃতি জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না। যদিও বা বিএনপির রিজভী সাহেব নিন্দা জানালেও, তাদের কর্মসূচি ঘিরেই সহিংসতা ঘটছে। তারা কর্মসূচি ঘোষণা না করলে তো হতো না। মন্ত্রী জানান, ট্রেনে আগুন ও প্রাণহানির ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেয়া হবে। মঙ্গলবার ভোর পাঁচটায় ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে তেজগাঁও রেলস্টেশনে এ ঘটনা। অবশ্য মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশন ছেড়ে আসার পরই ট্রেনে আগুন দেখতে পায় যাত্রীরা। কিন্ত্র যাত্রীদের ডাকচিৎকার চালকের কাছে পৌছাতে পারেনি।

এসময় অনেকে ঘুমে ছিলেন। ট্রেনটি তেজগাঁও স্টেশনে থামার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটো ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া ৪টি মরদেহ উদ্ধার করে। গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি ও সমমনা বিরোধী দল গুলো জ্বালাও পোড়াও চালিয়ে আসছে। এর আগে রেলপথ কেটে নেওয়া ছাড়াও সিলেট, টাঙ্গাইল, রাজশাহী. জামালপুরে ট্রেনে আগুন দিয়ে বেশ কয়েকটি বগি পুড়িয়ে দিয়েছে। যারা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে, তারা অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ট্রেনে নাশকতা আগুনে ভস্ম ট্রেন
নাশকতা আগুনে ভস্ম ট্রেন

ঢাকামুখো মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে বিমানবন্দর স্টেশনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সে অবস্থা প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তেজগাঁও স্টেমনে এসে ট্রেনটি থামে। ততক্ষণে তিনটি বগি ও নারী-শিশুসহ ৪জন পুড়ে মারা যায়। ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর দাউ দাউ করে জ্বল ওঠে ট্রেনটি। আতংকিত যাত্রীরা ভেতরে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। তবে ট্রেনের চালক বুঝতেই পারেননি আগুন লেগেছে। ট্রেন থামার পর যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ভেতর থেকে নামতে শুরু করে।

কিন্তু তিনটি বগি পুড়ে গেলেও একটির ভেতরে আটকা পড়েন চারজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেতর থেকে ৫জনের মরদেহ উদ্ধার করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের হরতালের দিন সকালেই নামকতার আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে ৪ রেলযাত্রী। ২৮ অক্টোবর থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি চলাকালীন ৫টি জায়গায় ট্রেনে আগুনের ঘটনা এবং রেললাইন কেটে নিয়ে নাশকতা চালানো হয়। তাতে মোট ৫জনের মৃত্যু ঘটে। ট্রেনে নাশকতা চালানো হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ফের ট্রেনে নাশকতা। এবারও লক্ষ্যবস্তু মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।