ঢাকা ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ট্রাম্প-পুতিন দু’জনই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিদায় চান

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫ ১৬১ বার পড়া হয়েছে

ট্রাম্প-পুতিন দু’জনই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিদায় চান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি তাদের প্রচণ্ড অসন্তোষের দিক দিয়ে একবিন্দুতে পৌছেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তারা দু’জনই চাইছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে জেলেনস্কি সরে যান।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প দাবি করেন, আমরা এমন একটি অবস্থায় আছি, যেখানে ইউক্রেনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যেখানে সামরিক শাসন চলছে এবং বলতে কষ্ট লাগছে যে জেলেনস্কি জনপ্রিয়তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইউক্রেনের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সামরিক শাসন চলাকালে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব।

ডম. ট্রাম্পের এই মন্তব্যেও পাঁচ দিনের মাথায় মি. পুতিন ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আসলে জেলেনস্কির কত শতাংশ জনসমর্থন আছে, সেটা বড় কথা নয়, তা ৪ শতাংশ বা যা-ই হোক না কেন। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার জনপ্রিয়তা তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ঠিক অর্ধেক।

রুশ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইউক্রেনের সাবেক শীর্ষ জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনির দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন। এই জেনারেলকে গত বছর চাকরিচ্যুত করেছিলেন জেলেনস্কি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশিওলজির জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির কূটনৈতিক টানাপোড়েন ইউক্রেনের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। ডিসেম্বরে তার জনপ্রিয়তা ছিল ৫২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশে।

অবশ্য জরিপ অনুযায়ী, ৩৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় জেলেনস্কিকে বিশ্বাস করেন না। সমালোচকেরা জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তিনি নিজের রাজনৈতিক দল সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল এর ভেতর দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর ভেতরে দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জালুঝনিকে বরখাস্ত করার জন্যও তার সমালোচনা হয়।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জালুঝনির ব্যাপারে ঠিকই বলেছিলেন পুতিন। কারণ, জালুঝনিই ইউক্রেনের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জেলেনস্কিকে হারাতে পারেন।

শক্তপোক্ত, স্বল্পভাষী এই জেনারেলের ৬২ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। তবে তিনি একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন না। জালুঝনি গত সপ্তাহে ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা আরবিসি-ইউক্রেনকে বলেছেন, যখন যুদ্ধ চলছে, তখন আমাদের সবার উচিত দেশকে রক্ষার জন্য কাজ করা, নির্বাচনের ব্যাপারে চিন্তা করা নয়।

২০১৯ সালের ৩১ মার্চ কিয়েভের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ছবি: রয়টার্স

সে যা-ই হোক না কেন ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার আগে জেলেনস্কি যেসব কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন, সেগুলোই জালুঝনিও চতুরতার সঙ্গে করে চলেছেন।

জালুঝনি কদাচিৎ সাক্ষাৎকার দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উপস্থিতি সীমিত করে রেখেছেন, যেন তার রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে ভোটাররা আন্দাজ করতে থাকেন।

জালুঝনি ট্রাম্পের প্রতি মাত্র একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ৬ মার্চ লন্ডনের চাথাম হাউসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংসের এবং পশ্চিমা বিশ্বের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ তৈরির অভিযোগ তোলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে দ্রুত একটি ভোটের আয়োজন করার দাবি করলে এর জবাবে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি ছিল স্পষ্ট, নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জালুঝনি এখন জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ করছেন না।


ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি ছবি: ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সৌজন্যে

এদিকে শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল বারবার জেলেনস্কির বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যদিও তাদের জনপ্রিয়তা খুবই কম।

মার্চের শুরুতে ট্রাম্পের সহকারীরা ইউক্রেনের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও দুবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।

একসময় যিনি তার চুলের হালো বিনুনি স্টাইলের জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন। কমেডিয়ান থেকে রাজনীতিতে আসা জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগপর্যন্ত ২০১৯ সালের নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন টিমোশেঙ্কো।

কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১০ দশমিক ৬ শতাংশ টিমোশেঙ্কোর প্রতি আস্থা রাখেন বলে কিয়েভভিত্তিক জরিপ সংস্থা রোজুমকভ সেন্টারের ২৫ মার্চের জরিপে উঠে এসেছে। টিমোশেঙ্কো ইউক্রেনের বাতকিভশচিনা (ফাদারল্যান্ড) নামের দলের প্রধান।

জেলেনস্কির পূর্বসূরি এবং প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পোরোশেঙ্কো অবশ্য জনপ্রিয়তায় টিমোশেঙ্কোর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।

জরিপ অনুযায়ী, ১৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় পেট্রো পোরোশেঙ্কোর প্রতি আস্থা রাখেন। ইউক্রেনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া পোরোশেঙ্কো ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভাষা ও জাতিগত বিভেদ ভুলে সব ইউক্রেনীয়কে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওই নির্বাচনে জয় পান।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পোরোশেঙ্কো নানা দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জেলেনস্কির কাছে পরাজিত হন।

পোরোশেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের সহকারীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে বৈঠকটি আগাম নির্বাচন নিয়ে ছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি অস্বীকার করেছেন।

পোরোশেঙ্কো ফেসবুকে লিখেছেন, শুধু যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরই ইউক্রেনে নির্বাচন সম্ভব।

ইউক্রেনের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সামরিক শাসন চলাকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব।

কারণ, ইউক্রেনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রায় সাত লাখ সেনাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে তারা ভোট দিতে পারেন বা চাইলে তাদের কেউ প্রার্থী হতে পারেন ও প্রচার চালাতে পারেন।

এটি কার্যত অসম্ভব, বিশেষ করে যখন রুশ বাহিনী ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৫০ মাইল) দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনজুড়ে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্চে রুশদের নতুন এলাকা দখলের অগ্রগতি ছিল কম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্রাম্প-পুতিন দু’জনই প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিদায় চান

আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৫

ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি তাদের প্রচণ্ড অসন্তোষের দিক দিয়ে একবিন্দুতে পৌছেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তারা দু’জনই চাইছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে জেলেনস্কি সরে যান।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প দাবি করেন, আমরা এমন একটি অবস্থায় আছি, যেখানে ইউক্রেনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি, যেখানে সামরিক শাসন চলছে এবং বলতে কষ্ট লাগছে যে জেলেনস্কি জনপ্রিয়তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

ইউক্রেনের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সামরিক শাসন চলাকালে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব।

ডম. ট্রাম্পের এই মন্তব্যেও পাঁচ দিনের মাথায় মি. পুতিন ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, আসলে জেলেনস্কির কত শতাংশ জনসমর্থন আছে, সেটা বড় কথা নয়, তা ৪ শতাংশ বা যা-ই হোক না কেন। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তার জনপ্রিয়তা তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ঠিক অর্ধেক।

রুশ প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইউক্রেনের সাবেক শীর্ষ জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনির দিকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন। এই জেনারেলকে গত বছর চাকরিচ্যুত করেছিলেন জেলেনস্কি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশিওলজির জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির কূটনৈতিক টানাপোড়েন ইউক্রেনের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দেয়। ডিসেম্বরে তার জনপ্রিয়তা ছিল ৫২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশে।

অবশ্য জরিপ অনুযায়ী, ৩৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় জেলেনস্কিকে বিশ্বাস করেন না। সমালোচকেরা জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তিনি নিজের রাজনৈতিক দল সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল এর ভেতর দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর ভেতরে দুর্নীতি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জালুঝনিকে বরখাস্ত করার জন্যও তার সমালোচনা হয়।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জালুঝনির ব্যাপারে ঠিকই বলেছিলেন পুতিন। কারণ, জালুঝনিই ইউক্রেনের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জেলেনস্কিকে হারাতে পারেন।

শক্তপোক্ত, স্বল্পভাষী এই জেনারেলের ৬২ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে। তবে তিনি একাধিকবার বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন না। জালুঝনি গত সপ্তাহে ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা আরবিসি-ইউক্রেনকে বলেছেন, যখন যুদ্ধ চলছে, তখন আমাদের সবার উচিত দেশকে রক্ষার জন্য কাজ করা, নির্বাচনের ব্যাপারে চিন্তা করা নয়।

২০১৯ সালের ৩১ মার্চ কিয়েভের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ছবি: রয়টার্স

সে যা-ই হোক না কেন ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার আগে জেলেনস্কি যেসব কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন, সেগুলোই জালুঝনিও চতুরতার সঙ্গে করে চলেছেন।

জালুঝনি কদাচিৎ সাক্ষাৎকার দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উপস্থিতি সীমিত করে রেখেছেন, যেন তার রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে ভোটাররা আন্দাজ করতে থাকেন।

জালুঝনি ট্রাম্পের প্রতি মাত্র একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। ৬ মার্চ লন্ডনের চাথাম হাউসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংসের এবং পশ্চিমা বিশ্বের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ তৈরির অভিযোগ তোলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনে দ্রুত একটি ভোটের আয়োজন করার দাবি করলে এর জবাবে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

এর অন্তর্নিহিত বার্তাটি ছিল স্পষ্ট, নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জালুঝনি এখন জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ করছেন না।


ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি ছবি: ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সৌজন্যে

এদিকে শোনা যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল বারবার জেলেনস্কির বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যদিও তাদের জনপ্রিয়তা খুবই কম।

মার্চের শুরুতে ট্রাম্পের সহকারীরা ইউক্রেনের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও দুবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া টিমোশেঙ্কোর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।

একসময় যিনি তার চুলের হালো বিনুনি স্টাইলের জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন। কমেডিয়ান থেকে রাজনীতিতে আসা জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার আগপর্যন্ত ২০১৯ সালের নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন টিমোশেঙ্কো।

কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১০ দশমিক ৬ শতাংশ টিমোশেঙ্কোর প্রতি আস্থা রাখেন বলে কিয়েভভিত্তিক জরিপ সংস্থা রোজুমকভ সেন্টারের ২৫ মার্চের জরিপে উঠে এসেছে। টিমোশেঙ্কো ইউক্রেনের বাতকিভশচিনা (ফাদারল্যান্ড) নামের দলের প্রধান।

জেলেনস্কির পূর্বসূরি এবং প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পোরোশেঙ্কো অবশ্য জনপ্রিয়তায় টিমোশেঙ্কোর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।

জরিপ অনুযায়ী, ১৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় পেট্রো পোরোশেঙ্কোর প্রতি আস্থা রাখেন। ইউক্রেনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া পোরোশেঙ্কো ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভাষা ও জাতিগত বিভেদ ভুলে সব ইউক্রেনীয়কে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওই নির্বাচনে জয় পান।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পোরোশেঙ্কো নানা দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি জেলেনস্কির কাছে পরাজিত হন।

পোরোশেঙ্কো নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্পের সহকারীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে বৈঠকটি আগাম নির্বাচন নিয়ে ছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তিনি অস্বীকার করেছেন।

পোরোশেঙ্কো ফেসবুকে লিখেছেন, শুধু যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্তে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরই ইউক্রেনে নির্বাচন সম্ভব।

ইউক্রেনের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, সামরিক শাসন চলাকালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যুদ্ধ চলাকালে নির্বাচন আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব।

কারণ, ইউক্রেনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রায় সাত লাখ সেনাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে তারা ভোট দিতে পারেন বা চাইলে তাদের কেউ প্রার্থী হতে পারেন ও প্রচার চালাতে পারেন।

এটি কার্যত অসম্ভব, বিশেষ করে যখন রুশ বাহিনী ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৫০ মাইল) দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনজুড়ে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্চে রুশদের নতুন এলাকা দখলের অগ্রগতি ছিল কম।