তোষণ, দুর্নীতি ও স্বার্থের জালে জ্বালানি খাত ধ্বংস করেছে পতিত সরকার: দেবপ্রিয়
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের জ্বালানি নীতি ছিল তোষণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিনির্ভর, এমন কড়া সমালোচনা করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলের অসাধু যোগসাজসে দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, যার ফলে জাতীয় স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার এফডিসিতে ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত “জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক সুরক্ষা অর্জন সম্ভব” শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় অভিযোগ করেন, সরকার দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
বিশেষ করে এলএনজি আমদানিকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী লাভবান হয়েছে, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই নীতির কারণে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে অসম চুক্তি করেছে, তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি খাতের কেবিনেট সাব-কমিটি কী কাজ করছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি বলে দাবি জানান।
এ সময় তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব নীতি ও প্রণোদনা কাঠামো নিয়ে কী ধরনের সংস্কার করা হবে, তা এখনও অস্পষ্ট।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতের দুর্নীতি ও দলীয় স্বার্থের কারণে জ্বালানি খাতে দেশ স্বনির্ভর হতে পারেনি।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন উপেক্ষা করে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে, যা এখন বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছায়া সংসদে অংশ নিয়ে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির দলকে পরাজিত করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।



















