ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের নতুন গতি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের তৈরি  করতে হবে: ববি হাজ্জাজ পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি প্রকৃত মালিকের আগেই ইতালি গেলেন অন্য নারী ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি অনুপ্রবেশ কালে মিয়ানমারের সেনাসদস্যসহ আটক ৩ কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট না হলে মন্ত্রিসভায় রদবদলের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প-কারখানা ও নগরজীবন বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতি, আক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি ও প্রায় ৪ লাখ গবাদিপশু সরকারের পাঁচ মাসের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে

সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির এক সকালে, ১৪ মে, বিরল এক বন্য প্রাণীর সন্ধানে বেরিয়েছিলাম ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার কাজল হাজরার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বনাঞ্চল ও চা-বাগানে ঘুরে দুর্লভ প্রাণীর ছবি সংগ্রহই তাঁর নেশা। আমাদের গন্তব্য ছিল মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে তার আগে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানে একটু থামার সিদ্ধান্ত নিই।

চা-বাগানের সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করছিলাম। হঠাৎ পাশের ঝোপে খসখস শব্দ। মুহূর্তের জন্য একটি প্রাণী চোখে পড়তেই কাজল হাজরা ফিসফিস করে বললেন, “ওটা চিতাবিড়াল!” কিন্তু চোখের পলকে প্রাণীটি ঘন ঝোপের আড়ালে হারিয়ে গেল।

প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। শুরু হলো দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ধৈর্যের পুরস্কার মিলল। কিছুক্ষণ পর আবার দেখা দিল সেই রহস্যময় প্রাণী। এবার আর দেরি নয়, ক্যামেরার শাটার একের পর এক চাপতে থাকলেন কাজল হাজরা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চিতাবিড়ালটি আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। তবে ক্যামেরার ডিসপ্লেতে তখন ধরা পড়েছে দেশের অন্যতম দুর্লভ বন্য প্রাণীটির অসাধারণ কিছু ছবি।

কাজল হাজরা জানান, প্রায় চার বছর আগে লাউয়াছড়া বনে একবার চিতাবিড়ালের ছবি তুলেছিলেন। তাঁর ভাষায়, আগে চা-বাগান ও বনাঞ্চলে এদের দেখা মিলত তুলনামূলক বেশি। এখন সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই এমন বিরল প্রাণী ক্যামেরাবন্দী করতে পারলে সত্যিই আনন্দ লাগে।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, চিতাবিড়াল দেশের একটি দুর্লভ বন্য প্রাণী। এর ইংরেজি নাম ইংরেজি নাম লেপার্ড ক্যাট (Leopard Cat) এবং বৈজ্ঞানিক নাম প্রাইওনেইলারাস বেঙ্গালেনসিস (Prionailurus bengalensis)। আকারে এটি গৃহপালিত বিড়ালের মতো হলেও শরীরজুড়ে কালো ফোঁটা ও দাগের কারণে দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির চিতাবাঘের মতো।

প্রাপ্তবয়স্ক চিতাবিড়ালের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩৯ থেকে ৬৬ সেন্টিমিটার এবং লেজের দৈর্ঘ্য ১৭ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার। ওজন তিন থেকে চার কেজির মধ্যে। হালকা হলুদাভ শরীর, সাদাটে তলদেশ এবং দীর্ঘ পা এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

মূলত নিশাচর এই প্রাণী ভোর ও সন্ধ্যাতেও সক্রিয় থাকে। একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত চিতাবিড়াল গাছে চড়া ও সাঁতার কাটায় বেশ দক্ষ। বড় কীটপতঙ্গ, পাখি ও ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, তৃণভূমি এবং গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি এলাকাই এদের পছন্দের আবাসস্থল।

তবে বনভূমি ধ্বংস, আবাসস্থল সংকোচন এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এদের সংখ্যা। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে চিতাবিড়াল, যেখানে দুর্ঘটনা ও নানা ঝুঁকিতে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই মনোমুগ্ধকর প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল

আপডেট সময় : ০৯:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির এক সকালে, ১৪ মে, বিরল এক বন্য প্রাণীর সন্ধানে বেরিয়েছিলাম ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার কাজল হাজরার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বনাঞ্চল ও চা-বাগানে ঘুরে দুর্লভ প্রাণীর ছবি সংগ্রহই তাঁর নেশা। আমাদের গন্তব্য ছিল মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। তবে তার আগে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানে একটু থামার সিদ্ধান্ত নিই।

চা-বাগানের সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের প্রকৃতি উপভোগ করছিলাম। হঠাৎ পাশের ঝোপে খসখস শব্দ। মুহূর্তের জন্য একটি প্রাণী চোখে পড়তেই কাজল হাজরা ফিসফিস করে বললেন, “ওটা চিতাবিড়াল!” কিন্তু চোখের পলকে প্রাণীটি ঘন ঝোপের আড়ালে হারিয়ে গেল।

প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। শুরু হলো দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে ধৈর্যের পুরস্কার মিলল। কিছুক্ষণ পর আবার দেখা দিল সেই রহস্যময় প্রাণী। এবার আর দেরি নয়, ক্যামেরার শাটার একের পর এক চাপতে থাকলেন কাজল হাজরা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চিতাবিড়ালটি আবার অদৃশ্য হয়ে গেল। তবে ক্যামেরার ডিসপ্লেতে তখন ধরা পড়েছে দেশের অন্যতম দুর্লভ বন্য প্রাণীটির অসাধারণ কিছু ছবি।

কাজল হাজরা জানান, প্রায় চার বছর আগে লাউয়াছড়া বনে একবার চিতাবিড়ালের ছবি তুলেছিলেন। তাঁর ভাষায়, আগে চা-বাগান ও বনাঞ্চলে এদের দেখা মিলত তুলনামূলক বেশি। এখন সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই এমন বিরল প্রাণী ক্যামেরাবন্দী করতে পারলে সত্যিই আনন্দ লাগে।

বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, চিতাবিড়াল দেশের একটি দুর্লভ বন্য প্রাণী। এর ইংরেজি নাম ইংরেজি নাম লেপার্ড ক্যাট (Leopard Cat) এবং বৈজ্ঞানিক নাম প্রাইওনেইলারাস বেঙ্গালেনসিস (Prionailurus bengalensis)। আকারে এটি গৃহপালিত বিড়ালের মতো হলেও শরীরজুড়ে কালো ফোঁটা ও দাগের কারণে দেখতে অনেকটা ক্ষুদ্রাকৃতির চিতাবাঘের মতো।

প্রাপ্তবয়স্ক চিতাবিড়ালের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৩৯ থেকে ৬৬ সেন্টিমিটার এবং লেজের দৈর্ঘ্য ১৭ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার। ওজন তিন থেকে চার কেজির মধ্যে। হালকা হলুদাভ শরীর, সাদাটে তলদেশ এবং দীর্ঘ পা এদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

মূলত নিশাচর এই প্রাণী ভোর ও সন্ধ্যাতেও সক্রিয় থাকে। একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত চিতাবিড়াল গাছে চড়া ও সাঁতার কাটায় বেশ দক্ষ। বড় কীটপতঙ্গ, পাখি ও ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী এদের প্রধান খাদ্য। বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, তৃণভূমি এবং গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি এলাকাই এদের পছন্দের আবাসস্থল।

তবে বনভূমি ধ্বংস, আবাসস্থল সংকোচন এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে এদের সংখ্যা। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে চিতাবিড়াল, যেখানে দুর্ঘটনা ও নানা ঝুঁকিতে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই মনোমুগ্ধকর প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।