বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:১২ অপরাহ্ন

চলুন মহাকাশ ভ্রমণে, খরচ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
  • ৮২ Time View

ছবি সংগ্রহ

“মহাশূন্যে বাণিজ্যিক ভ্রমণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছেন দুই জন ধনী ব্যবসায়ী। একজন ব্রিটিশ বিলিওনেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন। আর অন্যজন মার্কিন ব্যবসায়ী জেফ বেজোস। মহাকাশ ভ্রমণকারী রিচার্ড ব্র্যানসন বলেন, এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের ভেতর দিয়ে মহাকাশে পর্যটনের নতুন এক যুগের সূচনা হবে। আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হবে”

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মহাশূন্যে যারা বেড়াতে যেতে চাইবেন তাদের বেশ অর্থবান হতে হবে। মহাশূন্যে কয়েক মিনিটের অভিজ্ঞতার জন্য প্রতিটি টিকিটের ব্যয় পড়বে আড়াই লাখ মার্কিন ডলার।

ইতোমধ্যে ব্র্যানসনের ভার্জিন গ্যালাকটিকে চড়ে মহাকাশে যেতে টিকিট রিজার্ভ করেছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ। অন্যদিকে ৭ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ ব্লু অরিজিনের মাধ্যমে মহাকাশে যেতে চায়। তারা ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন। অনেকে টাকাও জমা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০৪০ সাল নাগাদ মহাকাশ ভ্রমণ ব্যবসা ৩৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে।

মহাকাশ জয়ের ইতিহাস 

মহাকাশ জয়ের ইতিহাস : খ্রিস্টীয় ২০’শতকে অধিক-উচ্চতার বেলুন উড্ডয়নের আবির্ভাব হলে মানবজাতি সর্বপ্রথম মহাকাশ অনুসন্ধান শুরু করে। মানববাহী রকেট উড্ডয়ন এবং তারও পরে মানব যাত্রীবাহী পৃথিবী আবর্তন  সম্পন্ন হয়। ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানব হিসেবে মহাকাশে থেকে পৃথিবী আবর্তন করেন।

বলা হয়েছে, শূন্যস্থান ও বিকিরণজনিত কারণে রক্তমাংসের মানুষের মাধ্যমে অনুসন্ধানের জন্য মহাকাশ অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ। অণু-অভিকর্ষ মানুষের শারীরিক প্রক্রিয়াসমূহের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যার ফলে পেশীক্ষয় এবং অস্থিক্ষয় হয়। এইসব স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যা ছাড়াও অর্থনৈতিকভাবেও মহাকাশে মানুষসহ যেকোনও বস্তু প্রেরণ করার খরচও

অত্যধিক। মহাকাশে প্রবেশ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে মানব মহাকাশ যাত্রা কেবল নিম্ন কক্ষপথে পৃথিবী আবর্তন এবং চাঁদে গমনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে মানববিহীন মহাকাশযানগুলি সৌরজগতের সবগুলি গ্রহে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

ইতিহাস বলছে, বিজ্ঞান মূলত কখনোও থেমে থাকেনি। সময়ের পিঠ বেয়ে বরং বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার মাধ্য দিয়েই এগিয়েছে পৃথিবী এবং বিভিন্ন যুগ অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে।

বলা হয়, সত্যিকার অর্থে বিজ্ঞানের সূচনা মানব জন্মের শুরু থেকেই। পার্থক্য এই যে সে সময় মানুষ জানত না, সে কি করছে বা কোন সভ্যতার সূচনা ঘটতে চলেছে তার দ্বারা। প্রথম যে মানুষটি পাথরে পাথর ঘষে আগুন সৃষ্টি করেছিল, সে কষ্মিনকালেও ভাবেনি যে, সে নব সভ্যতার জন্ম দিলো।

তারপর একসময় যখন মানুষ তার কর্ম দেখে কাজের অর্থ ও গুরুত্ব বুঝতে পারল, তখন সে তার কাজগুলোকে গুছিয়ে আনার চেষ্টা করল। আর এভাবেই জন্ম নিলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তারপরের ইতিহাস হল বিপ্লবের ইতিহাস। যার পর মানব সভ্যতাকে আর কখনও পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই মার্কিন মহাকাশচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রাখেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ এর মধ্যে চাঁদের বুকে ৬বার মানুষের অবতরণ ঘটে এবং

অসংখ্যবার মনুষ্যবিহীন অবতরণ ঘটেছে। বিজ্ঞানের বিকাশ এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন মানুষের সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে সত্যি করার সুযোগ করে দিয়েছে।

চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন মানুষের অনেক আগে থেকেই ছিল। মহাকাশে মানুষের বিচরণের কয়েক বছরের মধ্যেই সে স্বপ্ন পূরণ হয়। এরপর মানুষ চোখ রাখে মঙ্গলের দিকে। লাল রঙের এই

গ্রহটিতে পৌঁছানোর ইচ্ছাও মানুষ বহুবছর ধরে লালন করে আসছে। কিন্তু খুব সহসাই সে ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মঙ্গল  সূর্য থেকে দূরত্বের হিসাবে চতুর্থ

মঙ্গল সূর্য থেকে দূরত্বের হিসাবে চতুর্থ তথা বুধের পরেই সৌরজগতের দ্বিতীয়-ক্ষুদ্রতম গ্রহ। বাংলা সহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় এই গ্রহটি এক হিন্দু গ্রহদেবতার নামাঙ্কিত। ইংরেজি মার্স  নামটি এসেছে রোমান পুরাণের যুদ্ধদেবতা মার্সের নামানুসারে।

সম্প্রতি অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ব্লু অরিজিন রকেটে চড়ে মহাকাশ ভ্রমণে যান। মাত্র সাড়ে ১০ মিনিটেই মহাকাশ ভ্রমণ শেষ করে আবার নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন তারা। তারা পৃথিবী থেকে অন্তত ১০০ কিলোমিটার উঁচুতে কারম্যান লাইনের উপরে ওঠেন। যেখানে

তারা ভর শূন্যতা উপভোগ করেন। এর আগে ১১ জুলাই ব্রিটিশ ধনকুবের, উদ্যোক্তা ও মহাকাশযান নির্মাতা কোম্পানি ভার্জিন গ্যালাকটিকের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

বর্তমানে ধনীদের ভ্রমণের নতুন গন্তব্য হচ্ছে মহাকাশ

বর্তমানে ধনীদের ভ্রমণের নতুন গন্তব্য হচ্ছে মহাকাশ। একটা সময় মহাকাশ ভ্রমণ পরাশক্তিধর দেশের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সম্মানের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন মহাকাশে ভ্রমণের শ্রেষ্ঠত্ব দখলের লড়াইয়ে নেমেছিল।

আর এখন মহাকাশ নিয়ে গবেষণার শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি খাত। মহাকাশ ভ্রমণে মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করেছেন বেশ কয়েক জন উদ্যোক্তা। চলতি মাসেই মহাশূন্যে বাণিজ্যিক ভ্রমণের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছেন দুই জন ধনী ব্যবসায়ী।

একজন ব্রিটিশ বিলিওনেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন। আর অন্যজন মার্কিন ব্যবসায়ী জেফ বেজোস। মহাকাশ পর্যটনের নতুন এক যুগের সূচনা হবে।

মহাকাশ ভ্রমণকারী রিচার্ড ব্র্যানসন বলেন, এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের ভেতর দিয়ে মহাকাশে পর্যটনের নতুন এক যুগের সূচনা হবে। আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরেক মহাকাশ ভ্রমণকারী অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও মাত্র সাড়ে ১০ মিনিটে মহাকাশ ভ্রমণ শেষে ক্যাপসুলটি পৃথিবীতে ফিরে আসে। বেজোসের সংস্থা ব্লু অরিজিন এই নিউ

শেপার্ড নামে রকেটটি তৈরি করেছে। এটি মহাকাশ পর্যটনের জন্য ক্রমবর্ধমান বাজারের চাহিদা পূরণের জন্যই নকশা করা হয়েছে।

এই দুই ব্যবসায়ীর ভ্রমণের পর মহাকাশ ভ্রমণের এক নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। মহাকাশচারী হওয়ার যে স্বপ্ন মানুষের ছিল তা পূরণে সহায়তা করবে। যা শুধু এতদিন পেশাদার বিজ্ঞানী ও বৈমানিকদের পক্ষেই সম্ভব ছিল। প্রতিবেদনটি তৈরিতে উইকিপিডিয়া সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223