ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাছ রক্ষা ও গাছ চেনার ফেরিওয়ালা তাঁরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

ওরা চার জন : বা থেকে প্রথম বেনুবর্ণা অধিকারী, মাধবী লতা, সাঈদা এ জাহিদ ও হাবিব আরা মেরী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 চোখেমুখে তাদের গাছ ও পরিবেশ রক্ষার স্বপ্ন

 

অনিরুদ্ধ

বায়ু দূষণের শক্ত অবস্থানে ঢাকা। পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকের উদাসীনতা। গাছ কেটে নেওয়া, নগরে চলাচলরত অধিকাংশ গণপরিবহন বায়ু দূষণের উৎস। অপরিকল্পিত ঢাকার পরিবেশ দিন দিন নাজুক অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

আকাশ মুখো কংক্রিকেটর উঁচু দালান। রাস্তায় এলোমেলো যানবাহনের ছুটোছুটি। নগরীর ব্যস্ততম রাস্তায় যানজটের অন্যতম কারণ পায়ে চালানো রিকশা। দীর্ঘযানজটের কারণে প্রচণ্ডভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। রীতিমত নাকমুখ চেপে স্কুলে যেতে হচ্ছে শিশুদের। অব্যাহত গাড়ির হর্ণের উচ্চ শব্দ অসভ্যতার পরিচয় মেলে।

ঢাকায় গাছপালা তেমন একটা নেই বল্লেই চলে। সবুজ নগরী গড়ে তোলার স্লোগান মাঝে মাঝেই ওঠে। কিন্তু এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষিক দৈন্যতাই এর বড় কারণ বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা। এ কারণে ঢাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ।

দূষিত শহরের এক টুকরো ফুস ফুস লালবাগের কেল্লা বা দুর্গ। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এর অবস্থান। যদিও এটিকে একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ বলা হয়ে থাকে। ইতিহাস বলছে, সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ সালে দুর্গ নিমার্ণ কাজ শুরু করেন। তিনি দিল্লিতে চলে গেলে নির্মাণ কাজ থেমে যায়। পরবর্তীতে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেননি। কারণ, কন্যা পরী বিবি মারা গেলে নির্মাণ তিনি কাজ থামিয়ে দেন।

লালবাগ দুর্গ
লালবাগ দুর্গ

কিন্তু এই কেল্লার বিশাল প্রাঙ্গণজুড়ে রয়েছে সবুজ ও নানা জাতের ফুলের বাগান। চারিদিকে কেল্লার চার দেওয়ালের মধ্যে নগরীর মানুষ বিনোদন ও বুকভরে সুস্থ্যবাতাস গ্রহণের ছুটে আসেন এখানে।

অনেকে আবার এখানের নানা জাতের গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে আসেন। এমনই চার সমৃদ্ধ নারীর সঙ্গে পরিচয় হলো কেল্লার প্রসস্ত গোলাপ বাগানের পাশে। তাদের কাজের বিষয় জানতে পেরে মুগ্ধ হলাম।

চারজনের অবস্থান চারদিকে হলেও কাজ তাদের চুম্বকের মতো এক করে নেয়। পরিবেশ রক্ষায় এই চারজন সমাজের ‘ফোর পিলার’ তথা চারস্তম্ভ হয়ে মানুষের সুস্থ্যতায় নিবেদীত হয়েছেন।

লালবাগের কেল্লার সবুজ ও সুবাশিত প্রাঙ্গণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত। বিশেষ করে শিশুদের অনাবিল আনন্দ প্রত্যক্ষ করে যেকোন মানুষ প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। দূষিত চিমনি থেকে এমন পরিবেশ আগামীর জন্য আর্শিবাদ।

আমাদের আলাপ চলছিল একটি নান্দনিক স্থাপত্যের পাশে দাঁড়িয়ে। লক্ষ্য করছিলাম মানুষ কতটা মনে খোরাক পাচ্ছেন এখানে। তাদের উচ্ছ্বলতা বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ ছুটোছুটি মুগ্ধ করে। একটুকরো ফুসফুসে একারণে সচেতন অভিভাবক অন্তত সপ্তাহে একটি দিন সন্তানদের নিয়ে ছুটে আসেন এখানে।

কেল্লার চারিদিকে আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠেছে। যেখানে গায়ে হায়ে লাগোনো অনেক উচু ভবন। এক সময় এই কেল্লার উচুস্থানে দাড়িয়ে দেখা যেতে বুড়িগঙ্গার স্বচ্ছ জল। কিন্তু আজ দখল-দূষণে ধুকছে ঢাকার অন্যতম গর্বি ফুস ফুস বুড়িগঙ্গা! নদীখোকো দস্যুদের কবলে হারাতে বসেছে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী। কি অপরাধ ইতিহাস রক্ষার স্বাক্ষী বুড়িগঙ্গার! থামলেন সাঈদা এ জাহিদ । এসময় তার পাশে এসে দাড়ালেন আরও তিন নারী।

সাঈদা এ জহিরই পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাদের চারজনের চোখেমুখে গাছ ও পরিবেশ রক্ষার স্বপ্ন। গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে যান তারা। মানুষকে পরামর্শ দেন গাছ লাগান, পরিবেশ রক্ষা করুন। কোথায় জায়গা না থাকলে বাড়ির ছাদে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।

এমন দায়িত্বই পালন করে চলেছেন হাবিব আরা মেরী। প্রকৃতির মতো শান্ত ও উদার এই মানুষগুলোর একটি পিলার মেরী। সময়ের তাগিদে পরিবেশ রক্ষায় নগরবাসীই জেগে ওঠবেন, সেই প্রত্যাশা থেকেই তার পথ চলা। ছাদবাগানের প্রসার ঘটছে। যেসব ভবন মালিকদের গাছ লাগাতে অনিহা ছিল, আজ এমন অনেকেই নিজের পরিবার রক্ষার তাগিদে ছদ বাগান করে রীতিমত গর্ববোধ করছেন। তখন মেরীর দুচোখ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি স্বপ্ন দেখেন মানুষের প্রয়োজন ঠিকই তারা অনুভব করবেন। কারণ, পরিবেশ রক্ষার কোন বিকল্প নেই।

আমাদের কথা তখন পুরোপুরি জমাট বেধে গিয়েছে। কিন্তু চতুর্থ স্তম্ভের একজন মাধবী লতা আশপাশের গাছের ছবি তুলে তার ভান্ডার পূর্ণ করছেন। পরক্ষণেই এসে পাশে দাড়িয়ে কথা শুনছেন। এবারে একমুখ হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, গাছাপালার কাছে ছুটে যাওয়া। যেখানেই গাছ, সেখানেই আমরা। আমরা গাছের সঙ্গে পরিচিত হই, পরিবেশের কথা বলি। আমাদের কাজের ক্যানভাস সমগ্র বাংলাদেশ। দেশের বাইরে পা রাখলেও গাছের কথা মাথায় রাখি।

গাছ আর ফুলের সঙ্গে প্রচণ্ড মিতালি রয়েছে বেনুবর্ণা অধিকারীর। লালবাগের কেল্লার সবুজ ও ফুলের বাগানে এক বিকেল কাটানোর পরামর্শটা তারই ছিল। বললেন, ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা অন্যতম পর্যটন এলাকা। এখানে গাছ ও ফুলে ফুলে সমৃদ্ধ। ইটপাথরের নগরীতে বসবাস, অথচ এখানেই রয়েছে সবুজের সমারোহ। সে মতে ওরা চারজন একত্রিত হয়ে এই অভিযানে বেরুনো। এসে সবাই মুগ্ধ।

মাথার ওপরে উদার আকাশ। চারিদিকে মানুষের পদচারণা। ফুল ও গাছের পাশে মানুষের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন। অনেক যুগল ছবি তোলায় ব্যস্ত। তবে, তাদেরকে দু’দণ্ড পরিবেশের কথা, গাছের কথা ও ফুলের কথা বলার লোক নেই। এই তরুণ-তরুণীরাই পরিবেশ রক্ষার আগামীর বর্ম হয়ে কাজ করতে পারে।

সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। বেরুতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী চার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় এবং তাদের কাজের বিষয়ে জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম। আগামীতে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করবো এমন একটা সুমত হলো। সেই সঙ্গে একটি কথাই বার বার উচ্চারিত হচ্ছিল, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ’।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গাছ রক্ষা ও গাছ চেনার ফেরিওয়ালা তাঁরা

আপডেট সময় : ১০:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪

 

 চোখেমুখে তাদের গাছ ও পরিবেশ রক্ষার স্বপ্ন

 

অনিরুদ্ধ

বায়ু দূষণের শক্ত অবস্থানে ঢাকা। পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকের উদাসীনতা। গাছ কেটে নেওয়া, নগরে চলাচলরত অধিকাংশ গণপরিবহন বায়ু দূষণের উৎস। অপরিকল্পিত ঢাকার পরিবেশ দিন দিন নাজুক অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

আকাশ মুখো কংক্রিকেটর উঁচু দালান। রাস্তায় এলোমেলো যানবাহনের ছুটোছুটি। নগরীর ব্যস্ততম রাস্তায় যানজটের অন্যতম কারণ পায়ে চালানো রিকশা। দীর্ঘযানজটের কারণে প্রচণ্ডভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। রীতিমত নাকমুখ চেপে স্কুলে যেতে হচ্ছে শিশুদের। অব্যাহত গাড়ির হর্ণের উচ্চ শব্দ অসভ্যতার পরিচয় মেলে।

ঢাকায় গাছপালা তেমন একটা নেই বল্লেই চলে। সবুজ নগরী গড়ে তোলার স্লোগান মাঝে মাঝেই ওঠে। কিন্তু এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানুষিক দৈন্যতাই এর বড় কারণ বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা। এ কারণে ঢাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ।

দূষিত শহরের এক টুকরো ফুস ফুস লালবাগের কেল্লা বা দুর্গ। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গড়ে ওঠা ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এর অবস্থান। যদিও এটিকে একটি অসমাপ্ত মুঘল দুর্গ বলা হয়ে থাকে। ইতিহাস বলছে, সুবেদার মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ সালে দুর্গ নিমার্ণ কাজ শুরু করেন। তিনি দিল্লিতে চলে গেলে নির্মাণ কাজ থেমে যায়। পরবর্তীতে মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খাঁ ১৬৮০ সালে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলেও তা শেষ করতে পারেননি। কারণ, কন্যা পরী বিবি মারা গেলে নির্মাণ তিনি কাজ থামিয়ে দেন।

লালবাগ দুর্গ
লালবাগ দুর্গ

কিন্তু এই কেল্লার বিশাল প্রাঙ্গণজুড়ে রয়েছে সবুজ ও নানা জাতের ফুলের বাগান। চারিদিকে কেল্লার চার দেওয়ালের মধ্যে নগরীর মানুষ বিনোদন ও বুকভরে সুস্থ্যবাতাস গ্রহণের ছুটে আসেন এখানে।

অনেকে আবার এখানের নানা জাতের গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে আসেন। এমনই চার সমৃদ্ধ নারীর সঙ্গে পরিচয় হলো কেল্লার প্রসস্ত গোলাপ বাগানের পাশে। তাদের কাজের বিষয় জানতে পেরে মুগ্ধ হলাম।

চারজনের অবস্থান চারদিকে হলেও কাজ তাদের চুম্বকের মতো এক করে নেয়। পরিবেশ রক্ষায় এই চারজন সমাজের ‘ফোর পিলার’ তথা চারস্তম্ভ হয়ে মানুষের সুস্থ্যতায় নিবেদীত হয়েছেন।

লালবাগের কেল্লার সবুজ ও সুবাশিত প্রাঙ্গণ মানুষের পদচারণায় মুখরিত। বিশেষ করে শিশুদের অনাবিল আনন্দ প্রত্যক্ষ করে যেকোন মানুষ প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। দূষিত চিমনি থেকে এমন পরিবেশ আগামীর জন্য আর্শিবাদ।

আমাদের আলাপ চলছিল একটি নান্দনিক স্থাপত্যের পাশে দাঁড়িয়ে। লক্ষ্য করছিলাম মানুষ কতটা মনে খোরাক পাচ্ছেন এখানে। তাদের উচ্ছ্বলতা বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ ছুটোছুটি মুগ্ধ করে। একটুকরো ফুসফুসে একারণে সচেতন অভিভাবক অন্তত সপ্তাহে একটি দিন সন্তানদের নিয়ে ছুটে আসেন এখানে।

কেল্লার চারিদিকে আবাসিক এলাকা গড়ে ওঠেছে। যেখানে গায়ে হায়ে লাগোনো অনেক উচু ভবন। এক সময় এই কেল্লার উচুস্থানে দাড়িয়ে দেখা যেতে বুড়িগঙ্গার স্বচ্ছ জল। কিন্তু আজ দখল-দূষণে ধুকছে ঢাকার অন্যতম গর্বি ফুস ফুস বুড়িগঙ্গা! নদীখোকো দস্যুদের কবলে হারাতে বসেছে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী। কি অপরাধ ইতিহাস রক্ষার স্বাক্ষী বুড়িগঙ্গার! থামলেন সাঈদা এ জাহিদ । এসময় তার পাশে এসে দাড়ালেন আরও তিন নারী।

সাঈদা এ জহিরই পরিচয় করিয়ে দিলেন। তাদের চারজনের চোখেমুখে গাছ ও পরিবেশ রক্ষার স্বপ্ন। গাছের সঙ্গে পরিচিত হতে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে যান তারা। মানুষকে পরামর্শ দেন গাছ লাগান, পরিবেশ রক্ষা করুন। কোথায় জায়গা না থাকলে বাড়ির ছাদে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন।

এমন দায়িত্বই পালন করে চলেছেন হাবিব আরা মেরী। প্রকৃতির মতো শান্ত ও উদার এই মানুষগুলোর একটি পিলার মেরী। সময়ের তাগিদে পরিবেশ রক্ষায় নগরবাসীই জেগে ওঠবেন, সেই প্রত্যাশা থেকেই তার পথ চলা। ছাদবাগানের প্রসার ঘটছে। যেসব ভবন মালিকদের গাছ লাগাতে অনিহা ছিল, আজ এমন অনেকেই নিজের পরিবার রক্ষার তাগিদে ছদ বাগান করে রীতিমত গর্ববোধ করছেন। তখন মেরীর দুচোখ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি স্বপ্ন দেখেন মানুষের প্রয়োজন ঠিকই তারা অনুভব করবেন। কারণ, পরিবেশ রক্ষার কোন বিকল্প নেই।

আমাদের কথা তখন পুরোপুরি জমাট বেধে গিয়েছে। কিন্তু চতুর্থ স্তম্ভের একজন মাধবী লতা আশপাশের গাছের ছবি তুলে তার ভান্ডার পূর্ণ করছেন। পরক্ষণেই এসে পাশে দাড়িয়ে কথা শুনছেন। এবারে একমুখ হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, গাছাপালার কাছে ছুটে যাওয়া। যেখানেই গাছ, সেখানেই আমরা। আমরা গাছের সঙ্গে পরিচিত হই, পরিবেশের কথা বলি। আমাদের কাজের ক্যানভাস সমগ্র বাংলাদেশ। দেশের বাইরে পা রাখলেও গাছের কথা মাথায় রাখি।

গাছ আর ফুলের সঙ্গে প্রচণ্ড মিতালি রয়েছে বেনুবর্ণা অধিকারীর। লালবাগের কেল্লার সবুজ ও ফুলের বাগানে এক বিকেল কাটানোর পরামর্শটা তারই ছিল। বললেন, ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা অন্যতম পর্যটন এলাকা। এখানে গাছ ও ফুলে ফুলে সমৃদ্ধ। ইটপাথরের নগরীতে বসবাস, অথচ এখানেই রয়েছে সবুজের সমারোহ। সে মতে ওরা চারজন একত্রিত হয়ে এই অভিযানে বেরুনো। এসে সবাই মুগ্ধ।

মাথার ওপরে উদার আকাশ। চারিদিকে মানুষের পদচারণা। ফুল ও গাছের পাশে মানুষের উপস্থিতি বলে দিচ্ছে তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন। অনেক যুগল ছবি তোলায় ব্যস্ত। তবে, তাদেরকে দু’দণ্ড পরিবেশের কথা, গাছের কথা ও ফুলের কথা বলার লোক নেই। এই তরুণ-তরুণীরাই পরিবেশ রক্ষার আগামীর বর্ম হয়ে কাজ করতে পারে।

সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। বেরুতে হবে। কিন্তু আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী চার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় এবং তাদের কাজের বিষয়ে জানতে পেরে সমৃদ্ধ হলাম। আগামীতে একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করবো এমন একটা সুমত হলো। সেই সঙ্গে একটি কথাই বার বার উচ্চারিত হচ্ছিল, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ’।