ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গোপন প্রেম, গোপন বিয়ে থেকে করুণ পরিণতি আলোঝলমলে জীবন আর করুণ সমাপ্তি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি নয়, থাকবেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা   সার্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি অপরাধ দমনে কঠোর বার্তায় আশ্বস্ত সাধারণ মানুষ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত অন্তত ৩২ যে কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুণ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি অনিশ্চিত নতুন সরকারের শপথে থাকবেন প্রায় এক হাজার অতিথি

ইসির বিশেষ নির্দেশনা: গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

ভোটার স্লিপ ও লাউড স্পিকার ব্যবহারে আচরণ বিধিমালায় সংশোধন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করতে একাধিক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

ভোটারদের সচেতন করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যানার তৈরির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যানার তৈরিতে ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক কটন ও ২০ শতাংশ ভিসকস মিশ্রিত পরিবেশবান্ধব ফেব্রিক ব্যবহার করতে হবে। ব্যানার হবে রিঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রিন্টে তৈরি, যার দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট। ব্যানারের ওপর ও নিচে পিভিসি পাইপ এবং ঝোলানোর জন্য হুক থাকতে হবে। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রতিটি ব্যানারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৬ টাকা। কমিশনের মতে, এর মাধ্যমে একদিকে ভোটারদের তথ্য দেওয়া যাবে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। কোনো উপজেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে কেবল পাশের বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিসাইডিং অফিসারকে একযোগে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। ইসি জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্যানেল চূড়ান্ত করতে হবে। জনবলসংকটের যৌক্তিক কারণ ছাড়া আন্তঃউপজেলা নিয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

গণভোটের প্রচারে ভোটকেন্দ্রে ব্যানার টানাতে ইসির নির্দেশ
গণভোটের প্রচারে ভোটকেন্দ্রে ব্যানার টানাতে ইসির নির্দেশ

একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম হুবহু হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার ও প্রার্থী তালিকায় প্রার্থীর নামের সঙ্গে তাঁর বাবা, মা অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে পরিচয় স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতীকের ক্রমানুসারে নাম সাজানোর কথাও বলা হয়েছে। কমিশনের মতে, এতে ব্যালট পেপার ছাপানো ও ভোটারদের সঠিক প্রার্থী চিহ্নিত করতে জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি)—চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে এসব কর্মসূচি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

সব মিলিয়ে ইসির এসব নির্দেশনা নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইসির বিশেষ নির্দেশনা: গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও পরিবেশবান্ধব করতে একাধিক বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

ভোটারদের সচেতন করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পরিবেশবান্ধব বিশেষ ব্যানার টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যানার তৈরির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে ইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যানার তৈরিতে ৮০ শতাংশ প্রাকৃতিক কটন ও ২০ শতাংশ ভিসকস মিশ্রিত পরিবেশবান্ধব ফেব্রিক ব্যবহার করতে হবে। ব্যানার হবে রিঅ্যাকটিভ ডিজিটাল প্রিন্টে তৈরি, যার দৈর্ঘ্য ৩ ফুট ও প্রস্থ ৫ ফুট। ব্যানারের ওপর ও নিচে পিভিসি পাইপ এবং ঝোলানোর জন্য হুক থাকতে হবে। ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রতিটি ব্যানারের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৬ টাকা। কমিশনের মতে, এর মাধ্যমে একদিকে ভোটারদের তথ্য দেওয়া যাবে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। কোনো উপজেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে কেবল পাশের বা নিকটবর্তী উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে একটি আসনের সব প্রিসাইডিং অফিসারকে একযোগে অন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া যাবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। ইসি জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্যানেল চূড়ান্ত করতে হবে। জনবলসংকটের যৌক্তিক কারণ ছাড়া আন্তঃউপজেলা নিয়োগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

গণভোটের প্রচারে ভোটকেন্দ্রে ব্যানার টানাতে ইসির নির্দেশ
গণভোটের প্রচারে ভোটকেন্দ্রে ব্যানার টানাতে ইসির নির্দেশ

একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম হুবহু হলে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বিশেষ ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার ও প্রার্থী তালিকায় প্রার্থীর নামের সঙ্গে তাঁর বাবা, মা অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে পরিচয় স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতীকের ক্রমানুসারে নাম সাজানোর কথাও বলা হয়েছে। কমিশনের মতে, এতে ব্যালট পেপার ছাপানো ও ভোটারদের সঠিক প্রার্থী চিহ্নিত করতে জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি)—চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত রাখতে এসব কর্মসূচি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

সব মিলিয়ে ইসির এসব নির্দেশনা নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।