ইস্টার্ন রিফাইনারি লো-ফিডে চালু, সরবরাহে প্রভাব পড়বে না: জ্বালানি মন্ত্রণালয়
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ‘লো-ফিড’ বা সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়ানোর ফলে দেশের সার্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইআরএল মূলত Saudi Aramco থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং ADNOC থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে থাকে। এসব কাঁচা তেল পরিশোধন করে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি উৎপাদন করা হয়, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা ছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৪২ হাজার টন। এর মধ্যে ইআরএল সরবরাহ করেছে ৭ লাখ ৩২ হাজার টনের বেশি, যা মোট চাহিদার প্রায় ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে পেট্রোলের মোট চাহিদার প্রায় ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের উল্লেখযোগ্য অংশও ইআরএল থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়।
তবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৩ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটে।
মার্চ মাসে নির্ধারিত ১ লাখ টনের একটি অ্যারাবিয়ান লাইট কার্গো লোডিং সম্পন্ন হলেও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে তা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং বর্তমানে সৌদি আরবের রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। একই সময়ে মারবান ক্রুডের আরেকটি চালান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করায় সেটিও স্থগিত হয়ে যায়।

এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত আরও ১ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড বিকল্প রুট ব্যবহার করে পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, ২০ এপ্রিল লোডিং শেষে এই চালান আগামী ২ থেকে ৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। পাশাপাশি মে মাসে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌদি আরামকোর কাছে আরও ১ লাখ টন ক্রুড সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় ইআরএলকে আপাতত ‘লো-ফিড’ অবস্থায় চালু রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও বাকি দুটি ইউনিট দিয়ে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালানো হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সাময়িকভাবে ক্রুড অয়েল সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকবে। এ পরিস্থিতিতে জনমনে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।



















