ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

যুগান্তকারী উদ্যোগ কৃষক কার্ড: যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে ‘কৃষক কার্ড’ নিচ্ছেন কবির হোসেন। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে

 সব কৃষক কৃষক কার্ড পেলেও আর্থিক সহায়তা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা

কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে

দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রণোদনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার চালু করেছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি, যা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। তবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কবির হোসেন প্রকৃত অর্থেই একজন প্রান্তিক কৃষক এবং তিনি কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের অধীনে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে যাচাই করে দেখেছে, কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী কবির হোসেন প্রান্তিক কৃষকের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়েন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ ০.৫ একরের কম, তারা প্রান্তিক কৃষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রশাসনিকভাবে তাকে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয় এবং ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকীভাবে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। যে তালিকায় ছিলেন কবির হোসেনও।

তবে অনুষ্ঠান-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বিত্তশালী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এসব ছবিতে তাকে প্রাইভেটকারে, সুইমিং পুলে কিংবা বিদেশ ভ্রমণে দেখা যায়। পরে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ১১টি উপজেলায় এ কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম চলছে। পরবর্তীতে আরও ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব কৃষক কৃষক কার্ড পেলেও আর্থিক সহায়তা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। এর মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যুগান্তকারী উদ্যোগ কৃষক কার্ড: যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা

আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে

 সব কৃষক কৃষক কার্ড পেলেও আর্থিক সহায়তা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা

কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে

দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রণোদনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার চালু করেছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি, যা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। তবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কবির হোসেন প্রকৃত অর্থেই একজন প্রান্তিক কৃষক এবং তিনি কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের অধীনে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে যাচাই করে দেখেছে, কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী কবির হোসেন প্রান্তিক কৃষকের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়েন।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ ০.৫ একরের কম, তারা প্রান্তিক কৃষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রশাসনিকভাবে তাকে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয় এবং ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকীভাবে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। যে তালিকায় ছিলেন কবির হোসেনও।

তবে অনুষ্ঠান-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বিত্তশালী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এসব ছবিতে তাকে প্রাইভেটকারে, সুইমিং পুলে কিংবা বিদেশ ভ্রমণে দেখা যায়। পরে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ১১টি উপজেলায় এ কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম চলছে। পরবর্তীতে আরও ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব কৃষক কৃষক কার্ড পেলেও আর্থিক সহায়তা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। এর মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।