যুগান্তকারী উদ্যোগ কৃষক কার্ড: যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা
- আপডেট সময় : ০১:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে
সব কৃষক কৃষক কার্ড পেলেও আর্থিক সহায়তা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা
কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে
দেশের কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রণোদনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকার চালু করেছে কৃষক কার্ড কর্মসূচি, যা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। তবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কবির হোসেন প্রকৃত অর্থেই একজন প্রান্তিক কৃষক এবং তিনি কার্ড পাওয়ার যোগ্য।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের অধীনে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে যাচাই করে দেখেছে, কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী কবির হোসেন প্রান্তিক কৃষকের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়েন।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ ০.৫ একরের কম, তারা প্রান্তিক কৃষক হিসেবে বিবেচিত হবেন। যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রশাসনিকভাবে তাকে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় ২২ হাজার প্রান্তিক কৃষকের মোবাইলে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয় এবং ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রতীকীভাবে কার্ড তুলে দেওয়া হয়। যে তালিকায় ছিলেন কবির হোসেনও।
তবে অনুষ্ঠান-পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বিত্তশালী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এসব ছবিতে তাকে প্রাইভেটকারে, সুইমিং পুলে কিংবা বিদেশ ভ্রমণে দেখা যায়। পরে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ১১টি উপজেলায় এ কর্মসূচির প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম চলছে। পরবর্তীতে আরও ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব কৃষক কৃষক কার্ড পেলেও আর্থিক সহায়তা পাবেন কেবল ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা। এর মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে কৃষক কার্ড কর্মসূচি দেশের কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।



















