ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

বিজয় দিবসে স্মরণকালের মানব ঢল স্মৃতিসৌধে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের মানুষের পথ গিয়ে মিশেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বিজয় দিবস উদযাপনে স্মরণকালের মানবঢল নামে স্মৃতিসৌধে। বহু নারী-পুরুষ সোমবার ভোরে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন স্মৃতিসৌধে। ১৬ ডিসেম্বর কেন বাঙালির মুক্তির দিন, বিজয়ের দিন, চেতনার দিন, সেই পাঠ তারা ছেলেমেয়েদের দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসার দিনটি উদযাপন করতে দেশজুড়ে দিনভর ছিল নানা আয়োজন। ছিলো বিজয় দিবসের কনসার্ট। সেখানেও ছিলো স্মরণকালের সমাবেশ।

পৌষের সকালে শীত উপেক্ষা করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশের অপেক্ষা করছিলেন হাজারো জনতা। ভোরের আলো ফুটতেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশে সফররত পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস।

তাদের আগমন ঘিরে চারপাশে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। তারা চলে যেতেই হাজারো মানুষের স্রোত ঢুকে পড়ে স্মৃতিসৌধে। মুহূর্তে যেন বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

নারীদের কেউ এসেছিলেন লাল-সবুজ শাড়িতে সেজে, পুরুষদের কেউ কেউ পরেছেন পাঞ্জাবি। লাল-সবুজের আধিক্য ছিল শিশুদের পোশাকেও। কারো কপালে ছিল লাল-সবুজের টিপ; কারো মাথার লাল-সবুজের পতাকা; কপালেও বেঁধেছেন কেউ কেউ। লাল-সবুজের ফুলগাছগুলোও তাদের সঙ্গে মিশে যায়।

আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকা থেকে বন্ধুর সঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছিলেন মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম, পেশায় তিনি নির্মাণ শ্রমিক।

১৯৭১ সালে যারা মারা গেছেন, তাদের জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এখানে এলে তাদের কথা মনে পড়ে, তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

এবারের বিজয় দিবসের আলাদা তাৎপর্য তুলে ধরেন অনেকে। কেন? বলেন, এই মানব ঢল বলে দিচ্ছে, মুক্ত পরিবেশে তারা উচ্ছ্বল। কতটা দূরন্তপনা শিশু-কিশোরদের মাঝে। অনাবিল এই আনন্দ হারিয়ে গিয়েছিলো প্রায়।

এই সৌধের সঙ্গে যে নানা ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের মধ্য দিয়ে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। শুধু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সেই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর।

বিজয় দিবসে সরকারি ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোয় করা হয় আলোকসজ্জা। সাজানো হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে।

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী হয় বিজয়মেলা। শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিজয় দিবসে স্মরণকালের মানব ঢল স্মৃতিসৌধে

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

 

রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের মানুষের পথ গিয়ে মিশেছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। বিজয় দিবস উদযাপনে স্মরণকালের মানবঢল নামে স্মৃতিসৌধে। বহু নারী-পুরুষ সোমবার ভোরে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন স্মৃতিসৌধে। ১৬ ডিসেম্বর কেন বাঙালির মুক্তির দিন, বিজয়ের দিন, চেতনার দিন, সেই পাঠ তারা ছেলেমেয়েদের দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসার দিনটি উদযাপন করতে দেশজুড়ে দিনভর ছিল নানা আয়োজন। ছিলো বিজয় দিবসের কনসার্ট। সেখানেও ছিলো স্মরণকালের সমাবেশ।

পৌষের সকালে শীত উপেক্ষা করে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশের অপেক্ষা করছিলেন হাজারো জনতা। ভোরের আলো ফুটতেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশে সফররত পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস।

তাদের আগমন ঘিরে চারপাশে ছিল কঠোর নিরাপত্তা। তারা চলে যেতেই হাজারো মানুষের স্রোত ঢুকে পড়ে স্মৃতিসৌধে। মুহূর্তে যেন বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে।

নারীদের কেউ এসেছিলেন লাল-সবুজ শাড়িতে সেজে, পুরুষদের কেউ কেউ পরেছেন পাঞ্জাবি। লাল-সবুজের আধিক্য ছিল শিশুদের পোশাকেও। কারো কপালে ছিল লাল-সবুজের টিপ; কারো মাথার লাল-সবুজের পতাকা; কপালেও বেঁধেছেন কেউ কেউ। লাল-সবুজের ফুলগাছগুলোও তাদের সঙ্গে মিশে যায়।

আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকা থেকে বন্ধুর সঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছিলেন মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম, পেশায় তিনি নির্মাণ শ্রমিক।

১৯৭১ সালে যারা মারা গেছেন, তাদের জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এখানে এলে তাদের কথা মনে পড়ে, তাদের জন্য হৃদয় কাঁদে। যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।

এবারের বিজয় দিবসের আলাদা তাৎপর্য তুলে ধরেন অনেকে। কেন? বলেন, এই মানব ঢল বলে দিচ্ছে, মুক্ত পরিবেশে তারা উচ্ছ্বল। কতটা দূরন্তপনা শিশু-কিশোরদের মাঝে। অনাবিল এই আনন্দ হারিয়ে গিয়েছিলো প্রায়।

এই সৌধের সঙ্গে যে নানা ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের মধ্য দিয়ে গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনী। শুধু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। সেই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর।

বিজয় দিবসে সরকারি ছুটির দিনে দেশের সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলোয় করা হয় আলোকসজ্জা। সাজানো হয় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করে।

দেশের সব জেলা ও উপজেলায় দিনব্যাপী হয় বিজয়মেলা। শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।