এআই ও রোবোটিক চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত : বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মনিপাল হাসপাতালের মানবিক উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১০:৩০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ১২৮ বার পড়া হয়েছে
প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারতে-এ যান। বিশেষ করে চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান উৎস দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭০ জন বাংলাদেশি মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে চিকিৎসা নিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সিংহভাগ রোগী কলকাতায় চিকিৎসা নিলেও চেন্নাই, দিল্লি, মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী সেবা গ্রহণ করেন।
এই বৃহৎ রোগী প্রবাহকে আরও কাঠামোবদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং সহজতর করতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মণিপাল হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য এআই-নির্ভর ও রোবোটিক চিকিৎসা সেবার অ্যাক্সেস সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের চিকিৎসক, হাসপাতাল ও মেডিকেল ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে ধারাবাহিক স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ঢাকায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সভায় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ চিকিৎসক, বেসরকারি হাসপাতাল প্রতিনিধি এবং মেডিকেল ট্যুরিজম সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
সেখানে আধুনিক এআই-নির্ভর ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা, রোবোটিক সার্জারি এবং রোগী-কেন্দ্রিক সমন্বিত সেবার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় প্রতিষ্ঠানটির ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাগশিপ ইউনিটের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়, যেখানে ৫০টিরও বেশি বিশেষায়িত বিভাগ এবং ৬০টিরও বেশি সাব-স্পেশালিটি রয়েছে।
ইউনিটটিতে ইতোমধ্যেই হাজারেরও বেশি রোবোটিক স্পাইন ও অর্থোপেডিক সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে দা ভিঞ্চি সার্জিক্যাল সিস্টেম, কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশনে উন্নত রোবোটিক সিস্টেম এবং জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টে মাকো রোবোটিক-আর্ম অ্যাসিস্টেড সার্জারি সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসার নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মনিপাল হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল হেলথকেয়ার সার্ভিসেস বিভাগের গ্রুপ অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বিকাশ তায়ের বলেন, রোগীরা এখন শুধু চিকিৎসা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত সেবা অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করছেন।
এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি ভিসা সহায়তা, ভ্রমণ সমন্বয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপকে একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে, যা রোগীদের জন্য একটি এন্ড-টু-এন্ড কেয়ার মডেল হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের রোগীদের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আস্থাযোগ্য করবে। বিশেষ করে জটিল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ও কাঠামোবদ্ধ সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের হলেও এআই ও রোবোটিক প্রযুক্তির সংযোজন এই সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক-টু-চিকিৎসক সহযোগিতা, স্থানীয় অংশীদারিত্ব এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তি, মানবিক সেবা এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসা অভিজ্ঞতাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর করে তুলছে।


















