ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা  নিয়ে বৈঠক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা  নিয়ে বৈঠক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট ব্যয় পর্যালোচনা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অর্থনীতির সাম্প্রতিক সূচকগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

আলোচনায় মূল্যস্ফীতি, মজুরি প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি হিসাব, প্রবাস আয়, আমদানি পরিস্থিতি এবং শিল্পখাতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অগ্রগতি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় পর ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে।

সর্বশেষ তথ্যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা জুন ২০২৫ থেকে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে ২০২৬ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

মজুরি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ব্যবধান কমে আসার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নভেম্বরে মজুরি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির কাছাকাছি।

এর ফলে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয়ের যে ক্ষয় হয়েছিল, সেখান থেকে চলতি অর্থবছরে ধীরে ধীরে উত্তরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি খাতের আলোচনায় জানানো হয়, যথাযথ প্রণোদনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে বোরো ও আমন ধানে সন্তোষজনক উৎপাদন হয়েছে।

১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৬০ দশমিক ৯৫ লাখ মেট্রিক টনে এবং চূড়ান্ত হিসাব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আউশ ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট উৎপাদন ৭ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর্থিক ও বৈদেশিক খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।

বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়া, প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সুদের হার সমন্বয়ের ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি হিসাবে ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

প্রবাস আয় ও আমদানি খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। শিল্পখাতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলার হার বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদার হওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা  নিয়ে বৈঠক

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট ব্যয় পর্যালোচনা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অর্থনীতির সাম্প্রতিক সূচকগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

আলোচনায় মূল্যস্ফীতি, মজুরি প্রবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি হিসাব, প্রবাস আয়, আমদানি পরিস্থিতি এবং শিল্পখাতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অগ্রগতি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় পর ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে।

সর্বশেষ তথ্যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা জুন ২০২৫ থেকে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও কৃচ্ছ্রসাধনের ফলে ২০২৬ সালের জুনে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

মজুরি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ব্যবধান কমে আসার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নভেম্বরে মজুরি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির কাছাকাছি।

এর ফলে পূর্ববর্তী বছরগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয়ের যে ক্ষয় হয়েছিল, সেখান থেকে চলতি অর্থবছরে ধীরে ধীরে উত্তরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি খাতের আলোচনায় জানানো হয়, যথাযথ প্রণোদনা ও ব্যবস্থাপনার ফলে বোরো ও আমন ধানে সন্তোষজনক উৎপাদন হয়েছে।

১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমন ধানের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৬০ দশমিক ৯৫ লাখ মেট্রিক টনে এবং চূড়ান্ত হিসাব লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আউশ ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় মোট উৎপাদন ৭ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর্থিক ও বৈদেশিক খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার।

বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়া, প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সুদের হার সমন্বয়ের ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি হিসাবে ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে মাত্র ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

প্রবাস আয় ও আমদানি খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। শিল্পখাতে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলার হার বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদার হওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার পথে ফিরছে।