টিকা পাবে ১ কোটি ৮০ শিশু: প্রথম দিনই পাবে প্রায় ১৯ লাখ শিশু
- আপডেট সময় : ১১:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
নারায়ণগঞ্জে হোম-রুবেলার টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন : ছবি সংগ্রহ
দেশজুড়ে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের জিন্দাপার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। প্রথম দিনেই প্রায় ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনসহ সব এলাকায় এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে শুরু হওয়া কর্মসূচি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এছাড়া ১২ এপ্রিল শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম চলবে ১২ মে পর্যন্ত। সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯৭ জন। এর মধ্যে ৮০৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩৬ দিনে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে।
একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগেও কিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য বিভাগে নতুন করে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৩৬১ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১৫৪ জন, রাজশাহীতে ৯৬ জন, খুলনায় ৭১ জন, বরিশালে ৫১ জন, সিলেটে ৪৪ জন, ময়মনসিংহে ২৯ জন এবং রংপুরে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একজন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৬ জন এবং উপসর্গজনিত কারণে ১৮১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকাদান সম্পন্ন করা গেলে হাম-রুবেলার সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং শিশু মৃত্যুর হারও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এজন্য অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


















