ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

ইউনূস সরকারের চুক্তিগুলো ঘতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

ইউনূস সরকারের চুক্তিগুলো ঘতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পাদিত দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আগের সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে।

ড. দেবপ্রিয়ের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে সুস্পষ্ট কৌশলপত্র উপস্থাপন করতে না পারা। শেষ পর্যায়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা নীতিনির্ধারণে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ফলে সংস্কারের রূপরেখা, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল-সবই থেকে গেছে অস্পষ্টতায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার যদি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনায় উদ্যোগী হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও সমন্বিতভাবে যাচাই করা যুক্তিযুক্ত হবে।

এ প্রেক্ষাপটে একটি স্বতন্ত্র ট্রানজিশন টিম গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে করে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিমার্জনের সুপারিশ করা যায়। জানা গেছে, এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত জানা-অজানা সব চুক্তির বিষয়বস্তু, আর্থিক দায়বদ্ধতা ও কৌশলগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-দর্শন ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

নতুন সরকারের জন্য তিনি ধৈর্য ও বাস্তবতাবোধের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় এসেই স্প্রিন্ট  না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘ম্যারাথন’ ভাবনায় এগোনো উচিত। অন্তত ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের আগে তড়িঘড়ি বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বদলে প্রস্তুতি, মূল্যায়ন ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইউনূস সরকারের চুক্তিগুলো ঘতিয়ে দেখা দরকার: ড. দেবপ্রিয়

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সম্পাদিত দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আগের সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতেই হবে।

ড. দেবপ্রিয়ের মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সীমাবদ্ধতা ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে সুস্পষ্ট কৌশলপত্র উপস্থাপন করতে না পারা। শেষ পর্যায়ে একটি প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা নীতিনির্ধারণে বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ফলে সংস্কারের রূপরেখা, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল-সবই থেকে গেছে অস্পষ্টতায়। তিনি বলেন, নতুন সরকার যদি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনায় উদ্যোগী হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারও সমন্বিতভাবে যাচাই করা যুক্তিযুক্ত হবে।

এ প্রেক্ষাপটে একটি স্বতন্ত্র ট্রানজিশন টিম গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে করে নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা পরিমার্জনের সুপারিশ করা যায়। জানা গেছে, এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত জানা-অজানা সব চুক্তির বিষয়বস্তু, আর্থিক দায়বদ্ধতা ও কৌশলগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন-দর্শন ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনে পুনর্বিন্যাস বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

নতুন সরকারের জন্য তিনি ধৈর্য ও বাস্তবতাবোধের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্ষমতায় এসেই স্প্রিন্ট  না করে দীর্ঘমেয়াদি ‘ম্যারাথন’ ভাবনায় এগোনো উচিত। অন্তত ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের আগে তড়িঘড়ি বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের বদলে প্রস্তুতি, মূল্যায়ন ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।