ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংঘাতের আগে হরমুজ ত্যাগ করা জ্বালানিবাহী ১৫ জাহাজ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে শুরু করেছে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মুখ খুললেন পুতিন তেহরানের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের ইরান যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ইরান জয়ের ভাবনায় ট্রাম্পের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে উত্তাল কর্মসূচি ঘোষণা, রাজপথে নামছে জামায়াত চলমান জীবনের গল্প: কফির ধোঁয়ায় তিন বন্ধুর আড্ডা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় যুক্ত হবেন না, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি আইআরজিসির ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে চরম মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল

Tanuja Devvarman : প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২ ৩২৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান

 

উদয়ন চৌধুরী

‘বঙ্গঅঞ্চলে কীর্তন বা সুরে সুরে ঈশ্বর বন্দনার ইতিহাস প্রাচীন। ইতিহাস বলছে, চর্যাগীতির পরই নাথগীতিতে বাংলা সঙ্গীতের উল্লেখযোগ্য স্থান। দিন দিন শ্রোতার সংখ্যা অসম্ভব আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে গান সংগ্রহ ও দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে বর্তমান সঙ্গীত শিল্প প্রসারিত হয়েছে। চিত্ত বিনোদনের অন্যতম হচ্ছে সংগীত’

আজকের আলোচিত শিল্পী বহুমাত্রিক সঙ্গীতের সঙ্গী। সুরের সঙ্গেই তার বসবাস। সকাল-সন্ধ্যা অষ্টপ্রহর হৃদমন্দিরে কেবল সুরের আবহ। সুরের সাধনায় মশগুল হয়েই জীবন কাটিয়ে দেবার বাসনা তার। নাম তনুজা দেববর্মন। একের মধ্যে বহুগুণাবলি তার। একাধারে নিয়ম করে গানের চর্চা, ঘর-সংসার, সামাজিক দায়িত্ব পালন, সংগঠক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের স্থায়ী বাসিন্দা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য তার মন কাঁদে। অগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জন্য সবার অলক্ষ্যে যতটুকু সম্ভব হাত বাড়ান।

গানের হাতে খড়ি যথারীতি পারিবারিকভাবেই। শৈশব থেকেই গানের নেশা তার। বলা যায় বাউল-বৈরাগীর একতারার সুর শুনে ছুটে যেতে বাড়ির কাছের আখড়ায়। মনোমুগ্ধ হতেন গানের সুরে। সুরমুর্ছূনায় হারিয়ে যেতেন। সেই সুর কি ছাড়া যায়? এ যে মনের গহিনের বাসিন্দা। তাই সুরের স্রোতস্বীনিতে গা ভাসালেন তনুজা।

লেখাপড়ার পাশাপাশি কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গানের চর্চা। কোমলমতি তনুজার ধ্যান-জ্ঞান কেবলই গান। পড়ার টেবিলে, সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায়, খেলায় সবখানেই তার সঙ্গী সুর। সুর পাগল তনুজা দেববর্মন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠার সিঁড়িতে হাটতে থাকেন।

জানালেন সবরকমের গানই করে থাকেন। বিশেষ করে শচীন কর্তার গানে তিনি অনন্য। লোকসঙ্গীত, আধুনিক এবং হিন্দ গানের সুর স্বয়ং বিধাতা তার গলায় তুলে দিয়েছে। লতা মঙ্গেশকরের গান যেন জন্মগতভাবেই তার গলায় ওঠে এসেছে। এক অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী তনুজা অবলীলায় যেকোন গান গেয়ে যেতে পারেন। জাতশিল্পী যাকে বলে।

শচীন কর্তার গান নিয়ে দু’বাংলায় সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী। নিরহংকার, কোমল কণ্ঠের এই শিল্পী মানবকল্যাণে তার গানকে নিবেদীত করেছেন। একমাত্র সন্তানও তার গানের সঙ্গী। বাবা চলে যাবার পর সেই স্থানটি পুরণ করেছেন স্বামী। কখনও তনুজাকে বাবার কষ্টকে মনে করতে দেননি। এক অসাধারণ বন্ধনে গড়েছেন কাঙ্খিত সংসার। যেন শান্তির শীতল ছায়ায় সঙ্গীতের সাধনার মন্দির গড়েছেন তনুজা দেববর্মন।

ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা তনুজা। সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। জানালেন, তার সব কাজই মানবকল্যাণের জন্য। ‘মানবসেবার সেবাই ধর্ম, কর্মই জীবন’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত তনুজা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে সাহসিনী এক হার না মানা নারী। যিনি নিজেকে কখনও অবলা ভাবেন না।

 

বাবা-মায়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজেকে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই বহুমাত্রিক অভিধাটি তাকেই মানায়। এ কারণেই আজকের সমাজে একজন আলোকিত নারী তিনি। নিজেকে আপন বলয়ে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে তিনি সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী।

আগামী দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করার সংকল্প রয়েছে শিল্পীর। তিনি মনে করেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই ‘সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান’ প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Tanuja Devvarman : প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন

আপডেট সময় : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান

 

উদয়ন চৌধুরী

‘বঙ্গঅঞ্চলে কীর্তন বা সুরে সুরে ঈশ্বর বন্দনার ইতিহাস প্রাচীন। ইতিহাস বলছে, চর্যাগীতির পরই নাথগীতিতে বাংলা সঙ্গীতের উল্লেখযোগ্য স্থান। দিন দিন শ্রোতার সংখ্যা অসম্ভব আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে গান সংগ্রহ ও দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে বর্তমান সঙ্গীত শিল্প প্রসারিত হয়েছে। চিত্ত বিনোদনের অন্যতম হচ্ছে সংগীত’

আজকের আলোচিত শিল্পী বহুমাত্রিক সঙ্গীতের সঙ্গী। সুরের সঙ্গেই তার বসবাস। সকাল-সন্ধ্যা অষ্টপ্রহর হৃদমন্দিরে কেবল সুরের আবহ। সুরের সাধনায় মশগুল হয়েই জীবন কাটিয়ে দেবার বাসনা তার। নাম তনুজা দেববর্মন। একের মধ্যে বহুগুণাবলি তার। একাধারে নিয়ম করে গানের চর্চা, ঘর-সংসার, সামাজিক দায়িত্ব পালন, সংগঠক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের স্থায়ী বাসিন্দা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য তার মন কাঁদে। অগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জন্য সবার অলক্ষ্যে যতটুকু সম্ভব হাত বাড়ান।

গানের হাতে খড়ি যথারীতি পারিবারিকভাবেই। শৈশব থেকেই গানের নেশা তার। বলা যায় বাউল-বৈরাগীর একতারার সুর শুনে ছুটে যেতে বাড়ির কাছের আখড়ায়। মনোমুগ্ধ হতেন গানের সুরে। সুরমুর্ছূনায় হারিয়ে যেতেন। সেই সুর কি ছাড়া যায়? এ যে মনের গহিনের বাসিন্দা। তাই সুরের স্রোতস্বীনিতে গা ভাসালেন তনুজা।

লেখাপড়ার পাশাপাশি কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গানের চর্চা। কোমলমতি তনুজার ধ্যান-জ্ঞান কেবলই গান। পড়ার টেবিলে, সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায়, খেলায় সবখানেই তার সঙ্গী সুর। সুর পাগল তনুজা দেববর্মন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠার সিঁড়িতে হাটতে থাকেন।

জানালেন সবরকমের গানই করে থাকেন। বিশেষ করে শচীন কর্তার গানে তিনি অনন্য। লোকসঙ্গীত, আধুনিক এবং হিন্দ গানের সুর স্বয়ং বিধাতা তার গলায় তুলে দিয়েছে। লতা মঙ্গেশকরের গান যেন জন্মগতভাবেই তার গলায় ওঠে এসেছে। এক অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী তনুজা অবলীলায় যেকোন গান গেয়ে যেতে পারেন। জাতশিল্পী যাকে বলে।

শচীন কর্তার গান নিয়ে দু’বাংলায় সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী। নিরহংকার, কোমল কণ্ঠের এই শিল্পী মানবকল্যাণে তার গানকে নিবেদীত করেছেন। একমাত্র সন্তানও তার গানের সঙ্গী। বাবা চলে যাবার পর সেই স্থানটি পুরণ করেছেন স্বামী। কখনও তনুজাকে বাবার কষ্টকে মনে করতে দেননি। এক অসাধারণ বন্ধনে গড়েছেন কাঙ্খিত সংসার। যেন শান্তির শীতল ছায়ায় সঙ্গীতের সাধনার মন্দির গড়েছেন তনুজা দেববর্মন।

ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা তনুজা। সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। জানালেন, তার সব কাজই মানবকল্যাণের জন্য। ‘মানবসেবার সেবাই ধর্ম, কর্মই জীবন’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত তনুজা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে সাহসিনী এক হার না মানা নারী। যিনি নিজেকে কখনও অবলা ভাবেন না।

 

বাবা-মায়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজেকে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই বহুমাত্রিক অভিধাটি তাকেই মানায়। এ কারণেই আজকের সমাজে একজন আলোকিত নারী তিনি। নিজেকে আপন বলয়ে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে তিনি সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী।

আগামী দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করার সংকল্প রয়েছে শিল্পীর। তিনি মনে করেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই ‘সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান’ প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন।