ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মজুদ পর্যাপ্ত, তবু বাজারে তেলের সংকট  মুনাফাখোরদের কারসাজি বাড়ির দরজা খুলেই প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘চলুন, যুদ্ধে যাই’ দেশে নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করেন জিয়াউর রহমান : রাষ্ট্রপতি ইউনূস জমানায় চুক্তিতে নিয়োগ ৪ কূটনীতিককে ঢাকায় ফেরানো হলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে অন্ধকারে: টিআইবি ১০ মাসের সর্বোচ্চে মূল্যস্ফীতি, চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এক বছরে ধর্ষণ মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশ গুম হওয়া পরিবারের সন্তানদের জন্য ভাতা চালুর উদ্যোগ: মির্জা ফখরুল যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি খাতে, বাংলাদেশের তেলের জন্য লম্বা লাইন কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

Rohingya : ফের রোহিঙ্গার!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৮২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা তিন রোহিঙ্গা : ছবি সংগ্রহ

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফে। সেখানে এখন বিশ্বের সর্ব বৃহৎ শরাণার্থী শিবির। গত কিছু দিন যাবত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এর মধ্যে একাধিকবার মর্টারের গোলা এসে পড়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সামরিক হেলিকপ্টারও চক্কর দিয়ে সীমান্ত এলাকার আকাশে। সব মিলিয়ে একটা অঘটনের পূর্বাভাস মিলছিল তখনই।

একটি রোঙ্গি পরিবারের তিন সদস্য কক্সবাজারে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে এবারে বাস্তবে প্রমাণিত হলো রোহিঙ্গাদের তাড়াতেই সেখানে সামরিক মহড়া চলছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। আরাকান জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, রোহিঙ্গা (স্থানীয় নাম: রুয়াইংগা) বা ঐতিহাসিকভাবে আরাকানী ভারতীয়ও বলা হয়ে থাকে। রোহিঙ্গা হলো পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রবিহীন ইন্দো-আর্য জনগোষ্ঠী। ২০১৬-১৭ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের পূর্বে অনুমানিক ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করত।

অধিকাংশ রোহিঙ্গা ইসলাম ধর্মের অনুসারি হলেও কিছু সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৮২ সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ১৯৮২ সালের আইনে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা অর্জনের সম্ভাবনা কার্যকরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া সত্ত্বেও, বার্মার আইন এই সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে তাদের জাতীয় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।

রোহিঙ্গাদের আন্দোলনের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা এবং সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ১৯৭৮, ১৯৯১-১৯৯২, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ সালে সামরিক নির্যাতন এবং দমনের সম্মুখীন হয়েছে। জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো দমন ও নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূলতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। যেখানে গণহত্যার মত অপরাধের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মায়ানমারের বিশেষ তদন্তকারী ইয়ংহি লি, বিশ্বাস করেন, মায়ানমার পুরোপুরি তাদের দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের বিতড়িত করতে চায়। ২০০৮ সালের সংবিধান অনুসারে, মায়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো সরকারের অধিকাংশ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যার মধ্যে অন্তুর্ভূক্ত রয়েছে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রক। সেনাবাহিনীর জন্য সংসদে ২৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ রয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে একজন উপ-রাষ্ট্রপতি থাকারও বিধান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Rohingya : ফের রোহিঙ্গার!

আপডেট সময় : ১১:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা তিন রোহিঙ্গা : ছবি সংগ্রহ

 

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক 

রোহিঙ্গা সংকট নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফে। সেখানে এখন বিশ্বের সর্ব বৃহৎ শরাণার্থী শিবির। গত কিছু দিন যাবত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এর মধ্যে একাধিকবার মর্টারের গোলা এসে পড়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। সামরিক হেলিকপ্টারও চক্কর দিয়ে সীমান্ত এলাকার আকাশে। সব মিলিয়ে একটা অঘটনের পূর্বাভাস মিলছিল তখনই।

একটি রোঙ্গি পরিবারের তিন সদস্য কক্সবাজারে প্রবেশ করার মধ্য দিয়ে এবারে বাস্তবে প্রমাণিত হলো রোহিঙ্গাদের তাড়াতেই সেখানে সামরিক মহড়া চলছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। আরাকান জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, রোহিঙ্গা (স্থানীয় নাম: রুয়াইংগা) বা ঐতিহাসিকভাবে আরাকানী ভারতীয়ও বলা হয়ে থাকে। রোহিঙ্গা হলো পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি রাষ্ট্রবিহীন ইন্দো-আর্য জনগোষ্ঠী। ২০১৬-১৭ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের পূর্বে অনুমানিক ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করত।

অধিকাংশ রোহিঙ্গা ইসলাম ধর্মের অনুসারি হলেও কিছু সংখ্যক হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে। ১৯৮২ সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে তাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ১৯৮২ সালের আইনে রোহিঙ্গাদের জাতীয়তা অর্জনের সম্ভাবনা কার্যকরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া সত্ত্বেও, বার্মার আইন এই সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীকে তাদের জাতীয় নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে।

রোহিঙ্গাদের আন্দোলনের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা এবং সরকারি চাকুরীর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ১৯৭৮, ১৯৯১-১৯৯২, ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ সালে সামরিক নির্যাতন এবং দমনের সম্মুখীন হয়েছে। জাতিসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো দমন ও নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূলতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। যেখানে গণহত্যার মত অপরাধের তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মায়ানমারের বিশেষ তদন্তকারী ইয়ংহি লি, বিশ্বাস করেন, মায়ানমার পুরোপুরি তাদের দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের বিতড়িত করতে চায়। ২০০৮ সালের সংবিধান অনুসারে, মায়ানমারের সেনাবাহিনী এখনো সরকারের অধিকাংশ বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যার মধ্যে অন্তুর্ভূক্ত রয়েছে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রক। সেনাবাহিনীর জন্য সংসদে ২৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ রয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে একজন উপ-রাষ্ট্রপতি থাকারও বিধান রয়েছে।