ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ আগামী নির্বাচনে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতী পূজা, ‘গ্রিনেসবুকে’ উদ্যোগ একাত্তরেই বাংলার মানুষ তাদের দেখে নিয়েছে: তারেক রহমান সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস সেনাবাহিনীর নির্বাচিত হলে ‘নবিজির ন্যায়ের’ ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার তারেক রহমানের যে কারণে  সিলেট থেকেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে পুণ্যভূমি সিলেট থেকে নির্বাচনী মাঠে নামলেন তারেক রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রা বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত

National Waterway : জাতীয় জলপথ উন্নয়নে ভারতের ৪৬০০ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২ ৩৫০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

                                               পর্ব-১

 

আমিনুল হক, ঢাকা  

 

‘নৌপ্রটোকল রুটগুলো ব্যবহার করে কমপক্ষে ২ হাজার মেট্রিকটন পণ্য নিয়ে কোন জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করতে ‘জাতীয় মাস্টার প্ল্যান’ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন করতে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। পাটনা থেকে পান্ডু পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জলপথগুলো দিয়ে বারোমাসি পণ্যপরিবহন হবে সময় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব’

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১০টি নৌ-প্রেটোকল রুট রয়েছে। যার মধ্যে উত্তরপূর্ব ভারতের অসমের ধুবড়ি, শিলঘাট ও পান্ডু, বাংলাদেশের আশুগঞ্জ হয়ে কুশিয়া নদী দিয়ে অসমের করিমগঞ্জ এবং দাউদকান্দি থেকে গোমতি নদী দিয়ে ত্রিপুরার সোনামুড়া। বর্তমানে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান নৌপ্রোটোকল রুটটি রাজশাহী হয়ে আরিচা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। তাতে করে অসমের ধুবড়ি, শিলঘাট ও পান্ডুর পথে পণ্যপরিবহনের সময় কমে আসবে।

কলকাতা বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী জাহাজ এর আগেও অসমের ধুবড়ি গিয়েছে। তবে সংখ্যায় কম এবং সরকারী ভারী যন্ত্রাংশের কোন চালান নিয়ে। কলকাতা, বাংলাদেশ হয়ে অসমে যে কোন পণ্যচালান যেতে পারে। এই জলপথটি একটি সম্ভবনাময় নৌরুট। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি যেটি ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্বউত্তর তীরে অবস্থিত।

রৌমারি ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে ব্রহ্মপুত্র নদের বুক চিরে ধুবড়ি বন্দরের প্রায় দু’কিলোমিটার আগে পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে আসা হয়। তখন দেখা গিয়েছে বিশাল ব্রহ্মপুত্রের বুকে বিভিন্ন স্থানে জলকম। খোঁজ নিয়ে জানা গেল পলিজমে গিয়েছে। খননের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সম্ভবনা। অথচ এই রুট দিয়ে ধুবড়ি থেকে  বছরজুড়েই পাথর আমদানি করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। অবশ্য গভীরতা (draft)  কম থাকায় সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই শ’ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার কর্গো যোগে পাথর পরিবাহিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী গঠনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আয়তন ও গতিবেগসম্পন্ন একাধিক প্রবাহের মিলিত ধারা। নদীর একটি উৎস আধার (source reservoir) থাকে যা নদীকে নিয়মিত প্রবাহ যোগান দেয়। যেমন গঙ্গা নদীর উৎস গঙ্গোত্রী নামক হিমবাহ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস মানস সরোবর।

সোনামুড়া ও করিমগঞ্জ নৌরুট দুটো দিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সময়-সাশ্রয়ী পণ্যপরিবহনের সম্ভবনা দেখা দেয়। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা জলপথে পণ্যপরিবহনে যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু দাউদকান্দি-সোনামুড়া এবং আশুগঞ্জ হয়ে অসমের করিমগঞ্জ একটি করে পণ্যচালান যাবার পর ড্রাফ্ট-এর অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎসাহ হারান ব্যবসায়ীরা। পণ্যপরিবহনে পৃথিবীতে জলপথ আদর্শ। ভারতের জাতীয় জলপথ ব্যবহার করে উত্তরপূর্ব ভারতে পণ্যপরিবহন নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার।

সম্প্রতি ২০০ মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্যশস্য নিয়ে বিহারের পাটনার গাইঘাটের আন্তদেশীয় টার্মিনাল থেকে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার খাদ্যশস্য নিয়ে অসমের পান্ডু যাতায়ত করে এমভি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নামক জাহাজ। সরকারের তরফে জানানো হয়, ২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটারের ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল (আইবিপি) রুটের ব্যবহার করে জাহাজটি পাণ্ডু পৌছাতে ২৫-৩০ দিন সময় লাগবে। জাহাজটি ভাগলপুর, মনিহারি, সাহেবগঞ্জ, ফারাক্কা, ত্রিবেণী, কলকাতা, হলদিয়া, হেমনগর, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী, ধুবরি এবং জোগিঘোপা হয়ে যাবে।

প্রয়োজন ৩ মিটার গভীরতা

বর্তমান বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে ১০টি জলপথ চালু রয়েছে, তার মধ্যে হলদিয়া-নারায়গঞ্জ রুটি হচ্ছে আদর্শ। এই নৌরুটে বারোমাসি পণ্যপরিবাহিত হচ্ছে। বিশিষে করে একটা মোটা দাগের সিমেন্টের কাচামাল ফ্লাইঅ্যাশ পরিবাহিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে। অবশ্য প্রটোকল রুটগুলো পুরোমাত্রায় চালু হচ্ছে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে। কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন আকারের প্রচুর জাহাজ রয়েছে। এই জলপথে বাংলাদেশের জাহাজযোগে বছরে কমপক্ষে ২০ থেকে ২২ লক্ষ টন ফ্ল্যাইঅ্যাশ পরিবাহিত হচ্ছে । প্রটোকল রুটগুলো সঠিকভাবে চালু থাকলে উভয় দেশ লাভবান হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, নৌরুটের গভীরতা যদি ৩ মিটার রাখা সম্ভব হয়, তাহলে ১৫০০ থেকে ২০০০ টন পন্যবাহি জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশের জলপথ খুলে যাওয়ায় এলাহাবাদ থেকে সরাসরি বাংলাদেশের নদীপথ হয়ে অরুণাচল প্রদেশ লাগোয়া শদিয়া, বরাক উপত্যকার লখিপুরে দিব্যি পৌঁছানো সম্ভব পণ্যবাহী ভেসেল।

৬২ বছর পর

দীর্ঘ ৬২ বছর পরে কলকাতা থেকে অসমের ডিব্রুগড় জলপথে পণ্যপরিবহণ শুরু হয়েছে। দুই নম্বর জাতীয় জলপথ দিয়ে পণ্যচালান পৌছাতে সময় লাগবে মাত্র ৮ দিন। কয়েকবছর ধরে অভ্যন্তরীণ জলপথ চালু করা নিয়ে সরকারের যে অপেক্ষা ছিল, অবশেষে তা করা সম্ভব হল। এই জলপথটি অত্যন্ত লাভজনক রুট এবং অনেক কম সময়ে পণ্যপরিবহনে উপযুক্ত তা নিয়ে মতামত দিয়েছেন কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার। এই জলপথটি ব্যবসাবন্ধব। একারণে একাধিক  সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছে। ধীরে ধীরে ভারী যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হবে এই পথে, জানান বিনীত কুমার বাবু।

মোদি সরকারের মাস্টার প্ল্যান

এক বুক আশা নিয়ে পথ চেয়ে  আছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। কারণ অসমের ধুবড়ি থেকে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহন সম্ভব হলে খরচ অনেকটাই কমবে। চাপ কমবে সড়কপথে, নিরাপদ হবে পণ্যপরিবহন। এক্ষেত্রে গভীরতার অভাবে প্রটোকল রুটগুলো ধুকছে। বর্ষায় কয়েকমাস ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি থাকলে শুকনো মৌসুমে তাদের অনেকাংশে লোকসানের মুখে পরতে হয়। সব মিলিয়ে নৌপথে পণ্যপরিবহন কমপক্ষে ২৫ তেকে ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী।  যার সুফলভোগী হবেন উভয় দেশের মানুষ।

নৌপ্রটোকল রুটগুলো ব্যবহার করে কমপক্ষে ২ হাজার মেট্রিকটন পণ্য নিয়ে কোন জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করতে ‘জাতীয় মাস্টার প্ল্যান’ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন করতে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে পটনা থেকে পাণ্ডু পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জলপথগুলো দিয়ে বারোমাসি পণ্যপরিবহন হবে সময় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

National Waterway : জাতীয় জলপথ উন্নয়নে ভারতের ৪৬০০ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প

আপডেট সময় : ০৯:০২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ মার্চ ২০২২

                                               পর্ব-১

 

আমিনুল হক, ঢাকা  

 

‘নৌপ্রটোকল রুটগুলো ব্যবহার করে কমপক্ষে ২ হাজার মেট্রিকটন পণ্য নিয়ে কোন জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করতে ‘জাতীয় মাস্টার প্ল্যান’ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন করতে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। পাটনা থেকে পান্ডু পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জলপথগুলো দিয়ে বারোমাসি পণ্যপরিবহন হবে সময় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব’

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ১০টি নৌ-প্রেটোকল রুট রয়েছে। যার মধ্যে উত্তরপূর্ব ভারতের অসমের ধুবড়ি, শিলঘাট ও পান্ডু, বাংলাদেশের আশুগঞ্জ হয়ে কুশিয়া নদী দিয়ে অসমের করিমগঞ্জ এবং দাউদকান্দি থেকে গোমতি নদী দিয়ে ত্রিপুরার সোনামুড়া। বর্তমানে রাজশাহীর সুলতানগঞ্জ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ধুলিয়ান নৌপ্রোটোকল রুটটি রাজশাহী হয়ে আরিচা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। তাতে করে অসমের ধুবড়ি, শিলঘাট ও পান্ডুর পথে পণ্যপরিবহনের সময় কমে আসবে।

কলকাতা বন্দর থেকে কোন পণ্যবাহী জাহাজ এর আগেও অসমের ধুবড়ি গিয়েছে। তবে সংখ্যায় কম এবং সরকারী ভারী যন্ত্রাংশের কোন চালান নিয়ে। কলকাতা, বাংলাদেশ হয়ে অসমে যে কোন পণ্যচালান যেতে পারে। এই জলপথটি একটি সম্ভবনাময় নৌরুট। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি যেটি ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্বউত্তর তীরে অবস্থিত।

রৌমারি ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে ব্রহ্মপুত্র নদের বুক চিরে ধুবড়ি বন্দরের প্রায় দু’কিলোমিটার আগে পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে আসা হয়। তখন দেখা গিয়েছে বিশাল ব্রহ্মপুত্রের বুকে বিভিন্ন স্থানে জলকম। খোঁজ নিয়ে জানা গেল পলিজমে গিয়েছে। খননের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সম্ভবনা। অথচ এই রুট দিয়ে ধুবড়ি থেকে  বছরজুড়েই পাথর আমদানি করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। অবশ্য গভীরতা (draft)  কম থাকায় সর্বোচ্চ দুই থেকে আড়াই শ’ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার কর্গো যোগে পাথর পরিবাহিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী গঠনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আয়তন ও গতিবেগসম্পন্ন একাধিক প্রবাহের মিলিত ধারা। নদীর একটি উৎস আধার (source reservoir) থাকে যা নদীকে নিয়মিত প্রবাহ যোগান দেয়। যেমন গঙ্গা নদীর উৎস গঙ্গোত্রী নামক হিমবাহ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস মানস সরোবর।

সোনামুড়া ও করিমগঞ্জ নৌরুট দুটো দিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সময়-সাশ্রয়ী পণ্যপরিবহনের সম্ভবনা দেখা দেয়। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা জলপথে পণ্যপরিবহনে যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু দাউদকান্দি-সোনামুড়া এবং আশুগঞ্জ হয়ে অসমের করিমগঞ্জ একটি করে পণ্যচালান যাবার পর ড্রাফ্ট-এর অভাবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎসাহ হারান ব্যবসায়ীরা। পণ্যপরিবহনে পৃথিবীতে জলপথ আদর্শ। ভারতের জাতীয় জলপথ ব্যবহার করে উত্তরপূর্ব ভারতে পণ্যপরিবহন নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার।

সম্প্রতি ২০০ মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্যশস্য নিয়ে বিহারের পাটনার গাইঘাটের আন্তদেশীয় টার্মিনাল থেকে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার খাদ্যশস্য নিয়ে অসমের পান্ডু যাতায়ত করে এমভি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নামক জাহাজ। সরকারের তরফে জানানো হয়, ২ হাজার ৩৫০ কিলোমিটারের ইন্দো-বাংলাদেশ প্রোটোকল (আইবিপি) রুটের ব্যবহার করে জাহাজটি পাণ্ডু পৌছাতে ২৫-৩০ দিন সময় লাগবে। জাহাজটি ভাগলপুর, মনিহারি, সাহেবগঞ্জ, ফারাক্কা, ত্রিবেণী, কলকাতা, হলদিয়া, হেমনগর, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, চিলমারী, ধুবরি এবং জোগিঘোপা হয়ে যাবে।

প্রয়োজন ৩ মিটার গভীরতা

বর্তমান বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে ১০টি জলপথ চালু রয়েছে, তার মধ্যে হলদিয়া-নারায়গঞ্জ রুটি হচ্ছে আদর্শ। এই নৌরুটে বারোমাসি পণ্যপরিবাহিত হচ্ছে। বিশিষে করে একটা মোটা দাগের সিমেন্টের কাচামাল ফ্লাইঅ্যাশ পরিবাহিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে। অবশ্য প্রটোকল রুটগুলো পুরোমাত্রায় চালু হচ্ছে বাংলাদেশ বেশি লাভবান হবে। কারণ বাংলাদেশের বিভিন্ন আকারের প্রচুর জাহাজ রয়েছে। এই জলপথে বাংলাদেশের জাহাজযোগে বছরে কমপক্ষে ২০ থেকে ২২ লক্ষ টন ফ্ল্যাইঅ্যাশ পরিবাহিত হচ্ছে । প্রটোকল রুটগুলো সঠিকভাবে চালু থাকলে উভয় দেশ লাভবান হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, নৌরুটের গভীরতা যদি ৩ মিটার রাখা সম্ভব হয়, তাহলে ১৫০০ থেকে ২০০০ টন পন্যবাহি জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশের জলপথ খুলে যাওয়ায় এলাহাবাদ থেকে সরাসরি বাংলাদেশের নদীপথ হয়ে অরুণাচল প্রদেশ লাগোয়া শদিয়া, বরাক উপত্যকার লখিপুরে দিব্যি পৌঁছানো সম্ভব পণ্যবাহী ভেসেল।

৬২ বছর পর

দীর্ঘ ৬২ বছর পরে কলকাতা থেকে অসমের ডিব্রুগড় জলপথে পণ্যপরিবহণ শুরু হয়েছে। দুই নম্বর জাতীয় জলপথ দিয়ে পণ্যচালান পৌছাতে সময় লাগবে মাত্র ৮ দিন। কয়েকবছর ধরে অভ্যন্তরীণ জলপথ চালু করা নিয়ে সরকারের যে অপেক্ষা ছিল, অবশেষে তা করা সম্ভব হল। এই জলপথটি অত্যন্ত লাভজনক রুট এবং অনেক কম সময়ে পণ্যপরিবহনে উপযুক্ত তা নিয়ে মতামত দিয়েছেন কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান বিনীত কুমার। এই জলপথটি ব্যবসাবন্ধব। একারণে একাধিক  সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছে। ধীরে ধীরে ভারী যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হবে এই পথে, জানান বিনীত কুমার বাবু।

মোদি সরকারের মাস্টার প্ল্যান

এক বুক আশা নিয়ে পথ চেয়ে  আছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। কারণ অসমের ধুবড়ি থেকে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহন সম্ভব হলে খরচ অনেকটাই কমবে। চাপ কমবে সড়কপথে, নিরাপদ হবে পণ্যপরিবহন। এক্ষেত্রে গভীরতার অভাবে প্রটোকল রুটগুলো ধুকছে। বর্ষায় কয়েকমাস ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি থাকলে শুকনো মৌসুমে তাদের অনেকাংশে লোকসানের মুখে পরতে হয়। সব মিলিয়ে নৌপথে পণ্যপরিবহন কমপক্ষে ২৫ তেকে ৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী।  যার সুফলভোগী হবেন উভয় দেশের মানুষ।

নৌপ্রটোকল রুটগুলো ব্যবহার করে কমপক্ষে ২ হাজার মেট্রিকটন পণ্য নিয়ে কোন জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী করতে ‘জাতীয় মাস্টার প্ল্যান’ করা হয়েছে। যার বাস্তবায়ন করতে ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। এটি বাস্তবায়ন হলে পটনা থেকে পাণ্ডু পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ জলপথগুলো দিয়ে বারোমাসি পণ্যপরিবহন হবে সময় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব।