ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একাত্তরেই বাংলার মানুষ তাদের দেখে নিয়েছে: তারেক রহমান সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস সেনাবাহিনীর নির্বাচিত হলে ‘নবিজির ন্যায়ের’ ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার তারেক রহমানের যে কারণে  সিলেট থেকেই বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে পুণ্যভূমি সিলেট থেকে নির্বাচনী মাঠে নামলেন তারেক রহমান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নতুন অভিযাত্রা বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ইস্যুতে আজ কী সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি? ২২ জানুয়ারী মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৫৪তম বার্ষিকী

ENVIRONMENT : পরিবেশ রক্ষায় সঙ্গী যারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৩২৩ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করে সাড়া জাগিয়েছেন গ্রেটা থানবার্গ। এই লড়াইয়ে তিনি একা নন, আরও বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীও লড়ে যাচ্ছেন গত কয়েক বছর ধরেই। তাদের নিয়েই এই আয়োজন।

 

হেলেনা গুয়েলিঙ্গা

তেলসমৃদ্ধ সারাইয়াকুর অবস্থান অ্যামাজান বনের ইকুয়েডর অংশে। সেখানে বহু বছর ধরে তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। অপরদিকে তেল ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বন ও পরিবেশকে বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছে সেখানকার অধিবাসীরা।

এমনই এক লড়াকু পরিবারে জন্ম হেলেনার। ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন পরিবেশ বাঁচাতে তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চাচা-ফুপুদের অসম যুদ্ধ। পরিবেশ রক্ষার লড়াইটা হেলেনা পেয়েছে বংশ পরম্পরায়।

জীবনের একটা লম্বা সময় কাটিয়েছেন ইউরোপে। তারপরও সতের বছরের মেয়ে হেলেনা নিজের শেকড় ভোলেননি। কাজ করে যাচ্ছেন, অ্যামাজানের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায়। অ্যামাজানের কোথায় কী হচ্ছে, সেসব খবরাখবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরছেন তিনি।

টেকানাঙ

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুতে জন্ম একুশ বছর বয়সী পরিবেশ আন্দোলন কর্মী টেকানাঙের। গবেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ ফিট বাড়লেই সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাবে টুভালু।

শুধু তাই নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শক্তিশালী ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগও বেড়ে গেছে টুভালুতে। তাই নিজ দেশ ও জাতির পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে টেকানাঙ।

তার আশা একদিন জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে। কমে আসবে পৃথিবী জুড়ে কার্বন নিঃসরণও।

বার্টাইন লাকজন

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের আঠারো বছর বয়সী মেয়ে বার্টাইনের লড়াইটা কিছুটা ভিন্ন। ইয়ুথ লিডারশিপ ক্যাম্পের সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তনের লড়াইয়ের নেতৃত্ব তৈরির কাজ করছেন তিনি। ক্যাম্পটিতে প্রথমেই নেতৃত্বের মৌলিক দিকগুলো শেখানো হয়। এরপর শেখানো হয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে।

তারপর জলবায়ু পরিবর্তনের উপর একটি সংলাপ আয়োজন করা হয় যেখানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে তরুণ পরিবেশ যোদ্ধারা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে তাদের উদ্ভাবিত ধারণাগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের এই লড়াইয়ে বার্টাইনের হাতেখড়ি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। স্কুলের জন্য জলবায়ু নিয়ে একটি কবিতা লেখার সময় বার্টাইন পরিবেশের ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। এই চিন্তা-ভাবনাগুলোই পরে তাঁকে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে নামতে অনুপ্রাণিত করে।

বীর কুমার মাত্তাবাদুল 

ভারতীয় মহাসাগরের মরিশাস দ্বীপের বাসিন্দা বীর কুমার গত চার বছর ধরে সমুদ্র, সমুদ্রের তীর এবং নদী পরিষ্কারে কাজ করছেন।  বীর কুমারের মতে সচেতনতার অভাবই পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। তাই তাঁর বিশ্বাস সঠিক শিক্ষা এবং মানসিকতার পরিবর্তনই পারে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে।

একুশ বছর বয়সী এই তরুণ চান পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার মাধ্যমে তরুণদের সামনে নিজের কাজ তুলে ধরে তাদের অনুপ্রাণিত করতে। এই ব্যাপারে তাঁর আদর্শ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এবং তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা, কারণ তারা দুজনই তারুণ্যের শক্তিতে বিশ্বাস করেন।

বিরাজলক্ষী ঘোষ

 ভারতের নাগরিক ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং পরিবেশ সংগঠক। উৎসব-পার্বনে অযথা ব্যয় এবং পরিবেশ বিনষ্ট হয় এমন কোন রঙ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, বাসযোগ্য অঙ্গন গড়ে তোলা এবং নিজের সন্তানকে একটিমাত্র গাছ লাগানোর শিক্ষা দেওয়া, বছরে অন্তত এক-দুই বার সন্তানকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়া, তাদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে প্রচারণা অভিযান মূলত তার কাজ। এছাড়া বিভিন্ন দিবসে গাছের চারা বিতরণ করা এবং সুযোগ পেলেই পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার কাজটি করছেন এই শিক্ষাবিদ।

এই ভারতীয় শিক্ষাবিদ মনে করেন, পরিবেশ দূষণ এবং রক্ষা করার কোন সীমারেখা নেই। গোটা দুনিয়া জুড়েই এর আন্দোলন আরও জোড়ালো হওয়া উচিত। মৌসুমী সম্মেলন এবং উৎসব নয়, মানুষকে জাগিয়ে তুলতে, মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে প্রতিটি মুহূর্ত পারস্পারিক আলোচনা চলতে পারে। আজ সাগর থেকে নদী, ফসলের মাঠ থেকে বাড়ির আঙ্গিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ হারিয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলো আমরা দেখছি। যা খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়। সিম্মিলিত উদ্যোগ ও মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজটি আরও দ্রুত করতে হবে।

লিসা ঝিৎকোভা

বেলারুশের মেয়ে লিসা ঝিৎকোভা এখন আগের মত কেনাকাটা করেন না। প্রয়োজন ছাড়া কোন ধরণের কেনাকাটা না করতে বন্ধুদেরও উৎসাহিত করেন। কারণ অহেতুক কেনাকাটার মানেই হচ্ছে কারখানাগুলোর জ্বালানীর চাহিদা বাড়া এবং জ্বালানীর চাহিদা বাড়লেই বাড়বে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও।

লিসার চেষ্টায় তাঁর পরিচিতদের একটা বড় অংশ এখন ইউরোপের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর নিত্য-নতুন কাপড়ের পেছনে ছোটা বন্ধ করেছেন। পাশাপাশি লিসা নিজেকে পরিণত করেছেন নিরামিষভোজী হিসেবে। বেলারুশের এই একুশ বছরের তরুণী বিশ্বাস করেন সবাই যদি নিজের চাহিদাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ENVIRONMENT : পরিবেশ রক্ষায় সঙ্গী যারা

আপডেট সময় : ০৮:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করে সাড়া জাগিয়েছেন গ্রেটা থানবার্গ। এই লড়াইয়ে তিনি একা নন, আরও বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীও লড়ে যাচ্ছেন গত কয়েক বছর ধরেই। তাদের নিয়েই এই আয়োজন।

 

হেলেনা গুয়েলিঙ্গা

তেলসমৃদ্ধ সারাইয়াকুর অবস্থান অ্যামাজান বনের ইকুয়েডর অংশে। সেখানে বহু বছর ধরে তেল উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘাঁটি গাড়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। অপরদিকে তেল ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বন ও পরিবেশকে বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছে সেখানকার অধিবাসীরা।

এমনই এক লড়াকু পরিবারে জন্ম হেলেনার। ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন পরিবেশ বাঁচাতে তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চাচা-ফুপুদের অসম যুদ্ধ। পরিবেশ রক্ষার লড়াইটা হেলেনা পেয়েছে বংশ পরম্পরায়।

জীবনের একটা লম্বা সময় কাটিয়েছেন ইউরোপে। তারপরও সতের বছরের মেয়ে হেলেনা নিজের শেকড় ভোলেননি। কাজ করে যাচ্ছেন, অ্যামাজানের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায়। অ্যামাজানের কোথায় কী হচ্ছে, সেসব খবরাখবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরছেন তিনি।

টেকানাঙ

প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র টুভালুতে জন্ম একুশ বছর বয়সী পরিবেশ আন্দোলন কর্মী টেকানাঙের। গবেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ ফিট বাড়লেই সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাবে টুভালু।

শুধু তাই নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শক্তিশালী ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগও বেড়ে গেছে টুভালুতে। তাই নিজ দেশ ও জাতির পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে টেকানাঙ।

তার আশা একদিন জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে। কমে আসবে পৃথিবী জুড়ে কার্বন নিঃসরণও।

বার্টাইন লাকজন

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের আঠারো বছর বয়সী মেয়ে বার্টাইনের লড়াইটা কিছুটা ভিন্ন। ইয়ুথ লিডারশিপ ক্যাম্পের সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তনের লড়াইয়ের নেতৃত্ব তৈরির কাজ করছেন তিনি। ক্যাম্পটিতে প্রথমেই নেতৃত্বের মৌলিক দিকগুলো শেখানো হয়। এরপর শেখানো হয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে।

তারপর জলবায়ু পরিবর্তনের উপর একটি সংলাপ আয়োজন করা হয় যেখানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে তরুণ পরিবেশ যোদ্ধারা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে তাদের উদ্ভাবিত ধারণাগুলো সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা করে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের এই লড়াইয়ে বার্টাইনের হাতেখড়ি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। স্কুলের জন্য জলবায়ু নিয়ে একটি কবিতা লেখার সময় বার্টাইন পরিবেশের ব্যাপারে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। এই চিন্তা-ভাবনাগুলোই পরে তাঁকে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে নামতে অনুপ্রাণিত করে।

বীর কুমার মাত্তাবাদুল 

ভারতীয় মহাসাগরের মরিশাস দ্বীপের বাসিন্দা বীর কুমার গত চার বছর ধরে সমুদ্র, সমুদ্রের তীর এবং নদী পরিষ্কারে কাজ করছেন।  বীর কুমারের মতে সচেতনতার অভাবই পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ। তাই তাঁর বিশ্বাস সঠিক শিক্ষা এবং মানসিকতার পরিবর্তনই পারে জলবায়ু পরিবর্তন থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে।

একুশ বছর বয়সী এই তরুণ চান পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার মাধ্যমে তরুণদের সামনে নিজের কাজ তুলে ধরে তাদের অনুপ্রাণিত করতে। এই ব্যাপারে তাঁর আদর্শ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এবং তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা, কারণ তারা দুজনই তারুণ্যের শক্তিতে বিশ্বাস করেন।

বিরাজলক্ষী ঘোষ

 ভারতের নাগরিক ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ একজন শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং পরিবেশ সংগঠক। উৎসব-পার্বনে অযথা ব্যয় এবং পরিবেশ বিনষ্ট হয় এমন কোন রঙ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, বাসযোগ্য অঙ্গন গড়ে তোলা এবং নিজের সন্তানকে একটিমাত্র গাছ লাগানোর শিক্ষা দেওয়া, বছরে অন্তত এক-দুই বার সন্তানকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়া, তাদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে প্রচারণা অভিযান মূলত তার কাজ। এছাড়া বিভিন্ন দিবসে গাছের চারা বিতরণ করা এবং সুযোগ পেলেই পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার কাজটি করছেন এই শিক্ষাবিদ।

এই ভারতীয় শিক্ষাবিদ মনে করেন, পরিবেশ দূষণ এবং রক্ষা করার কোন সীমারেখা নেই। গোটা দুনিয়া জুড়েই এর আন্দোলন আরও জোড়ালো হওয়া উচিত। মৌসুমী সম্মেলন এবং উৎসব নয়, মানুষকে জাগিয়ে তুলতে, মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে প্রতিটি মুহূর্ত পারস্পারিক আলোচনা চলতে পারে। আজ সাগর থেকে নদী, ফসলের মাঠ থেকে বাড়ির আঙ্গিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ হারিয়ে যাওয়া দৃশ্যগুলো আমরা দেখছি। যা খুব একটা ভালো লক্ষণ নয়। সিম্মিলিত উদ্যোগ ও মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজটি আরও দ্রুত করতে হবে।

লিসা ঝিৎকোভা

বেলারুশের মেয়ে লিসা ঝিৎকোভা এখন আগের মত কেনাকাটা করেন না। প্রয়োজন ছাড়া কোন ধরণের কেনাকাটা না করতে বন্ধুদেরও উৎসাহিত করেন। কারণ অহেতুক কেনাকাটার মানেই হচ্ছে কারখানাগুলোর জ্বালানীর চাহিদা বাড়া এবং জ্বালানীর চাহিদা বাড়লেই বাড়বে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও।

লিসার চেষ্টায় তাঁর পরিচিতদের একটা বড় অংশ এখন ইউরোপের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর নিত্য-নতুন কাপড়ের পেছনে ছোটা বন্ধ করেছেন। পাশাপাশি লিসা নিজেকে পরিণত করেছেন নিরামিষভোজী হিসেবে। বেলারুশের এই একুশ বছরের তরুণী বিশ্বাস করেন সবাই যদি নিজের চাহিদাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।