বিমান বহরে আসছে ১০ নতুন উড়োজাহাজ, চূড়ান্ত চুক্তি আজ
- আপডেট সময় : ১১:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
উড়োজাহাজ বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি আজ বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সই করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ‘Spreading Our Wings Together’ শিরোনামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে থাকছে দুই ধরনের মডেল এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মোট ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। এর মধ্যে, ৪টি এ৩৫০-৯০০ (A350-900) প্রশস্তদেহ বা ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ৬টি এ৩২১নিও (A321neo) ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ।
নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমানের বর্তমান বহরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে যাত্রী পরিবহন আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করবে।
বহরের নতুন উড়োজাহাজগুলো রুটের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো মূলত দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালনা করা হবে। দীর্ঘ দূরত্বে বেশি যাত্রী পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে এই উড়োজাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, এ৩২১নিও উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও মাঝারি পাল্লার রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তুলনামূলক ছোট ও মাঝারি দূরত্বের রুটে এসব উড়োজাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এয়ারবাসের কাছ থেকে কেনার জন্য নির্ধারিত উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে বহরে যুক্ত হবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রক্রিয়া ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।
অর্থাৎ, এটি তাৎক্ষণিক বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিমানের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন, নতুন রুট চালু এবং বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এরই মধ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে দুই দফায় ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে।
এর সঙ্গে এয়ারবাসের নতুন ১০টি উড়োজাহাজের চুক্তি যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় বিমানের মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ পাবে।
এটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিমানের বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে শুধু উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়বে না; একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে বাংলাদেশের সক্ষমতাও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে: দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে আরও কার্যকরভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে। পুরোনো উড়োজাহাজ ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে।
নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা বাড়বে।
আধুনিক উড়োজাহাজ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পথ তৈরি হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ শুধু একটি বিমান সংস্থার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বিষয়টিও জড়িত।
বিমান বহরে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসী যাত্রী পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বোয়িংয়ের ২৫টি এবং এয়ারবাসের ১০টিসহ মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে।
চারটি এ৩৫০-৯০০ দিয়ে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক বাজারে এবং ছয়টি এ৩২১নিও দিয়ে আঞ্চলিক ও মাঝারি পাল্লার বাজারে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিমানের রুট নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এয়ারবাসের সঙ্গে আজকের চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহর আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং দেশের এভিয়েশন খাতকে আরও শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




















